ভাইরাস ভ্যারিয়ান্ট সম্পর্কিত যে ৫টি বিষয় আপনার অবশ্যই জানা উচিত

corona

কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী ভাইরাস প্রতিনিয়তই নিজেকে নতুনভাবে প্রকাশ করছে। পাশাপাশি মহামারী থেকে নিস্তার লাভের জন্য আমাদের সকল প্রচেষ্টাকেই জটিল করে তুলছে।

বিল গেটস
মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম হেনরী গেটস বা বিল গেটস।

গত বছরের বেশির ভাগ সময় আমি (বিল গেটস) কোভিড-১৯ এর পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আমার প্রতিষ্ঠান সহ বিশ্বব্যাপী অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে বৈঠকে ব্যয় করেছি। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, উক্ত বৈঠকগুলিতে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা ক্রমবর্ধমানভাবে একই প্রশ্ন করে যাচ্ছেন: মহামারী বন্ধের চলমান প্রয়াসে নতুন ভ্যারিয়ান্টগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে?

নিঃসন্দেহে কোভিড-১৯ এর সাথে চলমান যুদ্ধে বিশ্ব অনেকটা পথ পেরিয়েছে, কিন্তু নতুন ভ্যারিয়ান্টগুলি  গত এক বছরে অর্জিত অগ্রগতিকে হুমকিতে ফেলার জন্য যথেষ্ট। এখানে পাঁচটি জিনিস তুলে ধরা হলো যা আপনাকে জানতে সাহায্য করবে, কীভাবে নতুন ভ্যারিয়ান্টগুলো চলমান মহামারীকে আরো জটিল করে তুলছে।

১. যদি আপনি কখনো টিকা নিয়ে থাকেন, তবে আপনি ইতিমধ্যেই ভাইরাসের যে কোনো ভ্যারিয়ান্টের সংস্পর্শে চলে এসেছেন

একটু ব্যাখ্যা করা যাক। ভাইরাস সর্বদাই নতুনভাবে বিবর্তিত হচ্ছে। আপনি যদি সংক্রামক রোগ নিয়ে কাজ না করে থাকেন তবে “ভ্যারিয়ান্ট” এর পুরো ব্যাপারটাই আপনার কাছে সম্পূর্ণ নতুন এবং ভয়াবহ। তবে এতে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই। ইনফ্লুয়েঞ্জার দ্রুত নিজেকে পরিবর্তন করার ক্ষমতার কারণে (আমি পরবর্তী অংশে এই বিষয়ে আরও কথা বলবো) আমরা প্রতিবছর নতুন টিকা পাচ্ছি। ক্রমাগত পরিবর্তনশীল ভাইরাসের স্ট্রেইনগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের উচিত হবে ভ্যাক্সিনগুলোকে বাৎসরিকভাবে আধুনিকায়ন করা।

কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী ভাইরাস, কেন নিজেকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করছে তা জানতে হলে প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে, ভাইরাস আপনার দেহে কীভাবে নিজেকে বিকশিত করছে। অন্য ভাইরাসগুলোর মতোই করোনাভাইরাসেরও একটিই লক্ষ্য আর তা হল নিজেকে প্রতিলিপিত করা। যখন ভাইরাস আপনার কোষকে আক্রমণ করছে, এটি তার আরএনএতে অনুলিপিত নির্দেশনা অনুযায়ী আপনার দেহের কোষকে পরিচালিত করার পাশাপাশি নিজের আরো অনুলিপি তৈরি করে।

যখন কোষটি নতুন ভাইরাস তৈরি করে তখন তাকে অনুলিপিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয়। আপনি যদি কখনো টাইপিং ক্লাস করে থাকেন তবে কোনো ভুল ছাড়া কিছু টাইপ করা কতটা কঠিন সে ব্যাপারে অবশ্যই আপনি বোধগম্য হবেন। কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী ভাইরাসের কোডটি প্রায় ৩০,০০০ অক্ষর দীর্ঘ। এখানে গোলমাল করার অনেক সুযোগ রয়েছে – যা করোনা ভাইরাস প্রায়শই করে থাকে।

 

images (2)
কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী ভাইরাসের কোডটি প্রায় ৩০,০০০ অক্ষর দীর্ঘ।

বেশিরভাগ ভুলের ফলে ভাইরাস একটি কার্যত অভিন্ন বা প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে না। তবে মাঝে মাঝে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যা যেকোনো ভাইরাসের পক্ষে মানুষকে সংক্রমিত করতে সহজতর করে তোলে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সহজে ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হয়। যখন তা কোন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখন উত্থান ঘটে একটি নতুন ভ্যারিয়েন্টের।

২. একই পরিবর্তনগুলো বারবার উঠে আসছে, যা একটি সুসংবাদ হতে পারে

সমস্ত ভাইরাসই বিকশিত হয়, তবে সমস্ত ভাইরাস একই হারে এবং একই উপায়ে বিকশিত হয় না। কিছু কিছু ইনফ্লুয়েঞ্জার ন্যায় অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। অন্যগুলো আবার ধীরে ধীরে নিজেদের পরিবর্তন করে। ভাগ্যক্রমে, সার্স-কোভ-২ পরবর্তী পর্যায়ে পড়ে। এটি ইনফ্লুয়েঞ্জার অর্ধেক গতিতে নিজের পরিবর্তন ঘটায়।

মনে হতেই পারে, নতুন ভ্যারিয়ান্টগুলো এখন বেশি উঠে আসছে। আমি জানি। এর কারণ পৃথিবীতে বিরাজমান ভাইরাসগুলো একে সুযোগ করে দিচ্ছে নিজেকে বদলানোর। একবার কেস সংখ্যা হ্রাস পেলে, আমি আশা করি যে আমরা নতুন ভ্যারিয়ান্টগুলির দেখা কম পাবো।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সাথে তুলনা করলে যা মূলত আটটি জিনগত অংশ নিয়ে গঠিত, যাকে বিভিন্ন উপায়ে পুনরায় বিন্যস্ত করা যায়, করোনা ভাইরাসটি একটি খুবই সাধারণ ভাইরাস। এখন পর্যন্ত সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য মিউটেশনগুলি একই জায়গায় ঘটেছে: স্পাইক প্রোটিন যা ভাইরাসের পৃষ্ঠ থেকে দূরে থাকে।

এই স্পাইক প্রোটিনটি কোভিড প্রসারের মূল চাবিকাঠি। এর গঠনাকৃতি মানুষের কোষকে আকৃষ্ট করতে সহায়ক। যদি স্পাইক প্রোটিনটি সামান্য পরিবর্তিত হয় তবে এটি কোষগুলির সাথে আরও কার্যকরভাবে আবদ্ধ হতে পারে (যা ভাইরাসকে আরও সংক্রামক করে তোলে) এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে তার কার্য সম্পাদনে বাঁধা প্রধান করে (যা মানুষকে এটির প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে)। তবে ভাইরাসটি নিজের যদি অত্যধিক পরিবর্তন ঘটাতে থাকে, তবে তার জীবনচক্রকে সঠিকভাবে সে প্রকাশ করতে পারবেনা।

পরিবর্তনের এই সীমিত ক্ষমতাটি ব্যাখ্যা করতে পারে আমরা কেন বিভিন্ন স্বতন্ত্র পরিবর্তনের পরিবর্তে একই স্থানে রূপান্তরগুলি হতে দেখি। বি.১.১.৭ (যা মূলত যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হয়েছিল) এবং বি.১.৩৫১ (যা দক্ষিণ আফ্রিকাতে প্রথম দেখা গিয়েছিল) স্বাধীনভাবে বিকশিত হয়েছিল, তবুও তাদের মধ্যে একই রকমের কিছু সংখ্যক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এই নির্দিষ্ট পরিবর্তনগুলির মধ্যে স্পষ্টতই কিছু রয়েছে, যা তাদের অন্যান্য পরিবর্তনের চেয়ে বেশি সফল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে দেয়।

কিছু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন আমরা ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসটির সর্বাধিক সক্ষম পরিবর্তনগুলো দেখে ফেলেছি। যেহেতু কোভিড-১৯ এর আগেই আমাদের চমকে দিয়েছে, এটি পুনরায় আমাদের অবাক করে দিতে পিছপা হবেনা।

৩. ভাইরাসটি পরিবর্তিত হলেও মহামারী থেকে নিস্তার লাভের পন্থা একই

গত বছর থেকেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একই বার্তার পুনরাবৃত্তি করছেন: ভ্যাকসিন প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত এবং সবার জন্য তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কোভিড-১৯ সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

কোভাক্স” নামক একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্বল্প আয়ের দেশে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হবে।

সুখবর হল বর্তমানে ব্যবহার করা বেশিরভাগ ভ্যাকসিনই গুরুতর রোগ প্রতিরোধ করার পাশাপাশি নতুন রূপগুলি থেকেও রেহাই দিচ্ছে। ভ্যাকসিনগুলি কতটা কার্যকর এটি সাধারণভাবেই তা প্রকাশ করে। প্রতিটি ভ্যাকসিন আলাদা আলাদা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কতখানি কার্যকর সে সম্পর্কে আমাদের এখনও অনেক তথ্য জানা প্রয়োজন। তবে প্রাথমিক সংখ্যাগুলি অনেকটাই আশাজনক (বিশেষত ইস্রায়েলের বাইরে, যেখানে ইতিমধ্যে অনেকেই ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন এবং যেখানে বি.১.১.৭ স্ট্রেইন প্রভাবশালী) ।

এখন প্রশ্ন হলো, ভ্যারিয়েন্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার জন্য আমাদের ভ্যাকসিনগুলিকে আধুনিকায়ন করতে হবে কিনা? ওষুধ সংস্থাগুলি একটি সংশোধিত ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে যা প্রয়োজনবোধে কয়েক মাসের মধ্যে বের হয়ে যেতে পারে। এখানে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভবত গ্রীষ্মের শেষভাগের মধ্যেই বেশিরভাগ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা হবে, কিছু লোক বুস্টার শট পেতে পারেন যা অতিরিক্ত স্ট্রেইন থেকে রক্ষা করবে।

আপাতত, করণীয়গুলো অনুসরণ করতে হবে। নতুন ভ্যারিয়েন্টের উত্থান রোধ করার সর্বোত্তম পন্থা হল ভাইরাসটির সংক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া। আমরা যদি সামাজিক দূরত্ব অবলম্বন, মাস্ক পরা এবং ভ্যাকসিন গ্রহণের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন থাকি, তবে এ মহামারী থেকে খুব শীঘ্রই রেহাই পাবো।

৪. ভ্যারিয়েন্টগুলো ভ্যাকসিনের সর্বত্র উপস্থিতি আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে

কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি আসল ভাইরাসের ক্ষেত্রে যেমন সত্য, তেমনি তা ভ্যারিয়েন্টের বেলায়ও সত্য।

কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী ভাইরাস যতক্ষণ পৃথিবীতে বিরাজমান থাকছে, ততক্ষণ এর কাছে সুযোগ থাকছে নিজের বিবর্তন ঘটানোর – এবং আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভঙ্গুর করার নতুন উপায় বের করার। যদি আমরা পৃথিবীর প্রতি কোণাতে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে না পারি, তবে এই ভাইরাসের আরও শক্তিশালী স্ট্রেইনের উত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের বাঁচতে হবে। এমনকি আমরা এমন একটি ভ্যারিয়েন্টেরও দেখা পেতে পারি, যা বিদ্যমান ভ্যাকসিনগুলির কার্যকারিতা পুরোপুরি নিঃশেষ করে দিবে।

বিল গেটসের মজার নয়টি ঘটনা পড়তে ক্লিক করুন

 

অবশ্যই কেউ চায় না এমনটি হোক। এমনটি যেন না হয় তা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম উপায় হল যেখানেই যে থাকুক, সবার কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা। এজন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান – সরকার, ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক, “সিইপিআই” এবং “গাভি” এর মতো সংগঠন, “ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স” এবং অন্যদের সাথে কাজ করে “কোভাক্স” নামক একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যার মাধ্যমে স্বল্প আয়ের দেশে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হবে।

কোভাক্স সম্প্রতিই ঘোষণা করেছে যে, ২০২১ সালের মাঝামাঝি নাগাদ সময়ে এটি ৩০০ মিলিয়ন ডোজ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। এটি অবশ্যই দারুণ একটি খবর, কিন্তু আমরা যদি কোভিড-১৯ এর হুমকি থেকে নিজেদেরকে সত্যিকার অর্থে মুক্ত করতে চাই, তবে বিশ্বের আরও অনেক কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। যদিওবা গ্রীষ্মের সময় বিশ্বের বেশকিছু অংশে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে উঠে, আমি আশা করব ধনী দেশগুলো কোভাক্স এর কাজকে সমর্থন করা অব্যাহত রাখবে।

৫. পরের বার আমরা আরো ভালো করতে পারি

ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টগুলো অনিবার্য। আমরা যদি কখনও নিজেদের মহামারী পরিস্থিতিতে দেখতে পাই যেখানে বিশ্বজুড়ে কোন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে, আমাদের এটি মাথায় রেখে আগাতে হবে যে এটি নিজেকে বারবার ভিন্ন রূপে পরিবর্তিত করতে থাকবে – যেমনটি আমরা কোভিড-১৯ এর সাথে দেখেছি। আমি আশা করি, পরবর্তী সময়ে আমরা আরো দ্রুত ভ্যারিয়ান্টগুলো শনাক্ত করতে প্রস্তুত থাকবো আর এটাই হবে এবারের সাথে তখনকার পার্থক্য।

পরবর্তীতে রোগতত্ত্ববিদদের সহায়তা নিয়ে প্রথম থেকেই জেনেটিক সিকোয়েন্সিং করাটাই হবে মূল উদ্দেশ্য। এই মুহুর্তে আপনি যদি পরীক্ষা করিয়ে কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়ে থাকেন, তবে আপনার পরীক্ষার নমুনাটি সিকোয়েন্সড হওয়ার জন্য নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি গবেষকদের ৩০,০০০ লেটার কোড দেখার সুযোগ করে দেয় যা ভাইরাসের আরএনএ নির্দেশাবলী তৈরি করে। এই কোডটিকে একটি ডাটাবেসে আপলোড দেওয়া হয়, যেখানে কম্পিউটারের সাহায্যে আপনার নমুনায় থাকা ভাইরাসের সাথে অন্যান্য স্ট্রেইনের তুলনা করা হয়। যদি আপনারটি একটি নতুন স্ট্রেইন হয়ে থাকে এবং এই স্ট্রেইনটি আপনার এলাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাতে বারংবার শনাক্ত হতে থাকে, তবে বিজ্ঞানীরা উক্ত স্ট্রেইনের সংক্রমণ হার, মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তির হার বিবেচনায় নিয়ে উদ্বেগের প্রয়োজন আছে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

ভ্যারিয়ান্টগুলি দ্রুত শনাক্ত করার জন্য গবেষকদের উচিত একটি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি গ্রহণ করা। কিছু বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন যে রোগজীবাণু কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তার সঠিক চিত্র পেতে হলে আমাদের সমস্ত নমুনা পরীক্ষার কমপক্ষে ৫ শতাংশের সিক্যুয়েন্স করা দরকার — যদিও বিপুল সংখ্যক নমুনার সিক্যুয়েন্সই যথেষ্ট নয়। যুক্তরাজ্য তার নমুনা পরীক্ষাগুলির প্রায় ৮ শতাংশ বিশ্লেষণ করেছে এবং সেই তথ্যসমূহের বিশ্লেষণ তাদের নজরে এনেছিল যে বি.১.১.৭ অতি দ্রুত ছড়াচ্ছিল এবং মারাত্মকও ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফলাফলগুলির সাথে সিকোয়েন্স ডাটার তুলনা করে কীভাবে ভ্যাকসিনগুলি বি.১.৩৫১ এ কাজ করছে তা দ্রুত পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল।

যে সমস্ত যন্ত্রসমূহ আমরা এই মহামারীতে কোভিড-১৯ এর ভ্যারিয়ান্ট শনাক্তের কাজে ব্যবহার করেছি, সেগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অনেক পর পর্যন্তও আমাদের কাজে দিবে। পরবর্তী মহামারীর প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে বিস্তৃত সিকোয়েন্সিং অবশ্যই পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত। যদি আপনি যথেষ্ট পরিমাণে সিকোয়েন্সিং করেন এবং সেই ডাটাগুলিকে অন্যান্য মাপকাঠির সাথে তুলনা করেন, তবে আপনি দেখতে পারবেন ভ্যারিয়ান্টগুলো যখন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল তাদের সাথে বর্তমান ভ্যারিয়েন্টের পার্থক্য। যত দ্রুত ভ্যারিয়ান্টটি শনাক্ত করা যাবে, তত বেশি সময় পাওয়া যাবে এটিকে অধ্যয়ন করার এবং যে ভ্যাকসিন এবং ভেষজগুলি অবস্থার পরিবর্তনে সাহায্য করেছে সেদিকে নজর রাখতে হবে।

এতে কোন সন্দেহ নেই যে ভ্যারিয়ান্টগুলি মহামারীর অবসান ঘটানোর জন্য আমাদের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে। ভাগ্যক্রমে আমাদের জানা আছে যে এদের উত্থান রোধ করার জন্য আমাদের কি করা উচিত। আপাতত নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আপনি যা করতে পারেন তা হল জনস্বাস্থ্য নির্দেশিকা অনুসরণ করা, পাশাপাশি যোগ্য হওয়ার সাথে সাথেই ভ্যাকসিন গ্রহণ করা।

(বিল গেটসের বক্তৃতা থেকে অনূদিত)

করোনা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো দেখুন 

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading