কাইজেন : উন্নত জীবনের চাবিকাঠি 

নিজেকে ভালো রাখার ১০ অনুশীলন
কাইজেন

যারা অন্যের জীবন পাঠ করে, তারা জ্ঞানী। যারা নিজেকে পাঠ করে, তারা প্রজ্ঞাবান।”  

রবিন এস শর্মার ‘দ্য মংক হু সোল্ড হিজ ফেরারি’ বইয়ের যোগী রমনের গল্পের সেই সুমো কুস্তিগিরের কথা মনে আছে? সেখানে কুস্তিগিরে চরিত্রের মাধ্যমে এক নীতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় পাঠককে। এই নীতির নামকাইজেন কাইজেন একটি জাপানী শব্দ। এর ইংরেজি অর্থ-  Continuous improvement. অর্থাৎ, শেখার এবং আত্মোন্নয়নের অন্তহীন যাত্রা। সুমো কুস্তিগিরদের মধ্যে এই নীতির অনুশীলন দেখা যায়। তারা তাদের বিশাল দেহ আর দক্ষতাকে ম্যানেজ করার জন্য খুবই সুশৃঙ্খল থাকে। চলুন দেখি, কাইজেন-এর নীতিগুলো কী কী।

প্রথম নিয়ম, নীরবতার সন্ধান। অর্থাৎ, আপনার দৈনন্দিন কাজগুলো ঠিকঠাক হওয়ার জন্য আপনার প্রয়োজন কোনো রকম ঝামেলাবিহীন নীরবতা। এই নীরবতা আপনার মনকে শান্ত করবে। আপনার সৃজনশীল কাজগুলোও এভাবেই সবচে ভালোভাবে করা সম্ভব।

দ্বিতীয় নিয়ম, শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি। এই নীতির উদ্দেশ্য হলো, আপনার শরীরকে সব সময় নড়াচড়ার মধ্যে রাখা। শরীরের উন্নতির ব্যাপারে ভাবছেন মানে, আপনি আপনার মনকেই ভালো রাখার কথা ভাবছেন।

তৃতীয় নিয়ম, জীবন্ত খাদ্যের ওপর বাঁচা। জীবন্ত খাদ্য বলতে বোঝানো হচ্ছে, যা আপনাকে মেরে খেতে হবে না। অর্থাৎ, শাক-সব্জি। আপনার শরীর যত বেশি শাক-সব্জি নির্ভর ডায়েটে অভ্যস্ত হবে, ততো বেশি আপনি সুস্থ থাকবেন।     

চতুর্থ নিয়ম, প্রচুর জ্ঞান সঞ্চয় করা। শেখাটা সারা জীবনের জন্যই প্রয়োজন। তাই শিখতে থাকতে হবে। নিয়মিতভাবে পড়াশোনার অভ্যাস করতে হবে মনকে তেজী রাখার জন্য।

পঞ্চম নিয়ম, নিজের মুখোমুখি হওয়া। প্রতিদিন আপনি কিভাবে চলছেন, কিরকম আচরণ করছেন, নিজেকে প্রতিদিন নিজের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, ‘আজ কী ভালো করলাম আগের দিনের চেয়ে?’

ষষ্ঠ নিয়ম, ভোরে ঘুম থেকে ওঠা। এই নিয়মানুযায়ী আপনাকে ছয় ঘন্টা ঘুমুতে হবে এবং ভোরে বিছানা ছাড়তে হবে।

সপ্তম নিয়ম, সংগীতের সাহচর্য গ্রহণ। সংগীত মনকে শান্ত করে। তাই আপনার রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী কিছুটা সময় সংগীতের সঙ্গে থাকার কথা বলছেন সিভানার ঋষিরা।

দ্য মংক হু সোল্ড হিস ফেরারি
দ্য মংক হু সোল্ড হিস ফেরারি  

BUY NOW

অষ্টম নিয়ম, ব্যক্তিগত মন্ত্র উচ্চারণ। আপনাকে উৎসাহ বা উদ্দীপনা যোগায় এমন যে কোনো বাণী সব সময় স্মরণ করবেন।

নবম নিয়ম, নিজের কথা শোনা। আপনাকে আপনার হৃদয়ের সমস্ত ইতিবাচক ডাকে এবং নীতিতে সাড়া দিতে হবে।

দশম এবং শেষ নিয়ম, সাধারণ জীবন যাপন করা। নিজের প্রায়োরিটিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সাধারণভাবে জীবন পরিচালনা করতে শেখা এবং কাজগুলোকে অর্থপূর্ণ করে তোলার ব্যাপারে সচেতন থাকা এই নিয়মের উদ্দেশ্য।

আমাদের সবার পক্ষেই সম্ভব একটা সাধারণ কিন্তু আনন্দের জীবন অতিবাহিত করা। সেজন্য চাই জীবনের আড়ম্বরতাকে পরিহার করে সাবলীলতা ও সারল্যকে গ্রহণ করা। নিজের প্রতি ক্ষোভ ধরে না রেখে নিজেকে ভালোবাসলে, ক্ষমা করলে ও আত্মোন্নয়নের চেষ্টায় সবসময় রত থাকলে সুখ কখনোই সোনার হরিণ হয় না কারো জীবনে। কারণ- সুখ কোনো গন্তব্য নয়, এটা একটা যাত্রা।

আরও পড়ুনকাজের চাপ জয় করার ৮ উপায়

‘দ্য মংক হু সোল্ড হিজ ফেরারি’ বই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে 

আত্মোন্নয়নমূলক বইগুলো দেখুন

Tashmin Nur

Tashmin Nur

লিখতে ভালোবাসি, কারণ- আমি উড়তে ভালোবাসি। একমাত্র লিখতে গেলেই আসমানে পাখা মেলা যায়। আমার জন্ম কোথায়, পূর্ণ নাম কী, কোথায় কিসে পড়াশোনা করেছি, এটুকু আমার পরিচয় নয়। যেটুকু আমাকে দেখা যায় না, সেটুকুই আমার পরিচয়। বাকিটুকু আমার চিন্তায় ও সৃষ্টিকর্মে।

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading