বাসায় কিভাবে তারাবি নামাজ আদায় করবেন?

islam

 “ যে ব্যক্তি রমজান মাসে রাতের বেলা দাঁড়িয়ে তারাবি নামাজ পড়বে ঈমান এবং এখলাসের সঙ্গে, তাহলে তার পূর্বের সকল গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে ” –  রাসূলে করীম (সাঃ) , বুখারী ও মুসলিম

রমজান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল তারাবি নামাজ। উপরিউক্ত হাদীসের মাধ্যমে তারাবি নামাজের ফযীলত এবং মর্যাদা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে পৃথিবীর বেশিরভাগ মসজিদেই তারাবি নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে না। সেক্ষেত্রে আমরা বাসা-বাড়ীতেই অথবা নিজ নিজ অবস্থানে থেকেই কিভাবে তারাবি নামাজ আদায় করতে পারি। আসুন, সংক্ষেপে এই বিষয় সম্পর্কে জেনে নেই ।

আরবি ‘তারাবিহ ’ শব্দটির মূল ধাতু ‘রাহাতুন ’ অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা। তারাবি নামাজ পড়াকালে প্রতি দুই রাকাত বা চার রাকাত পরপর বিশ্রাম করার জন্য একটু বসার নামই ‘তারাবি’। দীর্ঘ নামাজের কঠোর পরিশ্রম লাঘবের জন্য প্রতি দুই রাকাত, বিশেষ করে প্রতি চার রাকাত পর একটু বসে বিশ্রাম করে দোয়া ও তসবিহ পাঠ করতে হয় বলে এ নামাজকে ‘সালাতুত তারাবিহ’ বা তারাবি নামাজ বলা হয়।

এ বিষয়ে সর্বপ্রথম যে কথা বলবো তা হল মসজিদে তারাবি এর সালাত আমরা যে পদ্ধতিতে পড়ে থাকি বাসাবাড়ীতেও ঠিক একই পদ্ধতিতে আমরা তারাবি এর সালাত আদায় করবো। এর ভিন্ন কোন পদ্ধতি নেই। বাসাবাড়ীতে আমরা চাইলে একাকী যার যার মত তারাবি’র সালাত আদায় করতে পারি, আর চাইলে জামায়াতের সাথেও আদায় করতে পারি। সেক্ষেত্রে অবশ্যই জামায়াতের সাথে আদায় করা অধিক উত্তম হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো বাসায় জামায়াতে তারাবি নামাজের ইমামতি কে করবেন? জামায়াতের সাথে তারাবি’র সালাত আমরা আদায় করতে গেলে ঈমামতির জন্য ঐ ব্যক্তি আমাদের মধ্যে অধিক হকদার হবেন যে ব্যক্তি কোরআনে কারীম সবচেয়ে বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করতে পারেন, সে সাথে সালাত সংশ্লিষ্ট মাসায়েলগুলো সবার মধ্যে সবচাইতে বেশি জানেন এবং ভালো জানেন। সেই সাথে অবশ্যই তাকে পুরুষ হতে হবে।

একজন ঈমাম এবং একজন পুরুষ মুক্তাদি যদি থাকেন তাহলে সেক্ষেত্রে ঈমামের ডান পাশে মুক্তাদি দাঁড়াবেন, পেছনে দাঁড়াবেন না। আর যদি একাধিক পুরুষ মুক্তাদি থাকেন তাহলে ঈমামের পেছনে তারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবেন। বাসার মেয়েরাও যদি জামায়াতে সামিল হতে চান তাহলে তারা সম্পূর্ণ পৃথকভাবে পেছনে কাতার করে দাঁড়াবেন। পুরুষ এবং নারী পাশাপাশি দাঁড়াবেন না। কথার কথা, কোন বাসায় ঈমামের একজন মুক্তাদি রয়েছেন পুরুষ আর একজন বা একাধিক মহিলা রয়েছেন, একজন পুরুষ মুক্তাদি তিনি ঈমামের পাশে দাঁড়াবেন, আর মহিলারা পেছনে দাঁড়াবেন। একাকী হলেও পিছনে দাঁড়াবেন, দুইজন বা একাধিক হলেও তারা পেছনে পৃথক কাতার করে দাঁড়াবেন। তাদের সাথে ছোট শিশু বাচ্চারা দাঁড়াতে পারবে কিন্তু জামায়াতে একই কাতারে কোন পুরুষ মহিলাদের কাতারে দাঁড়াতে পারবেন না। বাসায় যদি কোন গায়রে মাহারাম মহিলা থাকে অর্থাৎ যারা জামায়াতে থাকছেন এখানে যদি পুরুষ বা মহিলা কেউ কারো মাহারাম থাকেন (কথার কথা দেবর ঈমামতি করছেন ভাবী তার পেছনে ইক্তেদার করছেন এরকম যদি হয় ) তাহলে সবচাইতে উত্তম হবে যদি কোন কাপড় দিয়ে পার্টিশন দেয়া হয় এবং পার্টিশনের পেছনে মহিলারা দাঁড়ায় তাহলে সেটা সবচেয়ে ভালো হবে। মোট কথা, পর্দার বিধানটি যাতে কোনোভাবে লঙ্ঘিত না হয় সে বিষয়ে নিশ্চিত করেই মহিলারা জামায়াতে সামিল হবেন।

আমরা তারাবি নামাজের ক্ষেত্রে অনেকে মনে করি চার রাকাআত পর পর বিশেষ দোয়া পড়তে হয়। আসলে তারাবি’র নামাজ আমরা দুই রা্কাআত দুই রাকাআত করে পড়বো এবং যত ধীরে সুস্থে পড়তে পারি ততই উত্তম হবে। আর চার রাকাআত পর পর বিশেষ কোন দোয়া সুবহানাজীল মুলকী ওয়াল মালাকুত ইত্যাদি এগুলো পাঠ করা কোনোভাবেই প্রমাণিত নয়। বরং এই চার রাকাআত পর পর যে বিরতি দেয়া হয় সেখানে আমরা কিছুটা আরাম করবো, বিশ্রাম নিবো, প্রয়োজনে চা পানি খেতে পারি অথবা হাঁটাচলা করতে পারি, আমরা টয়লেটে যেতে পারি কিংবা অন্য কোন কাজ করতে পারি। চার রাকাআত পর পর আমরা বিরতি দিবো শুধুমাত্র আমাদের বিশ্রামের জন্য, আরামের জন্য, সেখানে পৃথক কোন দোয়া পাঠের কোন প্রয়োজন নেই।

পড়তে পারেনঃ

ঈমাম সাহেব যখন দুই রাকাআত দুই রাকাআত করে নামাজ পড়াবেন বাসাবাড়ীতে অথবা নিজ নিজ নির্ধারিত জায়গায় সেক্ষেত্রে তিনি চেষ্টা করবেন যত দীর্ঘ কেরাত পড়া যায়। তার যে সূরাগুলো মুখস্ত আছে তার মধ্যে সবচেয়ে লম্বা যে সুরাগুলো আছে সেগুলো তিনি পড়ার চেষ্টা করবেন। যদি খুব বড় সূরা তার মুখস্ত না থাকে তাহলে  এক রাকাআতে ২-৩ টা সূরা তিনি পাঠ করতে পারেন। তবে ধীরে ধীরে এবং স্পষ্ট করে প্রতিটা আয়াত উচ্চারণ করে তিনি পড়বেন। এক রাকাআতে ২-৩টা সূরা যদি পড়েন এবং পরবর্তী রাকাআতেও ২-৩টা সূরা পড়েন তাহলে কোন সমস্যা হবে না। কারণ তারাবি’র নামাজে এরকম করে প্রতি দুই রাকাতে যত দীর্ঘ সময় আমরা ব্যয় করতে পারবো ততই উত্তম। আর যদি এক রাকাতে একই সূরাকে কয়েকবার করে পড়া হয় এতেও কোন অসুবিধা হবে না ইনশাআল্লাহ্। 

তারাবি’র নামাজ শেষে ঈমাম সাহেব আলাদা করে সবাইকে নিয়ে মোনাজাত করবে এমন কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। তারাবি নামাজ শেষে আমরা যদি কেউ চাই আল্লাহ্ সুবহানাল্লাহ তা’আলার কাছে দোয়া করবো তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যপার কিন্তু তারাবি নামাজ শেষে পৃথক কোন দোয়া বা পৃথক কোন মোনাজাতের শিক্ষা আমরা কোরআন সুন্নাহ থেকে কোনোভাবেই পাই না।

তো এভাবে আমরা বাসাবাড়িতে তারাবি নামাজ আদায় করার চেষ্টা করবো। দীর্ঘ কেরাত, দীর্ঘ রুকু, দীর্ঘ সেজদা এবং সেজদার মধ্যবর্তী যে বৈঠক সে বৈঠকগুলোকে খুব দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করা মাধ্যমে আমরা সালাতগুলোকে আদায় করার চেষ্টা করবো। আল্লাহ্ সুবহানাল্লাহ তা’আলা এবছর আমাদের নিজ নিজ বাসাবাড়িতে এবং যার যার অবস্থানে তারাবি’র নামাজ আরো সুন্দরভাবে, দীর্ঘ সময় নিয়ে, মান সম্মত উপায়ে ও উত্তম পদ্ধতিতে আদায় করার তৌফিক দান করুক।

“ জামাতে ঈমামের কোন ভুল হলে পুরুষরা ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে সতর্ক করবেন এবং মেয়েরা ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠে মেরে ঈমামকে সতর্ক করবেন”। (বুখারী-মুসলিম)

মাসলা মাসায়েল সংক্রান্ত যে বইগুলো দেখতে পারেনঃ
১) প্রচলিত ভুল
২) গুনাহ মাফের উপায়
৩) মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল

সকল ইসলামী বই দেখুন

 

* *কোরআন এবং হাদিসের আলোকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন, শাইয়খ আহমাদুল্লাহ

rokomari

rokomari

Published 29 Jan 2018
Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money.
  0      2
 

comments (2) view All

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png