যে কারনে সন্তান প্রতিপালনে ‘স্মার্ট প্যারেন্টিং’ কালেকশনটি আপনার সংগ্রহে থাকা উচিৎ!

স্মার্ট প্যারেন্টিং

সন্তান জন্মদান জীবনের সবচেয়ে সুখের ঘটনা হলেও তা একইসাথে নিয়ে আসে জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জও। আর প্রথম সন্তানের সময় এ চ্যালেঞ্জ বাবা-মা দুজনের জন্যই বেশ কঠিন। এজন্য রকমারি কালেকশনে থাকছে স্মার্ট প্যারেন্টিং এর উপর লেখা দুটো বই, যাতে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে কিছু দিক নির্দেশনা দেওয়া আছে। এর মাধ্যমে আপনার সন্তান লালন-পালন খুব সহজ হয়ে যাবে, তা নয়। কিন্তু ব্যাপারটা নিয়ে কিছুটা হলেও হিসেব-নিকেশ করা সম্ভব হবে। 

এই কালেকশনে দুটো বই রয়েছে। স্মার্ট প্যারেন্টিং উইথ মুহাম্মাদ (সা.) এবং শিশুর মননে ঈমান। দুটো বইয়েই লেখকেরা ইসলাম ধর্মের আলোকে সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রেই চমৎকার, যুগোপযোগী ও কার্যকর কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। 

স্মার্ট প্যারেন্টিং উইথ মুহাম্মাদ (সা.)
স্মার্ট প্যারেন্টিং উইথ মুহাম্মাদ (সা.)

BUY NOW

স্মার্ট প্যারেন্টিং উইথ মুহাম্মাদ (সা.)

স্মার্ট প্যারেন্টিং উইথ মুহাম্মাদ (সা.) বইটি লিখেছেন মাসুদ শরীফ। এ বইয়ে আমরা জানতে পারব মহানবীর (সা.) আদর্শের ভিত্তিতে সন্তান লালন-পালনের কিছু নববী পদ্ধতি, যা কি না অনেক দ্বিধা ও সংশয়ের সমাধা করতে পারবে। 

মহানবী (সা.) শুধু পিতা হিসেবেই নয়, সমাজপিতা হিসেবেও শিশুদের জীবন ও মননে গভীর ছাপ ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন। কারণ তিনি ভালো করেই জানতেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। নবীজি (সা.) জীবনে অনেক ভূমিকা পালন করেছেন; পারিবারিক সীমানা থেকে সমাজের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি সফলতার সাথেই নিজের উপর আরোপিত দায়িত্বগুলো পালন করেছেন। 

এ বইয়ে মূলত তাঁর পিতাসুলভ দিকগুলোর উপর আলোকপাত করা হয়েছে। পরিবারের এবং আশেপাশের শিশুদের শৈশব ও কৈশোরের সময়টাতে তাদের পরিচর্যা, তাদের মনে ইসলামি নিয়ম-কানুনের বীজ বপন, জ্ঞানের সাথে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেওয়া, নৈতিকতার পথে তাদেরকে ধাবিত করা, ভবিষ্যতের নেতা হয়ে উঠতে অনুপ্রেরণা- এর সবটা নিয়েই বিশদ করে আলোচনা রয়েছে এই বইটিতে। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরদের সামনে যে জীবনের নতুন মোড় আসে, সেই চ্যালেঞ্জটি তিনি কীভাবে মোকাবেলা করতে শিখিয়েছিলেন- সে দিকটি। এই বয়সে সবাই প্রচণ্ড দ্বিধাগ্রস্ত থাকে, নিজের মধ্যে ঘটতে থাকা পরিবর্তনগুলো নিয়ে সংকোচে ভোগে, এমনকি বাবা-মায়ের সাথেও তারা মন খুলে কথা বলতে পারে না। এ থেকেই পরিবারের সাথে কিশোরদের একটা দূরত্ব তৈরি হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ফটিক গল্পে বলা হয়েছিল, “তেরো-চৌদ্দ বৎসরের ছেলের মতো পৃথিবীতে এমন বালাই আর নাই” বয়ঃসন্ধিকালের এই দ্বিধা ও সংকোচকে আশ্রয় করেই বিশ্বকবি এ উক্তিটি করেছিলেন। নবীজী (সা.) এ বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং এ বইয়ে আমরা জানতে পারব তিনি ঠিক কীভাবে এ সময়টাতে পরিবারের সাথে শিশুর সফল যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে আরও জানতে  যে বইগুলো  আপনার সংগ্রহের তালিকায় থাকতে পারে:

১) বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ

২) বিশ্বনবী (হযরত রসূল (স:) এর জীবনী)

৩) সীরাত বিশ্বকোষ (১-১১ খণ্ড)

শিশুর মননে ঈমান
শিশুর মননে ঈমান

BUY NOW

শিশুর মননে ঈমান

এই কালেকশনের বই অপর বই, অর্থাৎ ‘শিশুর মননে ঈমান’ লিখেছেন একজন চিকিৎসক; ড. আইশা হামদান। 

শিশুরা নিজের পরিবার থেকেই প্রথম জীবনের পাঠ নেয়। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা যেভাবে জীবনকে যাপন করেন, জীবনে যেধরনের শিক্ষার চর্চা করেন, পরিবারের কনিষ্ঠরাও তাদেরকে দেখে তেমনটাই শেখে এবং অনুকরণের চেষ্টা করে। শিশুদের এই অনুকরণের স্বভাবের জন্যই জ্যেষ্ঠদের উচিত তাদের সামনে আদর্শ জীবনযাপন করা। 

ইসলাম ধর্মের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে ঈমান বা বিশ্বাস। এ বিশ্বাস কল্যাণের প্রতি, পরম স্রষ্টার অফুরান করুণার প্রতি এবং সর্বাপেক্ষা বেশি নৈতিকতার প্রতি। নৈতিক শিক্ষার মধ্যে লুকিয়ে থাকে ধর্মের মূলমন্ত্র, তাই প্রথমেই ধর্মের প্রতি জোর না দিয়ে শিশুকে নৈতিক করে তুলতে হবে, এতে করে সে নিজেই ধর্মের পথে আসতে চাইবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তার মনে ধর্মের প্রতি ও স্রষ্টার প্রতি ঈমান সৃষ্টি হবে। 

আগামী দিনের ভবিষ্যত নাগরিকরা যখন জীবনের শুরুর দিকে আছে, তখন তাদেরকে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়ে সঠিক গন্তব্যের প্রতি এগিয়ে দেওয়া শুধু বাবা-মা নয়, পরিবারের ও সমাজের প্রতিটি সদস্যের কর্তব্য। ইসলাম ধর্মের শান্তির বাণী একটু একটু করে একটি শিশুর মননে স্থাপন করতে পারলে জ্ঞান-বুদ্ধি হবার পর সে নিজেই একসময় বুঝতে পারবে কোনটি তার এবং বৃহত্তর অর্থে সর্বাত্মক সমাজের জন্য ঠিক এবং কোনটি ভুল।

লেখক এ বইটিতে শিশুরা যেন কিছু বুঝে না ওঠার আগেই আঁধারে না হারিয়ে যায়, গন্তব্যের হদিস পাবার আগেই যেন পথ না ভুলে যায়- সেক্ষেত্রে জোর দিয়েছেন। প্রসঙ্গত দিগ্বিজয়ী নেপোলিয়ন বোনাপার্টের কথা বলা যায়। তিনি বলেছিলেন, “আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেব”। তাঁর এই উক্তির মধ্যেই নিহিত আছে একটি শিশুর প্রথম জীবনের শিক্ষার মাহাত্ম্য। এ শিক্ষা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ভিত্তিক হতে পারে, আবার সর্বাত্মকও হতে পারে। এ শিক্ষা ধর্মীয় হতে পারে, আবার জীবন থেকে নেওয়া ব্যবহারিক জ্ঞানও হতে পারে। শিক্ষার ধরন এখানে মূল বিষয় নয়, শিক্ষার মধ্যকার গুরুত্বটিই বেশি তাৎপর্য রাখে। যদিও এ বইয়ে ইসলাম ধর্মের একটি অঙ্গ, তথা ঈমানের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে, তবু এটি শিশুর মননে সর্বাত্মক জ্ঞানের বীজ বপনের বিষয়কেও এড়িয়ে যায় না। 

ঈমান সম্পর্কে আরও জানতে সংগ্রহ করে নিন রকমারির এই বইগুলো:

১) ইসলামী আকীদা

২) ছোটদের ঈমান সিরিজ

৩) আপনার প্রয়োজন আল্লাহ কে বলুন

 

ব্লগটি লিখেছেন অনিন্দিতা চৌধুরী

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Published 05 Dec 2018
Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh
  0      0
 

comments (0)

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png