সৃজনশীল লেখকদের জন্য স্টিফেন কিংয়ের ৫টি পরামর্শ

11037572_10152842452163925_3318932891551539325_o

সৃজনশীলতা ছাড়া কি পাঠকের মনে জায়গা করে নেয়া সম্ভব? এই প্রশ্ন হাজারো মানুষকে জিজ্ঞাসা করলে একটাই উত্তর আসবে, তা হলো পাঠকের মনে স্থান করে নিতে সৃজনশীলতার বিকল্প নেই। গতানুগতিক লেখা পড়তে পড়তে পাঠক ক্লান্ত– এই বাক্য মাথায় রেখেই প্রতিটা লেখকেই আগাতে হয়। নিজের সৃজনশীলতা এবং কল্পনাশক্তির সম্মিলন ঘটিয়ে পাঠকের সামনে নতুন কিছু হাজির করতে না পারলে যে কারোরই লেখা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।  এমনটাই মনে করেন হরর ফিকশনের জগতে কিংবদন্তি স্টিফেন কিং।

স্টিফেন কিং এর ছোটগল্প ও উপন্যাসগুলো পুরো বিশ্বেই বহুল পঠিত। দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন বিশ্বসাহিত্যিক, যার পাঠক ছড়িয়ে আছে পুরো বিশ্বেই। প্রায় ৬১ টির মত উপন্যাস লিখেছেন স্টিফেন কিং, তার লেখা বইগুলোর ৩৫ কোটিরও বেশি কপি এ পর্যন্ত পুরো বিশ্বে বিক্রি হয়েছে। তাঁর লেখা বই অবলম্বনে তৈরি হয়েছে বহু চলচ্চিত্র, যেগুলো পরে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। স্টিফেন কিংয়ের লেখা বই থেকে নির্মিত চলচ্চিত্র ইট সাড়া বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিলো। এ থেকেই বোঝা যায় পাঠকের মাঝে কী পরিমাণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি।

বলুনতোঃ শশাঙ্ক রিডেম্পশন মুভিটি কোন উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এবং উপন্যাসিকের
নাম কি?

সৃজনশীল লেখালেখিতে যাদের আগ্রহ আছে, তাদের জন্য বিশ্বনন্দিত লেখক স্টিফেন কিংয়ের কিছু পরামর্শ আছে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি সৃজনশীল লেখালেখি নিয়ে কথা বলেছেন, উঠতি লেখকদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। মূল্যবান সেসব পরামর্শই রকমারির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে আজ। তাছাড়া, তার আত্মজীবনীমূলক লেখা ‘অন রাইটিং’ লেখকদের জন্য হতে পারে সেরা এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর।

. বিষয়বস্তু নির্বাচন

বিষয়বস্তু নির্বাচন যেকোনো লেখার বেলাতেই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অনেক পাঠক বুঝে নেন লেখার পরবর্তী গতি-প্রকৃতি কেমন হবে। তাই আকর্ষণীয় বিষয়বস্তু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে স্টিফেন কিংয়ের পরামর্শ হলো, “বিষয়বস্তু বিভিন্ন জায়গা থেকে নেয়া যেতে পারে। হতে পারে সেটা পারিপার্শ্বিক অবস্থান থেকে এসেছে। আবার নাও আসতে পারে। তবে সতর্ক থাকতে হবে, পরবর্তীতে বিভিন্ন চরিত্রের মিথস্ক্রিয়ায় যেন গল্প এগিয়ে যেতে পারে। সেরকম বিষয়বস্তুই নির্ধারণ করা উচিত।

বিখ্যাত সাহিত্যিকদের মাঝে জন আরভিং গল্পের বিষয়বস্তু নির্বাচন কিংবা উপন্যাসের কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যতিক্রম ছিলেন। তিনি নাকি শুরুতেই উপন্যাসের একদম শেষ লাইনটি লেখে ফেলতেন!

On Writing বইয়ের প্রচ্ছদ, বইটির কিছু অংশ এখানে পড়ুন
. চিত্রনাট্য ও সৃজনশীলতা

যারা চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করতে চান, তাদের অবশ্যই সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটাতে হবে। চিত্রনাট্যে মানবিক অনুভূতি ফুটিয়ে তুলতে হয়৷ তাই কল্পনাশক্তি প্রসারিত করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের লেখা যেন পাঠকের মনে অনুভূতি সঞ্চার করে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তারা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে যা দেখে, যেভাবে দেখে, পাঠকদেরও সেভাবে দেখাতে হবে। স্টিফেন কিংয়ের মতে, “লেখালেখি শুধু টাকা কামানো কিংবা বিখ্যাত হওয়ার জন্য নয়। দিনশেষে এটা যেন পাঠকের চিন্তাভাবনাকে সমৃদ্ধ করে, সেটা লেখকের দায়িত্ব।

. সমাজের বাস্তব চিত্র

লেখায় সামাজিক বাস্তবতা যেন ঠিকমতো উঠে আসে, সেই বিষয়ে লেখককে সচেতন হতে হবে। পরাবাস্তব লেখা পাঠককে হতাশ করে। সামাজিক বাস্তবতা চিত্রায়ণের জন্য অবশ্যই সমাজকে ভালো করে জানতে হবে, সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষের মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। কাজটা কিন্তু একেবারে সহজ নয়।

স্টিফেন কিংয়ের মতে, লেখককে শুধু ‘লেখক’ হয়ে থাকলেই চলবে না। প্রয়োজনে তাকে গোয়েন্দা হতে হবে। গোয়েন্দারা যেমন দক্ষতার সাথে গোপন তথ্য তুলে আনে, ঠিক সেভাবেই লেখককে বাস্তবতা তুলে আনতে হবে। তার ভাষায়, “আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে আমার কালো চুল ছিল। ঘন দাঁড়ি ছিল। তখন নিজেকে খানিকটা গোয়েন্দা মনে হতো আমার। তবে তথ্য নয়, বাস্তবতা তুলে আনতাম লেখায়। আর একজন লেখকের তো এমনই হওয়া উচিত।

. বই পড়ার অভ্যাস

একজন লেখকমাত্রই তিনি একজন ভালো পাঠক। একজন পাঠকই পড়তে পড়তে এমন একটি পর্যায়ে চলে যান, যে পর্যায়ে তার মনে হতে শুরু করে তিনি লেখতে পারবেন। আসলে একজন পাঠকই লেখকে পরিণত হন। প্রতিটি বই একজন পাঠককে নতুন কিছু শেখায়। তাই পড়ার বিকল্প নেই। এমনকি লেখক হলেও পড়ার অভ্যাস ত্যাগ করা যাবে না কোনোভাবেই।

স্টিফেন কিং লেখালেখির সময় বারবার নিজের লেখাটি পড়ার প্রতি জোর দেন। তিনি বলেন, “তোমাকে প্রচুর পড়তে হবে। লেখার সময় বারবার নিজে থেকে লেখাটি পড়ে ভুল বের করতে হবে। তুমি যদি পড়ার সময় না পাও, তবে তোমার হাতে লেখার মতো বিষয় থাকবে না।

. স্বকীয়তা বজায় রাখা

সবারই গল্প বলার নিজস্ব একটা ধরন আছে। নিজের মতো করে লেখাটা একজন লেখকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্বকীয়তা বজায় থাকে। বিখ্যাত লেখকদের নকল করে লেখায় আসলে কোনো বীরত্ব নেই। এতে লেখার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়।

সবাই একই ফ্রেমে চিন্তা করে না। তাই বলার শৈলী সবার একই হয় না। এই ভিন্নতায় সাহিত্যের কোনো ক্ষতি নেই। বরং বৈচিত্র্যে সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হয়। স্টিফেন কিংও নিজস্ব ধারা ধরে রাখার প্রতি জোর দেন। তার কথায়, “তুমি কখনোই কোনো বিশেষ ঘরানার লেখায় একজন লেখককে পুরোপুরি নকল করতে পারবে না।” নিজের শৈলী ধরে রেখে পাঠকের সামনে ভালো কিছু উপস্থাপন করাই লেখকের ধ্যানজ্ঞান হওয়া উচিত।

সৃজনশীল লেখনীর এই পরামর্শগুলো ছাড়া কি লেখক হওয়া যাবে না? কিংবা পাঠককে সৃজনশীল লেখা উপহার দেয়া যাবে না? উত্তরে বলতে হয়, অবশ্যই যাবে। কিন্তু একজন লেখকের পরামর্শ গ্রহণ করলে লেখালেখি সহজ হয়ে উঠবে আপনার জন্য। একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ‘প্রতিষ্ঠিত’ হন। তিনি পাঠক কোন ধরনের লেখা চায়, কীভাবে লিখলে তা সাহিত্যিক গুণসম্পন্ন হয়ে উঠবে, সেগুলো নিঃসন্দেহে ভালো জানেন। তাহলে তার দেয়া পরামর্শ ও কৌশলগুলো মাথায় থাকলে লাভ ব্যতীত লোকসান তো নেই একটুও!

স্টিফেন কিং এর লেখা সকল বই রকমারিতে দেখুন

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Published 05 Dec 2018
Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh
  0      0
 

comments (0)

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png