‘সেলস’ কি শুধুই সেল? নাকি আরও কিছু!!

গোলাম সামদানি ডন

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন বুকস্টোর রকমারি ডট কম এর আয়োজনে চলেছে সপ্তাহব্যাপী ক্যারিয়ার কার্নিভাল। ক্যারিয়ার কার্নিভালের অন্যতম আয়োজন ক্যারিয়ার ক্যাফে লাইভের পঞ্চম পর্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোটিভেশনাল স্পিকার, প্রফেশনাল ট্রেইনার গোলাম সামদানি ডন। পর্বটির সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা মাহমুদুল হাসান সোহাগ। আলোচনায় গোলাম সামদানি ডন তরুণ প্রজন্মের জন্য সেলসের খুঁটিনাটি বিষয় থেকে শুরু করে ডেভেলপিং এন্ড মেইনটেইনিং সেলস কালচার নিয়ে আলোচনা করেন। সে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো নিয়েই আজকের লেখাটি সাজানো হয়েছে।

সেলস একটি ক্রিয়েটিভ আর্ট

সেলস নিয়ে জানতে হলে প্রথমে আমাদের জানতে হবে সেলস কী? সহজ ভাষায় কোন পণ্য বা সেবা কেনা-বেচা হল সেলস। নিজের আইডিয়া, পণ্য বা সেবা দিয়ে অন্যকে সন্তুষ্ট করা বা বুঝানো হল সেলস। পৃথিবীতে এমন কেউ নেই, যাকে সেল করতে হয় না। অর্থাৎ, আমরা সেলসের মধ্যেই বাস করছি। কোনো না কোনোভাবে আমরা সেলসের সাথে জড়িয়ে আছি। যেমন- কোনো শিক্ষার্থী বাবা-মার কাছে যখন কোনো বিষয় নিয়ে পড়বে সেটা উপস্থাপন করছে, সেই উপস্থাপন করাটাও সেলসের মধ্যে পড়ছে। সেলস হল একটা ক্রিয়েটিভ আর্ট। একে-অপরের সাথে যোগাযোগ সবাই করতে পারে, যা সবাই পারে না তা হলো, পরস্পরের সাথে একটি সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন। কিন্তু সেলস এই সম্পর্ক স্থাপনের কাজটি করছে। তাই সেলসকে ক্রিয়েটিভ বলা হচ্ছে।

সেলস মানে শুধু পণ্য সেল নয়

মনে রাখতে হবে, সেলস মানে শুধু নিজের সেবা বা পণ্য সেল করা নয়, সেলস মানে একটি সুসম্পর্ক গঠন করাকেও বোঝায়। এজন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বলতে বোঝায় নিজের ইমোশনকে কন্ট্রোলে রেখে অন্যের ইমোশনকে বোঝার ক্ষমতা, অন্যের জায়গা থেকে কিছু উপলদ্ধি করার ক্ষমতা। এর গুরুত্ব এতোটাই বেশি যে, আগে মানুষের সফলতা আইকিউ দিয়ে যাচাই করা হলেও এখন তা করা হয় ইকিউ (ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স) দিয়ে। গোলাম সামদানি ডন এ সম্পর্কিত ড্যানিয়েল গোলম্যান লেখা “Emotional Intelligence” বইটির কথা তুলে ধরেছেন।

সেল না হলে কোম্পানি চলবে না

এখন মনে হতেই পারে সেলস নিয়ে কথা বলা কেন প্রয়োজন? সাধারণত সেলস ডিপার্টমেন্টকে মানুষজন অগ্রাহ্য করে। কিন্তু আসলে একটি কোম্পানির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিপার্টমেন্ট হল সেলস ডিপার্টমেন্ট। সেলস ডিপার্টমেন্ট না চললে কোম্পানি চলবে না। কারণ-কোনো একটি কোম্পানির আয় হয় সেলস ডিপার্টমেন্টের জন্যই। সেলস টিম ফিল্ড লেভেলে গিয়ে পণ্য বা সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। অর্থাৎ, সেলস ডিপার্টমেন্টকে গাড়ির ফুয়েলের সাথে তুলনা করা যায়।

পরিশ্রমের পাশাপাশি স্মার্টও হতে হবে

সেলসে ভালো করার জন্য গোলাম সামদানি ডন কিছু উপদেশ দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, শুধু কঠোর পরিশ্রম করলেই হবে না, এর সাথে স্মার্ট কাজ করতে হবে। কারণ সময়োপযোগী স্মার্ট কাজ করা না গেলে, দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করেও কোন লাভ হবে না। এজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আন্তরিকতা। কারণ- সেলসে যেহেতু অন্য মানুষের উপর বেশি নির্ভর করতে হয়, তাই আন্তরিক না হলে এই কাজ প্যারাদায়ক হবে। তিনি সেলসের গুরুত্ব বোঝার জন্য ৭টি ধাপ অনুসরন করতে বলেন।

১। Prospecting

একটি পণ্য বা সেবা যেমন সকলের জন্য না, তেমনি তা সকলে কিনতেও চান না। তাই প্রথমে কোন নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবার টার্গেট কাস্টমারের কথা মাথায় রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

২। Qualifying

টার্গেট কাস্টমারের চাহিদার সাথে যোগানের সামঞ্জস্য আছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। উক্ত প্রোডাক্ট কাস্টমারের চাহিদা কতটুকু পূরণ করছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৩। Need assessment

এর অর্থ কাস্টমারের আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে কোন পণ্যের কতটুকু কী পরিমাণে চাচ্ছে তা যাচাই-বাছাই করা।

৪। Sales pitch

কাস্টমারকে পণ্য বেচার আগে তাকে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে। এর ফলে কাস্টমার প্রোডাক্ট সম্পর্কে একটা ভালো ধারণাও পেয়ে যাবে।

৫। Proposal

কাস্টমারের পছন্দ ও সুবিধামতো প্রোডাক্টকে কাস্টমাইজড করে দেওয়া।

৬। Closing the deal

এটি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ উপরের সবগুলো ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ করার পরও অনেক সময় দেখা যায় যে কাস্টমার ডিল ক্যান্সেল করে দেয়। তাই কাস্টমারের সাথে ডিলটি বজায় রাখতে হলে তাকে কিছু ব্যতিক্রমী ছাড় দিতে হবে যা অন্য কোনো কম্পিটিটর দিচ্ছে না।

৭। Following up

এর অর্থ কাস্টমার প্রোডাক্ট না নিলেও তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, যাতে ভবিষ্যতে কাস্টমার কোনো প্রোডাক্ট নেয়ার সময় আপনার কথা মনে করে।

সময়ের সাথে আপডেট হতে হবে

তবে টেকনোলজির সাথে সাথে সেলসের ধরণ প্রক্রিয়াতেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। সবকিছুতে লেগেছে ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া। আগে ম্যানুয়ালি কাজ করার ফলে তা যেমন সময় সাপেক্ষ ছিল, তেমনি কষ্টকর ছিল। কারণ হিসাব-নিকাশসহ সকল কাজ ম্যানুয়ালি করার ফলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকতো। কিন্তু ডিজিটালাইজেশনের প্রভাবে সেসব কাজ এখন কম্পিউটারে করা হয়, যার জন্য ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কম। সবকিছু একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আগের চেয়ে কম সময়ে সম্পন্ন হচ্ছে। এর ফলে বর্তমানে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের গুরুত্ব বহুগুণে বেড়ে গিয়েছে। মাথায় রাখতে হবে, পরিবেশের সাথে যে যত দ্রুত নিজেকে পরিবর্তন করতে পারবে সে ততবেশি সফলতা পাবে।

বাস্তবতাকে মেনে এগোতে হবে

যেহেতু সেলসের কাজ কিছুটা হলেও প্যারাদায়ক, তাই এর পথে পথে প্রতিবন্ধকতা আসা স্বাভাবিক। তাই গোলাম সামদানি ডনের মতে যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে হবে। যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করে যেতে হবে।

মানুষকে সেলসের উপর আগ্রহী করতে মাহমুদুল হাসান সোহাগ তিনটি বইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন – Go for no, How I raised myself from failure to success in selling, The Sales Acceleration Formula – বই তিনটি তার ব্যক্তিগত পছন্দ এবং তাকে বেশ উদ্বুদ্ধ করেছে। এছাড়াও গোলাম সামদানি ডন “Think and grow rich, Ikigai, The monk who sold his Ferrari, 7 habits of highly effective people, The tipping point, The power of habit, Strengths finder, Grit: The power of passion and perseverance” বইগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন যা তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ।

সেলস বিষয়ক আরও বই পেতে 

 

rokomari

rokomari

Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money.

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading