বছর শেষে কোথায় ঘুরতে যাবেন , জানা আছে?

জনপ্রিয় পর্যটন স্থান এবং ভ্রমণ-সাহিত্য বিষয়ক আলাপ
bochor sheshe kothay ghurte jaben

সেতু অপেক্ষা করছে বছর শেষ হবার।

সেতুর মামা দেশের বাইরে থাকেন। দেখাই হয় না সেতুর সঙ্গে। অথচ স্কুলে অন্যান্য বন্ধুদের থেকে মামার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার গল্প শুনে শুধুই মন খারাপ হয় সেতুর। এই যে বিনুর মামা গত শীতে ওরা যখন গ্রামের বাড়িতে গেলো, তখন বিনুকে নিয়ে দেখিয়েছিলো রখালভুলানী চিল। ওর মামা হলো পাখি বিশারদ। অন্তত বিনুর কথা শুনে তাই মনে হয়। বিনুকে কাধে চাপিয়ে শীতের দুপুরে ওর মামা নাকি হেটে বেরিয়েছে গ্রামের রাস্তায়। তখনই ওরা দেখতে পায় একটা পাখি ওড়া থামিয়ে শূন্যেই দাঁড়িয়ে আছে। বিনু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করার পরই ওর মামা জানালো এই পাখির নাম রখালভুলানী।

টিফিন পিরিয়ডে বিনুর থেকে আরও অনেক পাখির গল্প শুনেছে সেতু। যেমন গলায় হলুদ মাফলার জড়ানো হরিয়াল পাখি, অথবা বেনেবউ কিংবা ফুলচুশি পাখি। বিনুর মামার গল্প শুনতে শুনতে সেতু আরও জানতে পারে টুনটুনি পাখি মাকড়শার জাল ঠোঁটে জড়িয়ে নিয়ে গিয়ে নিজের বাসা বানায়।

সেতুর মত অনেকেই হয়তো সারা বছর অপেক্ষা করে বছর শেষে একটু ঘুরতে যাওয়ার। শুধুমাত্র শিক্ষার্থীরাই নয়; বরং চাকরিজীবি থেকে শুরু যে কোন পেশার মানুষেরই একটু যেন অবসরের সময় হয় বছর শেষে। এই সময়টায় বাংলাদেশ ও তার আশেপাশের দেশগুলোতে শীতকাল হওয়ায় ভ্রমনের স্থান হিসেবে নির্বাচন করার সময় মাথায় রাখতে হয় শীতের কথা। এই লেখায় আমরা সেরকমই কিছু স্থানের নাম ও ভ্রমনের সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্তের পাশাপাশি পরমার্শ দেবো ভ্রমণ বিষয়ে বেশ কিছু বইয়ের। চলুন শুরু করা যাক।

১. সেন্ট মার্টিন

বছর শেষে কোথায় ঘুরতে যাবেন ? এই প্রশ্নে বেশিরভাগ মানুষই একেবারে মুখস্থ উত্তর দিয়ে দেন- সেন্টমার্টিন। তাদের আগে থেকেই ঠিক করা থাকে সবকিছু। আর যারা একেবারেই জানেন না দ্বীপটি সম্পর্কে? তাদের বলি- দ্বীপটি কেবল দ্বীপ নয় আর, একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন মৌসুমে এখানে প্রতিদিন ৫টি লঞ্চ বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড হতে আসা যাওয়া করে। সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে বর্তমানে বেশ কয়েকটি ভালো আবাসিক হোটেল রয়েছে। একটি সরকারি ডাকবাংলো আছে। সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। ইতিহাসের দিকে একটু নজর দিলে আমরা দেখি- প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছর আগে এখানে লোক বসতি শুরু হয়। বর্তমানে এখানে সাত হাজারেরও বেশি লোক বসবাস করে। দ্বীপের লোকসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানকার বাসিন্দাদের প্রধান পেশা মাছ ধরা। পর্যটক ও হোটেল ব্যবসায়ীরাই প্রধানত তাদের কাছ থেকে মাছ কেনেন। ছোট মাছ পাটিতে বিছিয়ে, পিটকালা মাছ বালুতে বিছিয়ে এবং বড় জাতের মাছ পেট বরাবর ফেড়ে মাচায় শুকানো হয়। এ ছাড়াও দ্বীপবাসী অনেকে মাছ, নারিকেল, পেজালা এবং ঝিনুক ব্যবসা করে। এছাড়াও কিছু মানুষ দোকানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। ছোট ছোট শিশুরা দ্বীপ থেকে সংগৃহীত শৈবাল পর্যটকদের কাছে বিক্রি করে থাকে। সম্পূর্ণ সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপেই প্রচুর নারিকেল এবং ডাব বিক্রি হয়। মায়ানমারের আরাকন থেকে বাংলাভাষী রোহিঙ্গাদের দ্বীপ অঞ্চলে প্রায়শই দেখা যায়।

ছবিঃ গেটি ইমেজ

এমনিতে সেন্ট মার্টিন আমার দৃষ্টিতে আমাদের দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য। তার ওপর সমুদ্র উত্তাল থাকে বলে শীতের সময় ছাড়া সাধারণ মানুষ সেখানে তেমন একটা যেতেও পারেন না। তাই শুধুমাত্র শীতের সময়ই হয়ে ওঠে সেন্ট মার্টিন যাওয়ার আদর্শ সময়। শরৎ আর শীত এই দুই সময়ের সেন্ট মার্টিন উপভোগের আদর্শ সময়। তবে হ্যাঁ শীতে পরিবার নিয়ে বেড়ানোর শ্রেষ্ঠ গন্তব্য হলো সেন্ট মার্টিন।
আগে থেকে খোঁজখবর নিয়ে হোটেল-রিসোর্টে বুকিং দিয়ে পরিবার নিয়ে যাওয়াই ভালো।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ বিষয়ে বইগুলো দেখুন 

২. সাজেক উপত্যকা

রাঙামাটির একেবারে উত্তরে অবস্থিত এই সাজেক ভ্যালিতে রয়েছে দুটি পাড়া- রুইলুই এবং কংলাক। ১৮৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত রুইলুই পাড়া ১,৭২০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। আর কংলাক পাড়া ১,৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। সাজেক ভ্যালি ‘রাঙামাটির ছাদ’ নামেও পরিচিত। ইতিহাসের দিকে নজর দিলে দেখি- সাজেক রুইলুইপাড়া, হামারিপাড়া এবং কংলাক পাড়া, এই তিনটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রুইলুই পাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৭২০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত আর কংলাক পাড়া ১,৮০০ ফুট উচ্চতায় কংলাক পাহাড়-এ অবস্থিত। সাজেকে মূলত লুসাই, পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা উপজাতি বসবাস করে। রাঙামাটির অনেকটা অংশই দেখে যায় সাজেক ভ্যালি থেকে। এই জন্য সাজেক ভ্যালিকে রাঙামাটির ছাদ বলা হয়। কর্ণফুলী নদী থেকে উদ্ভূত সাজেক নদী থেকে সাজেক ভ্যালির নাম এসেছে।

ছবিঃ আব্দুল মোমিন

কক্সবাজারের পরই দেশের দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য এখন খাগড়াছড়ির সাজেক উপত্যকা। বিশেষ করে যাঁরা পাহাড় পছন্দ করেন, পাহাড়ের সঙ্গে মেঘ কুয়াশার আলিঙ্গন, ঘরের জানালা, বারান্দায় মেঘেদের আনাগোনা উপভোগ করতে চান, আর ভালোবাসার পাহাড়ে একটু একটু হাঁটাহাঁটি, তাঁদের জন্য এই শীতে সাজেক বসবে তার সবটুকু সৌন্দর্য নিয়ে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যদিও এখানে যেতে হয় রাঙামাটির দীঘিনালা হয়ে, তাই অনেকেই সাজেককে রাঙামাটির মনে করে ভুল করে থাকেন। সাজেকে সর্বত্র মেঘ, পাহাড় আর সবুজ। এখান থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। সাজেকের রুইলুই পাড়া থেকে ট্রেকিং করে কংলাক পাহাড়-এ যাওয়া যায়। কংলাক হচ্ছে সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া। কংলাকে যাওয়ার পথে মিজোরাম সীমান্তের বড় বড় পাহাড়, আদিবাসীদের জীবনযাপন, চারদিকে মেঘের আনাগোনা দেখা যায়। এখানে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে উপজাতিয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয় এবং তাদের সংস্কৃতির নানা উপকরণ উপভোগ করা যায়।

৩. বান্দরবান

যাঁদের কাছে সকল ভ্রমণ পরিকল্পনাই পাহাড়ের কাছে এসে হার মেনে যায়, তাঁদের কাছে সেন্ট মার্টিনের পরই বান্দরবান হতে পারে আসছে শীতের সেরা ভ্রমণ গন্তব্য। বান্দরবান, যাকে নিয়ে বলা বা লেখার কোনো শেষ নেই, হতে পারে না। বাইকে করে, জিপে চেপে, অল্প ট্র্যাক করে, বড় বড় ট্র্যাক প্ল্যান করে, দল বেঁধে তিন দিন থেকে তিন সপ্তাহের জন্য পরিকল্পনা করা যায়, শুধু এক বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য। ভালো গাইড, প্রশাসনের অনুমোদন, আর্মি আর স্থানীয় আদিবাসীদের সহযোগিতায় নানা রকম উপায়ে অল্প বা বেশি দিনের প্ল্যান করে উপভোগ করা যেতে পারে বান্দরবানের রং, রূপ আর গন্ধ! এই শীতে।

বান্দরবান অঞ্চল নিয়ে রচিত বইগুলো 

ভ্রমন বিষয়ক বই

পৃথিবীর সাহিত্য তো বটেই, বাংলা সাহিত্যের বিশাল এক অংশ জুড়ে আছে ভ্রমন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে হুমায়ূন আহমেদ পর্যন্ত অনেক জনপ্রিয় লেখকই লিখেছেন ভ্রমন বিষয়ক বই। আমরা সেখান থেকে ভ্রমন পিপাসুদের সঙ্গে বেশ কিছু বইয়ের পরিচয় করিয়ে দেবো। যেটি মানসিকভাবে আপনাকে ঘুরিয়ে আনবে লেখকের চোখে কোন এক দারুণ ভ্রমনের স্থান থেকে।

১. ছবির দেশে কবিতার দেশে (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

লেখক যখন নবীণ ছিলেন, কোলকাতা থেকে তিনিই ডাক পান পল এঙ্গেলের আমন্ত্রনে ক্রিয়েটিভ রাইটিং প্রোগ্রামে যান যোগদান করার জন্য। পল এঙ্গেল ছিলেন আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক। যদিও তিনি বাংলা কবিতার প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিলেন। ছবির দেশ কবিতার দেশ বলতে ফরাসি দেশকেই বোঝানো হয়েছে।

কে যেন বলেছিলো, প্রত্যেক শিল্পীরই দুটি দেশ থাকে, একটি হলো তার মাতৃভূমি আরেকটি হলো ফ্রান্স। সেখানে পৃথিবীর সব বিখ্যাত শিল্পী ও কবিরা জন্মগ্রহন করছেন। লেখক সেই দেশকে ছবির সাথে তুলনা করেছেন। বইটির বেশিরভাগজুড়েই যার কথা আলোচিত হয়েছে তার নাম মার্গারিট ম্যাথিউ। যার সুবাতে তিনি ফ্রান্সকে আরও সুন্দরভাবে চিনতে পেরেছেন। তার সাথে পরিচয় হয়েছে আমেরিকায় মার্গারিট সেখানে ডক্টরেট ডিগ্রি করার জন্য যান সেখানেই তার পরিচয়। মার্গারিট ম্যাথিউয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক হওয়ার পরে লেখককে ফ্রান্সে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। লেখক যান, ম্যাথিউ ফ্রান্স সম্পর্কে নানা-অজানা কাহিনী, কালচার-সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লেখক স্ব চোখে দেখতে পান এবং বিভিন্ন শহরে দু’জন মিলে ঘুড়ে বেড়ানোর সেই সময়ই উঠে এসেছে সুনীলের এই বইতে।

২. দেশে বিদেশে (সৈয়দ মুজতবা আলী)

বিখ্যাত পন্ডিত সৈয়দ মুজতবা আলী রম্য রচনার জন্য বেশ বিখ্যাত হলেও শুধু রম্যরচনাই নয়, ছোটগল্প, উপন্যাস, অনুবাদ, ভ্রমণকাহিনী সাহিত্যের ইত্যাদি বিশেষ শাখায় রচিত সৈয়দ মুজতবা আলী এর বই সমূহ অর্জন করেছে বিশেষ খ্যাতি। বিশেষ করে তাঁর লেখা ভ্রমণকাহিনীগুলোর জুড়ি নেই, যেগুলো পাঠকদের কাছেও ব্যাপক সমাদৃত। দেশে বিদেশে বইটি তারই এক উদাহরণ। বইটি থেকে কিছু অংশ আগ্রহী পাঠকদের জন্য তুলে দেয়া হলো।

‘চাঁদনি থেকে নসিকে দিয়ে একটা শর্ট কিনে নিয়েছিলুম। তখনকার দিনে বিচক্ষণ বাঙালির জন্য ইয়োরোপিয়ন থার্ড নামক একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ভারতের সর্বত্র আনাগোনা করত।

হাওড়া স্টেশোনে সেই থার্ডে উঠতে যেতেই এক ফিরিঙ্গি হেঁকে বললে ‘এটা ইয়োরোপিয়নদের জন্য’।

আমি গাঁক গাঁক করে বললুম, ইয়োরোপিয়ন তো কেউ নেই। চল, তোমাতে-আমাতে ফাঁকা গাড়িটা কাজে লাগাই’।

এক তুলনাত্মক ভাষাতত্ত্বের বইয়ে পড়েছিলুম, বাংলা শব্দের অন্ত্যদেশে অনুস্বার যোগ করিলে সংস্কৃত হয়; ইংরেজি শব্দের প্রাদেশে জোর দিয়ে কথা বললে সায়েবি ইংরেজি হয়’। অর্থাৎ পয়লা সিলেবলে অ্যাকসেন্ট দেওয়া খারাপ রান্নায় লঙ্কা ঠেসে দেওয়ার মতো- সব পাপ ঢাকা পড়ে যায়। সোজা বাংলায় এরি নাম গাঁক গাঁক করে ইংরেজি বলা। ফিরিঙ্গি তালতলার নেটিব, কাজেই আমার ইংরেজি শুনে ভারি খুশি হয়ে জিনিসপত্র গোছাতে সাহায্য করল। কুলিকে ধমক দেবার ভার ওরি কাঁধে ছেড়ে দিলুম। ওদের বাপখুড়ো, মাসিপিসি রেলে কাজ করে- কুলি শায়েস্তায় ওরা ওয়াকিফহাল…….।

৩. মে ফ্লাওয়ার (হুমায়ূন আহমেদ)

এই বইটি হুমায়ূন আহমেদের আত্মকথার একটি অংশও বলা চলে। তবে এখানে উপজীব্য হয়ে উঠেছে ভ্রমনের গল্প। বইটি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে শুভশ্রী নামের একজন পাঠক লিখেছিলেন- মূলত এই বইটিকে হুমায়ূন আহমেদের ভ্রমন বিষয়ক অভিজ্ঞতা সম্বলিত একটি ডায়েরি হিসেবে উল্লেখ করা যায়। নানারকম হাসি, কষ্ট অথবা নানারকম মজার তথ্য, লেখকের সাথে যাওয়া হাস্যকর কিছু ঘটনা এবং বিদেশ যাত্রার সময় নিজ দেশের জন্য, পরিবারের জন্য লেখকের মনের টান, নিজের ভালোবাসা নিয়েই তাঁর এই লেখনি।

আমেরিকান সমাজের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, কুসংস্কার, বিভিন্ন বিখ্যাত স্থান, তাদের করা মজার মজার জরিপ নিয়েও এই বই থেকে বিচিত্র ধারণা পাওয়া যাবে। সাথে সাথে নিজ দেশ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখকের যে গর্ববোধ তাও তিনি তাঁর লেখনির জাদু দিয়ে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন।

ভ্রমণ বিষয়ক সকল বই দেখুন 

 

Zubayer Ibn Kamal

Zubayer Ibn Kamal

For the last half a decade, I have been writing stories, articles, features, and other content in various national level magazines. I am most interested in creative writing. I have read thousands of fiction books in the last few years. I have memorized the book of the last revelation of God. My day goes by reading books and thinking.

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading