ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিংঃ জানতে হবে যা কিছু!

10

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন বুকস্টোর রকমারি ডট কম এর আয়োজনে চলেছে সপ্তাহব্যাপী ক্যারিয়ার কার্নিভাল। ক্যারিয়ার কার্নিভালের অন্যতম আয়োজন ক্যারিয়ার ক্যাফে লাইভের একুশতম পর্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপার স্টার গ্রুপের নমিনেটেড ডিরেক্টর মো. শফিকুল আলম (এলএলবি, এসিএস, এফসিএমএ, এফসিএ) । শিক্ষাজীবনে বহুবার ট্র্যাক পরিবর্তন করে তিনি আজকের এই অবস্থানে এসেছেন। পর্বটির সঞ্চালনায় ছিলেন রবির ভাইস প্রেসিডেন্ট জাভেদ পারভেজ। পর্বটিতে ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং এর সুযোগ-সুবিধা সহ কিভাবে এই পেশাতে উন্নতি করা যায় সেসব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

 ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং এর বর্তমান অবস্থা

ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং এর মানুষদের নিয়ে একটি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, এই পেশার মানুষগুলো কাঠখোট্টা স্বভাবের হয়ে থাকে। কারণ এসব কাজে মাথা খুবই ঠাণ্ডা রাখতে হয়। নাহলে কাজে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর একটা সামান্য ভুল থেকে কোম্পানির লাখ লাখ টাকার হিসাবে গরমিল হতে পারে। কিন্তু আসল কথা হল, হাসিখুশি স্বভাবের মানুষ না হলে তার পক্ষে ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং এ উন্নতি করা কঠিন হয়ে পরবে।

ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং এ যারা চাকরি করেন, তাদেরকে দুনিয়ার তাবৎ বিষয়াবলী সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হয়। সময়ের সাথে সাথে অনেক গতানুগতিক ধারার পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন কাজের সহজ পন্থা, বিকল্প পদ্ধতি বের হতেই আছে। এ সমস্ত বিষয় ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং এ নিযুক্ত মানুষদের জানতে হবে। নিজের জানার পরিধি বাড়াতে হবে। নিজেকে আপডেটেড রাখতে হবে। বর্তমান সময়ে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে যেকোন কাজ বেশি সময় ধরে না করে স্মার্টলি করতে হবে, যাতে কম সময়ে বেশি কাজ নির্ভুলভাবে করা যায়।

বর্তমানে দেখা যায় যে, যারা ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং এর শিক্ষার্থী ছিলেন না, তারাই বেশি এই পেশায় আসতে ইচ্ছুক হন। এমনকি তারাই বেশি সফল হন এই পেশাতে। অর্থাৎ, আগের বাঁধা-ধরা নিয়ম ভেঙ্গে এখন যেকোন বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্য ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং উন্মুক্ত। যে কেউ এই পেশায় আসতে পারবেন।

ইংরেজির একটি প্রবাদ দ্বারা এই বিষয়টি আরো ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যাবেঃ

“Jack of some trade, master of none” – আগের এই প্রবাদটি পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে – “Jack of all trade, master of some.” এর সত্যতা বাস্তবে এভাবে দেখা যায় – যখন কোন ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং এর সাথে সম্পর্কিত কোন সিদ্ধান্ত নিতে হয় অথবা কোন প্রোজেক্ট সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে হয় তখন ওইসব ব্যাপারে জ্ঞান থাকাটা খুবই জরুরি। যথেষ্ট জ্ঞান না থাকলে কোন সিদ্ধান্ত ঠিকমত নেয়া সম্ভবপর হয়ে উঠেনা।

 ফিন্যান্স, একাউন্টিং এবং টেকনোলজি

আজকাল ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং খালি যে কোন প্রোজেক্ট সম্পর্কিত জ্ঞান এর সাথে সম্পর্কিত তা কিন্তু নয়। আজকাল ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং এর সাথে আইটি সেক্টরও জড়িত। বর্তমান আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে উভয় বিষয় নিয়েই পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখতে হবে। আজকাল দেখা যাচ্ছে, যেকোন কোম্পানিতে টেকনোলজিকাল অডিট হয়। সুতরাং যদি টেকনোলজিকাল জ্ঞান না থাকে তাহলে সমস্যা কোথায় হচ্ছে তা ধরা বা বোঝা যাবে না। তাছাড়া যেকোন ব্যাপারের cost function নিয়ে জানতে হলেও এই টেকনোলজিকাল ব্যাপারে জ্ঞান থাকাটা জরুরি। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই টেকনোলজিকাল জ্ঞান খুবই কাজে দিবে কারণ এখন কাজের ধরণ অনেকটাই টেকনোলজিকাল রিলেটেড হয়ে গেছে। ডিজিটাইলেশনের ছোঁয়া লেগেছে।

এই টেকনোলজিকাল জ্ঞান কোথায় শেখা যাবে?

অনলাইনে অনেক রিসোর্স রয়েছে এ সম্পর্কিত। ইউটিউবে হাজার হাজার ভিডিও ও আছে। এখন বাকি কাজটুকু আপনার। আপনাকে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী শিখে নিতে হবে। আপনাকে জানতে হবে কিভাবে খুব সহজে এবং কম সময়ে কাজগুলো নির্ভুলভাবে করা যায়, তা সেই কাজ যতই কঠিন হোক না কেন।

 শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন যে কারোর জন্য ক্যারিয়ার গড়ার মোক্ষম সময় সে বিষয়ে তো কোন সন্দেহ নেই। তো একজন শিক্ষার্থীর এই সময় কি কি করা উচিত যা তার ক্যারিয়ারকে বহুদুর এগিয়ে নিয়ে যাবে? মো. শফিকুল আলমের মতে, ক্যারিয়ারকে অন্যদের থেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই প্রোডাক্টিভ হতে হবে। অনেক শিক্ষার্থী এসময় থেকেই টিউশনি করে থাকে। এরফলে তারা যে আয় করে তা যেমন নিজের কাজে লাগাতে পারছে, তেমনি খুব সামান্য হলেও পরিবারে তা দিতে পারছে। এই অভ্যাস কর্পোরেট জীবনে তাকে এগিয়ে রাখবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক রকমের ক্লাব রয়েছে। এসব ক্লাবের সাথে যদি যুক্ত থাকা যায়, তাহলে এসময় থেকেই অনেক স্কিল (প্রেজেন্টেশন স্কিল, কমিউনিকেশন স্কিল, নেগোসিয়েশন স্কিল, টীমওয়ার্ক, লিডারশীপ কোয়ালিটি) অর্জন করা যাবে। পাশাপাশি আপনার নেটওয়ার্কও বড় হবে, যা ভবিষ্যতে আপনার কাজে লাগবে। আর বর্তমানে যেকোনো চাকরির ক্ষেত্রেই এসব স্কিলস অনেক গুরুত্ব বহন করে। এসব কাজ যতই সামান্য হোক না কেন, তা শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী হবে। কারণ এই কাজগুলোই আপনাদের সময়ের মূল্য শিখাবে, স্মার্টলি কাজ করতে অভ্যস্ত করবে, ম্যানেজমেন্ট স্কিল শিখতে সাহায্য করবে।

এছাড়া যদি ছাত্রাবস্থায় কোন ইন্টারশিপের সুযোগ পাওয়া যায়, তবে তা লুফে নেওয়া উচিত। কারণ এসব ইন্টারশিপের দ্বারা আপনি এমন অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন যা আপনার কর্পোরেট জীবনে আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে। কিন্তু এসব করতে গিয়ে পড়ালেখার কোন ক্ষতি যাতে না হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে। কারণ একজন শিক্ষার্থীর জন্য পড়ালেখাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। তারপর বাকি সবকিছু।

মো. শফিকুল আলমের মতে, স্বপ্ন দেখতে হবে একদম অন্তর থেকে। আর এই স্বপ্নই হবে ক্যারিয়ারের উন্নতির পথপ্রদর্শক। উনি বিশ্বাস করেন যদি কেউ মনেপ্রাণে কিছু চেয়ে থাকে, তাহলে সে যত সংগ্রাম করেই হোক, তা অর্জন করবেই।

 ইন্টারভিউ বোর্ডে সময় যেসব দিকে লক্ষ করা হয়

ইন্টারভিউ বোর্ডের অল্প কিছুক্ষণ সময় আমাদের স্বপ্নের ক্যারিয়ার যেমন গড়ে দিতে পারে, তেমনি আবার ভেঙ্গেও দিতে পারে। কারণ ইন্টারভিউ বোর্ডে এমন কিছু বিষয় লক্ষ করা হয়, যা আপনি বুঝবেনও না। এরফলে আপনি না জেনেই কিছু ভুল করে ফেলতে পারেন।

 মো. শফিকুল আলম কিছু বিষয়ের উল্লেখ করেছেন যেগুলো ইন্টারভিউ বোর্ডে লক্ষ রাখা উচিতঃ

  • ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার ফার্স্ট ইম্প্রেশন অনেক গুরুত্ব বহন করে।। কারণ একটা কথায় আছে, “আগে দর্শনধারী, তারপর গুণবিচারী।“
  • আপনি আপনার উত্তর দ্বারা কতখানি বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শন করতে পারছেন তাও গুরুত্বপূর্ণ।
  • আপনার বডি ল্যাংগুয়েজ যাতে উদ্ধত না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
  • আপনি যে কাজের জন্য আবেদন করেছেন, সেই কাজের উপর আপনার জ্ঞান, ভালবাসা কতখানি সেটাও যাচাই করা হয়।
  • সবথেকে বেশি গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হয় আপনার কমিউনিকেশন স্কিল এবং লিসেনিং স্কিল। কারণ এই দুইটি স্কিল আপনার মধ্যে না থাকলে আপনার দ্বারা কোনো দলে কাজ করা সম্ভব হবে না।

 সহায়ক কিছু বই

কর্পোরেট জীবনের জন্য কিংবা জীবনে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য, বিভিন্ন স্কিলস গড়ে তোলার জন্য বাজারে হরেক রকমের বই আছে। মো. শফিকুল আলম কিছু বইয়ের নাম উল্লেখ করেছেন – “Mega living 30 days to a perfect life; Rich dad poor dad; International accounting standards 1; International accounting standards 2; অ আ ক খ” – বইগুলো তার ব্যক্তিগত পছন্দের। পাশাপাশি এই বইগুলো থেকে জীবনে সামনের দিকে অগ্রসর হতে তিনি অনেক উৎসাহও পেয়েছেন।

ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং কঠিন বিষয় বটে এবং চাকরি ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের অংশ। কিন্তু শুধু পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে বর্তমান সময়ে চাকুরীক্ষেত্রে উন্নতি সম্ভব নয়। তাই জানতে হবে কম সময়ে বেশি কাজ কিভাবে করতে হয় অর্থাৎ স্মার্টলি কাজ কিভাবে করতে হয়। পাশাপাশি টেকনোলজি নিয়ে জ্ঞান থাকা দরকার। আগের মতো সবসময় সিরিয়াস না হয়ে হতে হবে হাসিখুশি যাতে সহজে সব সমস্যা জানা ও তা সমাধানে সাহায্য করা যায়। বর্তমান এসব কিছুই ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং ক্যারিয়ারে উন্নতির সহায়ক।

ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং বিষয়ক আরও বই পেতে 

 

rokomari

rokomari

Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money.

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading