কেমন ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা?

মুক্তিযুদ্ধে গনমাধ্যমের ভূমিকা

আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে রয়েছে হাজারো আবেগ আর জীবনের গল্প। বিভিন্ন পেশার মানুষের বীরত্বের ভূমিকা ছিলো এই যুদ্ধে। কিন্তু সেক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে তেমন কথা শোনা যায় না। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিজয়ের প্রেক্ষাপট এবং সেখানে দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করবো।

আমরা ৭মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণ অনেক দেখেছি। কিন্তু আমরা কি জানি, শুধুমাত্র এই ভাষণটি প্রচার করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কতটা বেগ পেতে হয়েছিলো? কিন্তু তাও তৎকালীন সাংবাদিকরা পিছু হটেননি। পরদিন পত্রিকাজুড়ে ছিলো এসব সংবাদ। তখনকার সময়ের জাতীয় পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতা ছেয়ে গিয়েছিলো ভাষণটির বহুদিক বিবেচনা নিয়ে সংবাদ ছাপিয়ে। আমরা যদি সেদিনগুলোতে ফিরে যাই দেখতে পাবো, পত্রিকাগুলো শুধুমাত্র পরদিন অর্থাৎ ৮ই মার্চ (১৯৭১) নয়; বরং ৮ তারিখ থেকে লাগাতার পুরো মাসে ভাষণের কারণে কী কী প্রভাব পড়েছে তা নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন ছেপেছে। পাকিস্তান শাসকদের হুমকি-ধামকিতে তারা কখনোই দমে যাননি।

দৈনিক ইত্তেফাক বেশ ফলাও ভাবে ভাষণটির একটি বাক্য কোট করে শিরোনাম করেছিলো। ছবি সুত্রঃ কালের কণ্ঠ

দেশীয় গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হবার পর ৩৬টি ভিন্ন পত্রিকার উল্লেখ পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধের দলিল ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ বই ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিল’ (হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত) গ্রন্থে গণমাধ্যম সংক্রান্ত অধ্যায়ে একাধিক পত্রিকার চিত্র আমরা দেখতে পাই। এসব পত্রিকা বেশিরভাগই ছিলো অনিয়মিত। কারণ- তখন নিয়মিত পত্রিকা বের করার মত অবস্থা ছিলো না। কিন্ত গণমাধ্যম কর্মীদের নিজ জায়গা থেকে এরূপ বীরত্বপূর্ণ ও সাহসী কাজ দেখে আমরা শ্রদ্ধা করতে বাধ্য হই। তবে কিছু বিশেষ পত্রিকা আবার বিজয়ের দিন পর্যন্তও চলেছিলো। তার মধ্য থেকে কয়েকটি পত্রিকার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো।

  • দৈনিক জয়বাংলা

রাজশাহীর নওগাঁ থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি ছিলো দৈনিক। হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিল’ বইয়ে ১০টি সংখ্যার উল্লেখ আছে। রহমতুল্লাহ সাহেবের সম্পাদনায় পত্রিকাটির ২য় সংখ্যা (৩১শে মার্চ) থেকে একাদশ সংখ্যা (১১এপ্রিল) পর্যন্ত বইটিতে উল্লেখ পাওয়া যায়।

  • দৈনিক বাংলাদেশ

এটি আরেকটি মুক্তিযুদ্ধকালীন দৈনিক, যেটি দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও থেকে প্রকাশিত। সম্পাদনায় ছিলেন কাজী মাজহারুল হুদা। ৭ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ৬টি সংখ্যা বের হবার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে পুনরায় ১৮ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আবার চারটি সংখ্যা তেতুলিয়া থেকে প্রকাশিত হয়।

  • বাংলাদেশ

বরিশাল থেকে প্রকাশিত একটি অর্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকা। সম্পাদনায় ছিলেন এম এম ইকবাল, মিন্টু বসু এবং হেলাল উদ্দিন। ১৭ এপ্রিল পত্রিকাটির প্রথম প্রকাশ হয়। প্রথম সংখ্যাতেই একটি শিরোনামের মাধ্যমে বিশ্বের মানবতাবাদী সকল রাষ্ট্রের কাছে পাকিস্তানের অত্যাচার রুখে দেবার আবেদন জানানো হয়।

  • বঙ্গবাণী 

নওগাঁর ফিরোজ প্রিন্টিং প্রেস থেকে প্রকাশিত। সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন কে এম হোসেন। এই পত্রিকাটির শুধুমাত্র একটি সংখ্যার খোঁজ পাওয়া যায়। ১৩ জুন ১৯৭১ তারিখে প্রকাশিত সংখ্যা ছাড়া আর কোনো সংখ্যার খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেদিনের পত্রিকার একটি শিরোনাম ছিলো কিছুটা এরকম-

“আড়াই ভিশন পাঞ্জাবী ফৌজ বাংলার স্বাধীনতা রুখতে পারবে না, অচিরেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যাচ্ছে”
  • জয় বাংলা

এটি ছিলো একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। জয় বাংলা তৎকালীন মুজিবনগর সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছিলো। সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন মুজিবনগর সরকারের তথ্য অধিদপ্তরের জনাব আব্দুল মান্নান। আর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন মতিন আহমেদ চৌধুরী। ১১মে তারিখে প্রথম প্রকাশিত হয়ে এটি একদম মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত চলেছিলো। ১৬

ডিসেম্বর তারিখে পত্রিকাটির শিরোনাম ছিলো- ‘ঢাকা আমাদের মহানগরীর সরকারি-বেসরকারী ভবনে স্বাধীন বাংলার পতাকাঃ বঙ্গবন্ধু দীর্ঘজীবি হোন ধ্বনীতে আকাশ বাতাশ প্রকম্পিত।‘

ছবিসূত্রঃ জন্মযুদ্ধ

  • রণাঙ্গন

টাঙ্গাইলে শত্রুসেনা ঘেরাও করা অবস্থাতেই এটি প্রকাশিত হতো। রণাঙ্গন পত্রিকাটির সম্পাদনা করতেন রনদূত ছদ্মনামে কেউ একজন। ১১ জুলাই এটির প্রথম সংখ্যা বের হয়। পত্রিকাটি মুলত দুর্ধর্ষ কাদেরিয়া বাহিনীর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছিলো।

ছবিঃ জন্মযুদ্ধ

 

  • Bangladesh

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে প্রকাশিত দুটো ইংরেজি পত্রিকার একটি। এটি মুজিবনগর সরকার থেকে প্রকাশিত হতো। ১৯৭১ সালের জুন মাসে Bangladesh প্রথম প্রকাশিত হয়।

ছবিসূত্রঃ জন্মসূত্র

বিদেশী গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা

২৫ মার্চ ঢাকায় বর্বর হত্যাকান্ডটির প্রেক্ষিতে সংবাদমাধ্যম বা সংবাদকর্মীদের অবস্থান কীরকম ছিলো? জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই সময়ে। ১৯৭১ সালের মার্চের ২৫ তারিখ বিদেশী সাংবাদিকদের ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে একপ্রকার বন্দী করে ফেলা হয়। তাদের ধারণাও ছিলো না, কী ঘটতে যাচ্ছে!  নিউইয়র্ক টাইমস তাদের ২৯ তারিখের প্রতিবেদনে লিখেছিলো, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হুমকি দিয়েছে, হোটেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা হলে সাংবাদিকদের গুলি করা হবে একই প্রতিবেদনে আটকে পড়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে হোটেলে অবস্থানরত এক সৈনিকের জবাব এভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়, “We want you to leave because it will be too dangerous for you. It will be too bloody। সৈনিকের এমন জবাবে সাংবাদিকরা নিজেদের নিয়ে যতটা না ভয় পেয়েছিলেন, তার চেয়েও বেশি ভয় পান নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের সাথে আজ রাতে কী বিভীষিকা ঘটতে যাচ্ছে, তার কথা চিন্তা করে।

রোর বাংলার একটি নিবন্ধে তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, তারা হোটেল থেকেই দেখতে পেয়েছেন, নিরস্ত্র বেসামরিক লোকজনের উপর সামরিক বাহিনীর বর্বর আক্রমণ। ট্যাঙ্ক, বন্দুক আর মেশিনগানের গুলির শব্দে আঁতকে উঠেছিলেন সবাই। গণহত্যার ব্যাপারে সাংবাদিকরা যেন কোনো তথ্য বহির্বিশ্বে সরবরাহ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা ছিলো তখন পাকিস্তানের অন্যতম কাজ। এর প্রথম কারণ হলো, তারা নিজেরা সম্পূর্ণ অবগত ছিলো কীভাবে নিরীহ বাঙালীদের উপর অন্যায়ভাবে এরকম হিংস্র অত্যাচার চালাচ্ছে তারা। আর দ্বিতীয় কারণ হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার অধিকারী ছিলো এবং তারা ভয় পেয়েছিলো যদি বহির্বিশ্বে এটি প্রকাশ পায় যে, পাকিস্তানে সরবরাহকৃত মার্কিন অস্ত্র বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারে।

ফলস্বরূপ, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যত দ্রুত সম্ভব সাংবাদিকদের দেশ থেকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সাংবাদিকদের ২৮মার্চের মধ্যেই ঢাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। বহিষ্কৃত সাংবাদিকদের মধ্যে একজন ছিলেন ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’র সিডনি শ্যানবার্গ। তিনি ছিলেন দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি। অন্যান্য সাংবাদিকের সাথে তিনিও ২৫ মার্চের ভয়াবহতা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেন। তার রচিত ‘বিয়ন্ড দ্য কিলিং ফিল্ডস’ নামক বইতে তিনি নিজের চোখে দেখা মুক্তিযুদ্ধের বর্ণনা দেন। ২৫ মার্চের ঘটনা বর্ণনায় তিনি লিখেন, ‘শুরুর দিকে গোলাগুলির আওয়াজ অনেকটা বিক্ষিপ্ত ছিলো, তবে রাত ১টার দিকে অনবরত গুলির আওয়াজ শুনতে পাই হোটেল কক্ষ থেকে। প্রায় টানা তিন ঘণ্টা গুলির আওয়াজ শুনেছিলাম’। ২৮ মার্চ যখন তাদেরকে সামরিক নিরাপত্তায় এয়ারপোর্টে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো, তখন তিনি সকালের বিধ্বস্ত ঢাকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন গাড়িতে বসে।

১৭ এপ্রিল, ১৯৭১। বঙ্গবন্ধুর সাথে সিডনি শ্যানবার্গ; source: beyondthekillingfield

পাকিস্তান বাহিনীর হিসেবমতে সেদিন ইন্টারকন্টিনেন্টালে ৩৫ জন বিদেশী সাংবাদিককে আটকে রাখা হয়েছিলো। আসলে সেদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ৩৭ জন। অফিসে তাদের সন্ধান করা হলে অফিস জানায় এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই দুজন ব্যক্তির একজন ছিলেন ২৬ বছর বয়সী বিলেতি সাংবাদিক সায়মন ড্রিং।

লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফের সাংবাদিক সায়মন ড্রিং সর্বপ্রথম ঢাকা এসেছিলেন ১৯৬৮ সালে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের খবর সংগ্রহের কাজে তিনি ঢাকা ত্যাগ করে ভিয়েতনাম চলে যান। কিন্তু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পরিস্থিতি যখন অবনতির দিকে, বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে যখন স্বাধীনতার ডাক দিলেন, তখন সমগ্র বিশ্বের মানুষ একটি আসন্ন যুদ্ধের আভাস পায়। যে কারণে বিদেশী সাংবাদিকরা বাংলাদেশে আসতে শুরু করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ৬ মার্চ সায়মন ড্রিং পুনরায় বাংলাদেশে আসেন।

তরুণ সায়মন ড্রিং

২৫ মার্চ রাতে বন্দুকের মুখে যখন বিদেশি সাংবাদিকদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আটক করা হচ্ছিলো, সাইমন তখন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (AP) আলোকচিত্রী মাইকেল লরেন্টকে সঙ্গী করে হোটেলের ছাদে আশ্রয় নিয়ে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারের হাত থেকে রেহাই পান। ২৭ তারিখ কারফিউ উঠে গেলে তিনি হোটেলের কর্মচারীদের সহায়তায় দুই দিন অগ্নিদগ্ধ ঢাকার ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন। পরে ঢাকা ত্যাগ করার সময় অত্যন্ত সৌভাগ্যবশত এয়ারপোর্টে নিজের নোটবুকটি বাজেয়াপ্ত হবার হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন। করাচি হয়ে ব্যাংককে এসে সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ডের বিবরণ পাঠাতে শুরু করেন তিনি।

৩০ মার্চ ডেইলি টেলিগ্রাফে প্রকাশিত ট্যাংকস ক্রাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান  শিরোনামের সংবাদে তিনি ঢাকার বীভৎস অবস্থা বর্ণনা করেন। যার শুরুটা ছিল এমন, In the name of the god and united Pakistan, Dacca is a crushed and frightened city today” এই সংবাদটিতেই মূলত তৎকালীন ঘোষণাকৃত স্বাধীন বাংলাদেশের বীভৎস চিত্র সঠিকরূপে বিশ্বের মানুষের কাছে উঠে আসে। ২৭ মার্চ বাংলাদেশ ত্যাগের পর তিনি আবার নভেম্বরে ভারতে আসেন। তখন তিনি মুক্তিযুদ্ধের খবরাখবর সংগ্রহ করতেন কলকাতা থেকে। সেসব খবর টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশ করার জন্য পাঠিয়ে দিতেন লন্ডনে। ১৬ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর ট্যাংকে চড়ে তাদের সাথে ঢাকায় প্রবেশ করেন সায়মন ড্রিং এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাথেই বিজয় উল্লাসে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

আরেকজনের কথা না বললেই নয়। তিনি অ্যান্থনি মাসকারেনহাস। যিনি একজন বিবেকবান ও সাহসী সাংবাদিক ছিলেন। পাকিস্তান বাহিনী বহির্বিশ্বে নিজেদের কুকীর্তি ঢাকতে ৮ জন সাংবাদিককে ঢাকা পরিদর্শন করিয়ে ‘অবস্থা একদম স্বাভাবিক’ উল্লেখ করে রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন অ্যান্থনি মাসকারেনহাস। তিনি বিবেকের কাছে মূর্ছা যাননি। তিনি ঢাকা সফর শেষে ফিরে গিয়ে ‘জেনোসাইড’ নামের একটি প্রতিবেদন লিখেন। যেটি পুরো মুক্তিযুদ্ধের জন্যই বেশ বড় ভূমিকা পালন করেছিলো বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন।

১৩ জুন, ১৯৭১। লন্ডনের সানডে টাইমসে প্রকাশিত অ্যান্থনি মাসারেনহাসের সাড়া জাগানো প্রতিবেদন ‘জেনোসাইড’। source: genocidebangladesh

আন্তর্জানিক বার্তা সংস্থা বিবিসি তাদের একটি রিপোর্টে ‘বাংলাদেশ জেনোসাইড এন্ড ওয়ার্ল্ড প্রেস’ বইতে অনূদিত সে রিপোর্টের কয়েকটি লাইন তুলে ধরে বলে-

“আমি নিরাপত্তা রক্ষীদের তল্লাশী ফাঁকি দিয়ে মুহুর্তের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানগামী বিমানে উঠতে সমর্থ হই। তারপরও আমাকে দু’দুবার আটক করা হয় এবং ব্যাগেজসহ আমাকে তন্নতন্ন করে তল্লাশীর মুখে পড়তে হয়। তবুও আমার এ প্রতিবেদন তৈরীর নোট ব্যাংকক পর্যন্ত অক্ষত ছিল”।

ঢাকা এখন ধ্বংস এবং ভীতির নগরী। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঠান্ডা মাথায় ২৪ ঘন্টাব্যাপী অবিরাম গুলি বর্ষনে সেখানে সাত হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। ছাত্রাবাসে নিজেদের বিছানাতেই ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছে। বাজারগুলোতে কসাইদেরকে নিজেদের দোকানের পিছনে হত্যা করা হয়েছে”।

এই ছিলো তৎকালীন অর্থাৎ ১৯৭১ সালে সংঘটিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশী ও বিদেশী সাংবাদিকদের ভূমিকার কিছু অংশ। পারতপক্ষে তাদের ভূমিকা লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। আমাদের বিজয়গাথার সাথে যেমনি জড়িয়ে আছে দেশী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কর্মীদের ত্যাগ, তেমনি আমরা স্মরণ করি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত তৎকালীন সাংবাদিকদের, যারা পৃথিবীকে তাদের লেখার মাধ্যমে জানিয়েছিলো আমাদের দুঃখগাথা। আজ স্বাধীনতা পাবার এতবছর পরও আমরা তাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।

মুক্তিযুদ্ধের দলিল ও গবেষণাপত্র বইসমূহ পেতে ক্লিক করুন!

তথ্যসূত্রঃ

১. বিবিসি

২. কালের কণ্ঠ

৩. রোর বাংলা

৪. প্রথম আলো

৫. মুক্তিযুদ্ধ আর্কাইভ

Zubayer Ibn Kamal

Zubayer Ibn Kamal

For the last half a decade, I have been writing stories, articles, features, and other content in various national level magazines. I am most interested in creative writing. I have read thousands of fiction books in the last few years. I have memorized the book of the last revelation of God. My day goes by reading books and thinking.

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Loading