নারী সহিংসতা ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে একটি নীরব প্রতিবাদের নাম ‘লিপস্টিক’

লিপস্টিক

লিপস্টিক; সব নারীদের জীবনে ঘটে যাওয়া কোন না কোন গল্প; একজন রাত্রির গল্প;একজন অপরাজিতার গল্প; একজন বহ্নির গল্প;একজন তারকা স্নিগ্ধা রহমানের অভিমানের গল্প;  নারী শক্তির গল্প ; নারী সংগ্রামের গল্প নারীদের গল্প; শুধু নারীদের গল্প নয়, নারী সত্তাকে সম্মান জানানো পুরুষ নিরব ও গহীনেরও গল্প।

যেসব নরপশু পুরুষদের কারণে নারীরা বিবস্ত্র,আবর্জনায় রূপান্তরিত হয়,সেইসব পুরুষদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের গল্প হোক লিপস্টিক আর যে পুরুষরা নারীদের সম্মান দিয়ে মাথায় তুলে রাখেন,সেইসব পুরুষদেরও সম্মানের গল্প হোক লিপস্টিক….
লিপস্টিক হোক আত্মপ্রত্যয়ের গল্প, লিপস্টিক হোক দৃপ্ত উচ্চারণের গল্প ।

বিবর্ণ ঠোঁট নয়,লিপস্টিক রাঙানো রঙীন ঠোঁটই হোক নারীদের অদম্য দৃপ্ততার উচ্চারণ। নারী সহিংসতা ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে একটি নীরব প্রতিবাদের নাম লিপস্টিক ।

“কেউ নারী হয়ে জন্মায় না,বরং নারী হয়ে উঠে”- নারী স্বাধীনতা মতবাদের আইনস্টাইন সিমোন দ্য বোভোয়ারের উক্তিটি লিপস্টিক উপন্যাসটির মূল বিষয়বস্তুকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। একজন প্রতিবাদী নারী হয়ে উঠার পেছনে যে সঙ্গত কারণগুলো- শ্রেণী সমাজ বৈষম্যভেদে নারীরা যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিসরে লাঞ্ছিত,অপমানিত ও লালসার শিকার হচ্ছে সেই চিত্রগুলোই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি বিভিন্ন চরিত্রের মধ্য দিয়ে।চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া শিশু,নাবালিকা,কিশোরী,তরুনী,নারীদের প্রতি সহিংসতা,লাঞ্ছনা,ধর্ষণের মত ঘৃন্য ঘটনাগুলো আমাকেও একজন মানুষ হিসেবে দারুন আহত ও লজ্জিত করেছে। আমি সব পুরুষকে ঘেন্না ও দায়ী করছি না। যারা নরপিশাচ,কামনার্ত বোধহীন পশু,যাদেরকে পুরুষও বলা যায় না,তাদেরকে ঘেন্না করেছি।

লিপস্টিক উপন্যাস টি আমি প্রথমবারের মত প্রথম পুরুষে লিখেছি। এটা আমার গল্প নয়। এই আমি,আমি নই। এই আমি-আমি,তুমি,আপনি,সব নারী। লিপস্টিক সব নারীদের জীবনে ঘটে যাওয়া কোন না কোন গল্প।

লাঞ্ছনা,লালসার শিকারের আতঙ্কে নারী বিবর্ণ থাকবে কেন?প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্বাভাবিক নিয়মে নারী সুন্দর,রঙীন থাকবে ও চারপাশকে সুন্দর রাখবে নারী ও পুরুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্যের ভারসাম্যে। বিবর্ণ ঠোঁট নয়,লিপস্টিক রাঙানো রঙীন ঠোঁটেই হোক নারীদের অদম্য দৃপ্ততার উচ্চারণ। নারী সহিংসতা ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে একটি নীরব প্রতিবাদের নাম লিপস্টিক ।

লিপস্টিক

BUY NOW

ছেলে সন্তান হিসেবে সেই দ্বায়িত্বে কোথাও কমতি করে নি গহীন। বাবার মৃত্যুর পর সমাজের কঠিন বিধিনিষেধকে আঙুল দেখিয়ে তার মায়ের রঙিন জীবনকে বিবর্ণ করতে দেয়নি সে। আশেপাশের আত্মীয়স্বজনরাই উঠে পড়ে লেগেছিল বাবার মৃত্যুর সাথে সাথে তার মাকে বিধবার সাদা শাড়ীতে জড়িয়ে দিতে। গহীন,সেই পুরুষ,যে পুরুষশাসিত সমাজের তৈরি করা বিধিনিষেধের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল,একজন নারীর জীবনকে এভাবে তার ভালোবাসার মানুষের মৃত্যুর সাথে সাথে জোরপূর্বক মেরে ফেলার কোনো অধিকার এই তথাকথিত সমাজের নেই। গহীন শক্ত হাতে সেদিন তার মায়ের হাত ধরেছিল সমাজের স্রোতের বিপরীতে। মাকে বিবর্ণ দেখতে চায়নি সে।
মা আজও কী অদ্ভুত ভালোলাগার চাহনি নিয়ে বাবার কথা ভাবে,এটা ভাবতেই ভালো লাগে গহীনের।
“বুবান।”
“হুম,মা।”
“মেয়েটির নাম বল।”
“কোন মেয়েটি?”
“যে মেয়েটি এখন তোর চোখের তারায় বসে আছে।”
“উফ্,কী যে বল না মা!”
“বল না।”
“আহা! এখনও কিছু হয়নি মা। মাত্র একদিন দেখলাম। কোথায় থাকে,কী তার পরিচয়,কিছুই জানি না।”
গহীনের কথায় লজ্জা ছড়িয়ে পড়ছে। চোখে মুখে তার ছাপ স্পষ্ট । প্রেমে পড়লে বুঝি মানুষের চেহারাটা এমনই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায় যে চেহারাটা ভেতরের টগবগে অনুভূতিটা লুকাতে পারে না। গহীন এমন সহজে প্রেমে পড়া ধরনের ছেলে না। তবে কালো মেয়েটার মধ্যে কি এমন জাদু ছিল যেটা তাকে দুর্নিবার আকর্ষণে মুগ্ধ করল।
“আচ্ছা মা,তোমার পুত্রবধূ হিসেবে যদি কোন কালো মেয়েকে নিয়ে আসি তাহলে কি তুমি মন খারাপ করবে?”
“বুবান,এমন বর্ণবৈষম্যবাদী মানুষের মত কথা বলিস না। আমি তোকে নিশ্চয়ই এমন মানসিকতায় গড়ে তুলিনি। ভালোলাগা,ভালোবাসার সাথে মানুষের মন,ব্যক্তিত্ব জড়িত। বর্ণ,ধর্ম,জাত নয়।”
“জানি মা।”
“তাহলে এমন বললি কেন? আমি জানি আমার বুবানের বউ হয়ে যে নারী আসবে সে পরম সৌভাগ্যবতী হবে। আমি তোকে চিনি তো। আমি তোকে যেভাবে বড় করতে চেয়েছি তারচেয়েও তুই অনেক বড় হয়েছিস্। যে পুরুষ তার মাকে শ্রদ্ধা করে,ভালোবাসে,সে অন্য কোনো নারীকে অসম্মান করতে শিখবে না”

ডায়াল করতেই ফোনের ওই প্রান্ত থেকে ভরাট একটা কন্ঠস্বর গমগম করে উঠল। ধক্ করে উঠল যেন বুকটা। এত হার্টবিট মিস্ হয় কেন বুঝি না। মানুষটা কবিতা আবৃত্তি করলে ভালো হত। মন্ত্রমুগ্ধ করা কন্ঠস্বর। থতমত ভাবটা কাটিয়ে কিছুটা ধমকের সুরে বললাম,
“নিজেকে খুব চালাক মনে করেছেন?”
ওপাশটায় অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছে গমগম করা কন্ঠটা।
“আপনি ধাঁধাটা বের করতে পারবেন মনে করেই দিয়েছি। বুদ্ধিমতী মনে হয়েছে আপনাকে দেখে।”
“এত রহস্য করার কী দরকার ছিল? রহস্য করতে ভালোবাসেন বুঝি?”
“রহস্যটাকেই ভালোবাসি। রহস্য ভালোবাসি দেখেই আমরা সবাই বেঁচে আছি। কারণ পৃথিবীটাই রহস্যময়।”
“বুঝেছি আপনার সাথে কথায় পারব না।”
“তবে আপনি এই রহস্য উদ্ধার করতে না পারলেও আপনার সাথে আমার দেখা হতোই।”
“কীভাবে?”
“পছন্দের সব মানুষকে নাকি প্রকৃতি কমপক্ষে পাঁচবার মুখোমুখি দেখা করিয়ে দেয়।তারপর মজা দেখে।”
“আমি কি আপনার পছন্দের মানুষ?”
ওপাশটায় কোন সাড়াশব্দ পাচ্ছি না। হঠাৎ চুপ হয়ে গেল কেন বুঝলাম না।

শানারেই দেবী শানু
লেখিকা শানারেই দেবী শানু

শানারেই দেবী শানু এর বই সমূহ

প্রিয় রাত্রি,
সমাজ কেন জোর করে বিবর্ণ করে রাখবে নারীদের ঠোঁট?  রঙীন ঠোঁটেই উচ্চারিত হোক বিবেক নাড়ানো প্রতিবাদী শব্দ…

ধর্ষিতার ব্যথার গোঙানি কেউ অনুভব করতে পারবে না,ধর্ষিতা ছাড়া। সমাজে গিজগিজ করা পশুগুলোর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। ভালোমানুষী মুখোশের আড়ালে এদের চেনা যায় না। সমাজের বিবেককে জাগ্রত করতে জোরালো চিৎকার দরকার এখন ধর্ষণের বিরুদ্ধে। নতুবা নীরবে নিভৃতে এই পশুগুলোই চারপাশে আমাদের শিশুকন্যা, কিশোরী,তরুনীর দেহ শকুনের মত ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে। দেখো কেউ রেহাই পাচ্ছেনা, এমনকি সাত মাসের মেয়ে শিশুটিও ধর্ষিত হচ্ছে আত্মীয়ের পরিচয়ধারী কোন পুরুষের হাতে। আমি শুধু আমার গোপন ব্যথার গল্পটা বলে গেলাম। আমিও পারিনি, আমি শুধু নীরব প্রতিশোধ নিয়েছি একটা ধর্ষকের পশুত্বকে মেরে ফেলতে। এরকম অজস্র নরপশু আশেপাশেই ওঁত পেতে আছে। চরম সময় এসেছে সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়ার। আগামী প্রজন্মের তোমাদের রঙীন ঠোঁট থেকেই উচ্চারিত হোক এই পশুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শব্দ। দ্বায়িত্ব দিয়ে গেলাম।

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Published 05 Dec 2018
Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh
  2      0
 

comments (0)

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png