মানুষ মুহাম্মদ(সা)কে জানতে চান? তাহলে পড়ুন অনবদ্য এই বইটি

হযরত মুহাম্মদ (সা)

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য সর্বযুগের, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সা)– নিঃসন্দেহে তা প্রতিটি মুমিন মুসলমান জানেন ও মানেন। আল্লাহর সবচেয়ে কাছের এই মানুষটির জীবনাদর্শ তাই মুসলিম উম্মাহর কাছে অনুসরণীয় এবং পবিত্র। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, একজন মুসলিম হিসেবে হোক বা অমুসলিম হিসেবেই, মানুষ মুহাম্মদ (সা)-কে আমরা কতটা নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পারি? আদৌ মানুষ হিসেবে মুসলিম উম্মাহর বাইরে আলোকিত ও পরিচিতি দিতে পেরেছি কি না তাঁকে। আলোচনা করব ‘ বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ ‘ এর নিরিখে।

রাসুল (সা) নব্যুয়ত লাভ করেছিলেন ৪০ বছর বয়সে। নবুয়্যত প্রাপ্তির পর তাঁর জীবন, শিক্ষা, আদর্শ নিয়ে বহু গবেষণা ও গ্রন্থ রচিত হয়েছে। অনেক হাদীসও রয়েছে এ নিয়ে, আর এর ব্যখ্যামূলক বইও পাওয়া যায় অসংখ্য। কিন্তু এই ৪০ বছরের জীবনে নবীত্ব লাভের আগের মুহাম্মদ (সা) এর আদর্শগুলো কি তাহলে অনুকরণীয় নয়? মানুষ মুহাম্মদ (সা) এর যে ৪০ বছর জীবন পর্যন্ত অর্জিত জ্ঞান, মূল্যবোধ, শিক্ষা- তা কি একেবারেই অবরণীয়? তা তো নয়। কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর শ্রেষ্ঠ নবী, মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ মানবের মাঝে তো তাঁর বিশেষত্ব জন্ম থেকেই আরোপ করে দিয়েছেন।

আগ্রহী পাঠকরা খুঁজতে গেলে মহানবী (সা) এর নবুয়্যত প্রাপ্তির পূর্ব জীবনের কাহিনী হয়তো অনেক পাবেন, কিন্তু সেই জীবনে তিনি কতটা অনুকরণীয় ছিলেন এবং আজকের দিনেও তার সেই জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া কতটা প্রাসঙ্গিক তা জানাবে ড. হিশাম আল আওয়াদির বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ । ‘

লেখকের পরিচয়

বইটির লেখক ড. হিশাম আল আওয়াদির জন্ম কুয়েতে। ইসলাম ও মহানবী (সা) তার লেখার বিষয় হলেও পড়াশোনা করেছেন ইতিহাস, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ বিষয়ে। তবে ইসলামিক স্টাডিজের উপরে ক’টি ডিপ্লোমা ডিগ্রীও তিনি অর্জন করেছেন ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক স্টাডিজ কায়রো থেকে। অধ্যয়নের সময়টাও কেটেছে কেমব্রিজ, এক্সেটারসহ বেশ কয়েকটি ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটিতে। ড. হিশাম আল আওয়াদি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি এবং যুক্তরাজ্যের এক্সেটার ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছেন। বর্তমানে তিনি আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ কুয়েতে ইতিহাসের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ’ বইটিতে নতুন কী পাবেন?

ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মুহাম্মদ (সা) কে ব্যখ্যা করার একটি সমস্যা হচ্ছে- সেখানে মহামানব হিসেবে তাঁকে এবং তাঁর জীবনকে তুলে ধরা হয়। আর এর সময়কাল অধিকাংশ সময় হয় ৪০ বছর বয়সে তাঁর নব্যুয়ত লাভের পর থেকে। কিন্তু ৪০ বছর ধরে হযরত মুহাম্মদ (সা) এর মহানবীর ব্যক্তিত্ব ধারণ করার যে যাত্রা, যে গল্প, যে পাথেয় তা খুব কম লেখকই তুলে ধরার চেষ্টা করেন। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো বইটির সহজ-সাবলিল ভাষা। লেখক বইটি শুধু মুসলিম নয়, বরং বিশ্বের সকল পাঠকের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, যেন তাঁরা মানুষ মুহাম্মদ (সা) কে জানতে পারেন, তাঁর মহত্ব একজন মানুষ হিসেবে উপলদ্ধি করতে পারেন। সেই সাথে বইটির লেখার ধরন এমন, যা আজকের যুগের একজন যেকোনো বয়সী মুসলিম, সে শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ যে-ই হোক না কেন, প্রিয় নবী মুহাম্মদকে (সা) একজন সম্মানিত মানব নয়, বরং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আরও কাছ থেকে অনুভব করতে পারবে।

বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ’ বইটি মূলত আত্মোন্নয়নমূলক বই হিসেবেই লেখা। তাই একে কেবল একটি ধর্মীয় বই বা ধর্মীয় পথপ্রদর্শকের জীবনী ভাবলে ভুল করা হবে। লেখকের গভীর জ্ঞান থেকে যুগের সাথে তাল মিলিয়েই যে মহানবী (সা) আজও কতটা অনন্য, আদর্শ এবং অনুকরণীয় তা-ই লেখক তুলে ধরেছেন যৌক্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যায়।

বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ
BUY NOW

লেখক বইটিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর জীবনকে সাতটি অধ্যায়ে বিভক্ত করে লিখেছেন-

  • মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শিশুকাল
  • রাসুল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবার
  • রাসুল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চারপাশ
  • মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কৈশোর
  • তরুণ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
  • চল্লিশের কোঠায় রাসুল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
  • পঞ্চাশের কোঠায় রাসুল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

অধ্যায়গুলোর বিষয়বস্তু-

  • মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শিশুকাল

প্রথমেই লেখক রাসুল (সা) এর ছয় বছর বয়সকালের বিভিন্ন ঘটনা ও ধাপ তুলে ধরেছেন। এই অধ্যায়ে পাঠক জানবেন কীভাবে মা ও দুধ মায়ের আদর ও শিক্ষায় নবীজীর (সা) ছোটবেলা কেটেছে। মরুজীবনের সংগ্রাম, পরিশ্রম ও দক্ষতা কীভাবে তাঁকে পরবর্তী জীবনের জন্য ছোটবেলা থেকেই গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে তারও বর্ণনা রয়েছে এই অধ্যায়ে। এছাড়া আজকের দিনে এসেও কীভাবে নিজের শিশুকে আদর-স্নেহ দেবেন, কীভাবে তার মানসিক বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস গড়তে সাহায্য করবেন এবং কীভাবে সন্তানকে অগ্রাধিকার দেবেন সেই শিক্ষা লেখক সম্পর্কিত করেছেন রাসুল (সা) এর ছেলেবেলা থেকেই।

  • রাসুল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবার

রাসুল (সা) এর পরিবার ও তাঁর বর্ধিত পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সাথে লেখক যেন পাঠকের ব্যক্তিগত পরিচয় হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন এই অধ্যায়ে। এই অভিজ্ঞতা অন্য অনেক বইতে খুব কমই পাওয়া যায়। এই সদস্যদের মহানবী (সা) এর বেড়ে ওঠায় ভূমিকা ও তাদের সাথে সম্পর্কিত জীবনের অনেক মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনার উল্লেখ রয়েছে অধ্যায়টিতে।

  • রাসুল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চারপাশ

সেই সময়ে নবী (সা) এর চারপাশের সমাজব্যবস্থার যে চিত্র তা-ই বাস্তবভাবে লেখক তুলে ধরেছেন পাঠকদের সামনে। নারীর প্রতি সহিংসতা, নোংরামি আর অধঃপাতের মাঝেও কীভাবে অনেকে সেই সমাজে ভিন্নধর্মী মাইলফলক হয়ে গিয়েছিলেন, তার শিক্ষণীয় বর্ণনাও রয়েছে। সমাজ নোংরামিতে নিমজ্জিত থাকলেও নিজেকে কীভাবে এর থেকে বাঁচিয়ে অনন্য হয়ে ওঠা যায় সেই শিক্ষাও পাওয়া যায় রাসুল (সা) এর জীবনাচার থেকে।

  • মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কৈশোর

কেমন ছিলো মুহাম্মদ (সা) এর কৈশোরকাল? আর দশটা সাধারণ কিশোরের অনুভব করতে পারার মতো করেই এই অধ্যায়টি লিখেছেন লেখক। আজকের যুগে এসে কৈশোরকালে সন্তানের প্যারেন্টিং, পিয়ার প্রেশার এর মতো বিষয়গুলোরও উল্লেখ যেমন আছে, তেমনই আছে নবীজীর কৈশোরকালকে অনুকরণ করে কিশোরদের ভালোবাসা, সমর্থন জানানো ও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলার দীক্ষা।

  • তরুণ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

২০ থেকে ৩০ বছর বয়সে প্রিয় নবী (সা) দেখতে কেমন ছিলেন, কেমন ছিলো তাঁর ব্যক্তিত্ব, বন্ধুত্ব, বৈবাহিক ও সামাজিক জীবন ও এর থেকে গ্রহণযোগ্য শিক্ষাগুলো সুন্দরভাবে, কাহিনী ও ঘটনার সাহায্যে বর্ণনা করা হয়েছে এই অধ্যায়ে।

  • চল্লিশের কোঠায় রাসুল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

নবী (সা) এর এই বয়সটি ছিল পরিবর্তন বহুল। সেই সাথে পরিবর্তন এসেছে কুরআনের আয়াত, মক্কাবাসীর জীবনব্যবস্থা ও বিশ্বে ইসলামের অবস্থানেও। মানুষের জীবন কেন, কীভাবে পরিবর্তনের জন্য তাড়িত হয় আর কীভাবে নতুন পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে হয়- নবীজীর (সা) নব্যুয়ত প্রাপ্তি থেকে বিশ্বনবী হয় ওঠার যাত্রা থেকে এই শিক্ষাগুলো লেখক অধ্যায়টিতে সংকলিত করেছেন।

  • পঞ্চাশের কোঠায় রাসুল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

শেষ জীবনের অধ্যায়ে এসে বদর, উহুদ ও নানা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মহানবী সাঃ এর নেতৃত্বের গুণাবলীর দিকটি তুলে ধরেছেন লেখক। যুদ্ধ ও শান্তির সময়ে একজন আদর্শ নেতা কেমন হবেন তাই বর্ণিত হয়েছে ইসলামী নয় বরং সাধারণ ও আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে। এই অধ্যায়টি পাঠকের নেতা হওয়ার অনুপ্রেরণা ও পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।

বিপুল তথ্যসমৃদ্ধ এই বইটি একেবারেই অযথা আবেগ বা ধর্মীয় একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা নয়। বইয়ের ভূমিকা পড়েই একজন পাঠক হয়তো তা আঁচ করতে পারবেন। মহানবী (সা)-কে কাছ থেকে জানার ও বোঝার জন্য ‘বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ’ বইটি নিঃসন্দেহে একটি অবশ্য পাঠ্য।

বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ বইটি পেতে 
Rokomari Editor

Rokomari Editor

Published 05 Dec 2018
Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh
  0      1
 

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png