এবারের বইমেলা মাতানো ইসলামী বই গুলো

ইসলামী বই

জন্ম থেকেই একটি শিশুর মনে ধর্মীয় মনোভাব গড়ে উঠতে থাকে। পরিবার এবং পরিবেশ তাকে সেই শিক্ষা দান করে। সেই শিক্ষায় আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বিভিন্ন প্রকার ধর্মীয় বই। ধর্মের ব্যবহার, বৈশিষ্ট্য, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, ধর্ম নিয়ে যুদ্ধ, ধর্মের রাজনৈতিক অর্থনীতির বিভিন্ন তর্ক-বিতর্কমূলক বই মানুষকে ধর্ম সম্পর্কে আরও সুগভীর ধারণা দিতে সাহায্য করে। পাঠককে ইসলাম ধর্মের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ বছরের বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত নানা প্রকার বই। ২০২০ সালের বইমেলার সাড়া জাগানো কিছু ইসলামী বই নিয়ে আলোচনা করা হলো।

১। স্মার্ট প্যারেন্টিং উইথ মোহাম্মদ (সাঃ)

বাংলাদেশি পাঠকনন্দিত অনুবাদক-লেখক মাসুদ শরীফ। তিনি বিভিন্ন ভাষার বই অনুবাদসহ নিজেও বই রচনা করে থাকেন। এবারের ২০২০ সালের বইলেমায় তার উপহার ইসলামী গ্রন্থ ‘স্মার্ট প্যারেন্টিং উইথ মোহাম্মদ (সাঃ)’।

WSDW
BUY NOW

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানব, প্রিয় নবী এবং বিশ্বাসীদের উসওয়াতুন হাসানা হযরত মুহম্মদ (সা) এর ছিল নানা রূপ। তার শত শত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অনন্য আরেক চরিত্রের সাথে পরিচিত করাতেই এই বইটি লিখেছেন মাসুদ শরীফ। নবীজীর পিতৃসুলভ আচরণ, শিশু সাহাবিদের সাথে তার ব্যবহার, আগামী প্রজন্মকে কীভাবে পথ দেখিয়েছেন- এই সকল বিষয়ই বইটির প্রধান অংশবিশেষ।

বইটি পড়ে পাঠক জানতে পারবেন কীভাবে হযরত মুহম্মদ (সা) শিশুদের চরিত্রগঠন করেছিলেন, তাদের মনে ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, আল্লাহ্‌ তায়ালার সাথে শিশুদের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন, ইসলামী জীবন অনুসরণে অভ্যস্ত করেছিলেন, শিশুদের জীবনে আসা নানা প্রতিকূল অবস্থাকে মোকাবিলা করতে শিখিয়েছিলেন এবং এমনই আরও নানা বিষয়। অর্থাৎ গ্রন্থটি সন্তান প্রতিপালনের নববি কর্মকৌশল জানাবে, এবং পাঠক তা নিজ নিজ জীবনেও অনুসরণ করতে পারবে।

২। প্রোডাক্টিভ মুসলিম

আত্মোন্নয়মূলক বই এর ঝুড়িতে যোগ হলো আরও একটি ইসলামী বই ‘প্রোডাক্টিভ মুসলিম’। বইটি লিখেছেন মোহাম্মদ ফারিস

fre
BUY NOW

তানজানিয়ায় জন্মগ্রহণকারী মোহাম্মদ ফারিস প্রোডাক্টিভমুসলিম.কম, একটি অনলাইন সামাজিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা, যেখানে তিনি মুসলিম বিশ্বের বিশ্বাসীদের আধ্যাত্মিক, শারীরিক এবং সামাজিকভাবে উৎপাদনক্ষম করতে বদ্ধপরিকরভাবে কাজ করেন। একই উদ্দেশ্যে, একই বার্তা মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের নিকট পৌঁছে দিতে তিনি গ্রন্থটি রচনা করেছেন। এখানে তিনি আত্ম-জাগরণ, আত্ম-নির্মাণ এবং আত্ম-বিকাশের নানা দিক তুলে ধরেছেন।

আমাদের স্রষ্টার দেওয়া অমূল্য সম্পদ মেধা এবং ধীশক্তি কাজে লাগিয়ে কীভাবে একজন ব্যক্তিগত জীবনে, নিজের পেশাগত জীবন এবং সমাজসেবামূলক কর্মের মাধ্যমে আত্মতুষ্টি অর্জন করে জীবনকে আলোকিত এবং অর্থবহ করে তুলতে পারে তার চমৎকার নিদর্শন গ্রন্থটি। এটি একদিকে পাঠককে নিয়ম মেনে ঘুম, খাওয়া দাওয়া, সময়ের ব্যবহারের গুরুত্ব অবগত করবে, অন্যদিকে কীভাবে আপনি একজন দ্বীনি মুসলিম, ব্যক্তিগত চাহিদা ভুলে সামাজিক পরিমণ্ডলে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করবেন সেই পথও বাৎলে দেবে। লেখক এই গ্রন্থে দেহ এবং আত্মার মিলবন্ধন প্রদর্শন করেছেন। আত্মা এবং আধ্যাত্মিক উন্নয়নের গুরুত্ব শুধু ইহকাল নয়, পরকালেও যে ব্যক্তিকে সফলতার পথে ধাবিত করতে পারে- সেটাই নানা যুক্তি-তর্ক-বিজ্ঞান দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন।

৩। হামাস: ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের ভেতর-বাহির

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী কিংবা সম্প্রদায়ের নাম কী? কেউ বলবে রোহিঙ্গা, কেউ বলবে ফিলিস্তিনি জনগণ। কোনো উত্তরই অবশ্য ভুল বিবেচিত হবে না। কিন্তু দুটি সম্প্রদায়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। রোহিঙ্গা সম্প্রদায় তাদের স্বদেশ কর্তৃক ভিনদেশী নাগরিক বলে গণ্য হয় এবং উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে আছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা আটকে আছে এক চিরন্তন সমস্যার মাঝে। তাদের জন্য স্বদেশ থেকেও নেই, নিজ বাসভূমেই তারা উদ্বাস্তুর মতো বসবাস করছে। কারণ ইসরাইল নামক কট্টর জায়নবাদী ও দখলদার রাষ্ট্র তাদেরকে প্রতিনিয়ত শোষণ করে চলেছে। এই শোষণ চলছে ইসরাইলের জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি।

ইসলামী বই
BUY NOW

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠিত হয়, তখন থেকেই এই কর্তৃত্ববাদী প্রক্রিয়ার সমালোচনা চলে আসছে। ফিলিস্তিনের মানচিত্র একটু একটু করে দখল করতে করতে ইসরাইল আজ ফিলিস্তিনিদের সিংহভাগ ভূখণ্ডই দখল করে ফেলেছে। তাদের এই দখলদারিত্ব লাগাম টেনে ধরতে এক চিরন্তন সংগ্রামে নিয়োজিত হয়েছে ফিলিস্তিনি জনগণ। আর স্বাধীনতার এই সংগ্রামে সর্বাগ্রে রয়েছে যে নামটি, সেটি হলো হামাস। এই সংগঠনটি আমেরিকা আর ইসরাইলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনিদের আশার প্রতীক হয়ে টিকে আছে। তাই মুসলিম বিশ্বে এই সংগঠনটির রয়েছে ব্যাপক সুনাম। বাংলাদেশেও এর বিপরীত নয়। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষেরা বরাবরই ফিলিস্তিনি মজলুম জনতার প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করে। হামাসের জনপ্রিয়তাও তাই এখানে অনেক বেশি। ফিলিস্তিন ও হামাসের সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের এই আগ্রহের কথা মাথায় রেখেই ‘হামাস: ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের ভেতর-বাহির’ বইটি রচনা করেছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং লেখক আলী আহমাদ মাবরুর। গার্ডিয়ান পাবলিকেশনসের এ বইটি হামাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম নিয়ে পাঠককে বিস্তারিত জানতে সহায়তা করবে।

৪। ইসলাম অ্যান্ড দ্য ফিউচার টলারেন্স 

স্যাম হ্যারিস ও মাজিদ নেওয়াজ রচিত আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার ‘ইসলাম অ্যান্ড দ্য ফিউচার টলারেন্স’ বইটি বাংলাদেশেই প্রকাশিত আরেক বেস্টসেলার ‘প্যারাডক্সিকাল সাজিদ’-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাজিদ ও তার নাস্তিক বন্ধুর কথোপকথনের মতো এই বইতে স্বয়ং দুই লেখকের সংলাপ তুলে ধরা হয়েছে। আর সংলাপের মাধ্যমেই এই ভেঙে দেবে অনেক কুসংস্কারের পর্দা, খুলবে জ্ঞানের নতুন ধারা, অনেক কিছু জানাবে ইসলাম সম্পর্কে।

ইসলামী বই
BUY NOW

লেখক স্যাম হ্যারিস হলেন একজন নাস্তিক। অন্যদিকে মাজিদ নেওয়াজ একজন ইসলামি স্কলার। স্যামের সংলাপে উঠে আসে ইসলাম ধর্মের সীমাবদ্ধতা, মাজিদের বক্তব্যে উঠে আসে সেসব অভিযোগের সুচিন্তিত ব্যাখ্যা। এসব ব্যাখ্যায় অনেক ক্ষেত্রেই গোঁড়ামি আর কুসংস্কারাচ্ছন্নতাকে খন্ডন করেছেন মাজিদ। আধুনিক কালের অনেক ধর্মতাত্ত্বিক মনে করেন, ইসলাম ধর্ম তথ্য-প্রযুক্তি আর বিশ্বায়নের এই পৃথিবীতে অনুপযুক্ত, মানিয়ে নিতে সক্ষম না। এই বইটির লক্ষ্য মূলত এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করা। ইসলাম ধর্ম যে আধুনিক সমাজের সাথে পুরোপুরি মানানসই, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংস্কারযোগ্য, সে বিষয়টিই বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে এ বইয়ে। বইটি অনুবাদ করেছেন ত্বাইরান আবির, প্রকাশ করেছে বাবুই প্রকাশনী।

৫।বেলা ফুরাবার আগে

খুব মন খারাপ? হৃদয়ের অন্দরমহলে ভাঙনের জোয়ার? চারপাশের পৃথিবীটাকে বিস্বাদ আর বিরক্তিকর লাগছে? মনে হচ্ছে, আপন মানুষগুলো দূরে সরে যাচ্ছে? হারিয়ে যাচ্ছে প্রিয়জন, প্রিয়মানুষ? কিংবা অযাচিত-অন্যায্য সমালোচনায় ক্ষতবিক্ষত অন্তর? নিন্দুকের নিন্দায় হৃদয়ের গভীরে দুঃখবোধের প্লাবন? এখনই পড়ে ফেলুন তবে ‘বেলা ফুরাবার আগে’।

ইসলামী বই
BUY NOW

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বের হবার পর অনেকরই সুপ্ত ইচ্ছা সাজিদ হবার। সাজিদ তৈরির প্রাথমিক খসড়া বললেও এটি মূলত আত্ম-উন্নয়নমূলক বই। দীনের পথে চলতে গিয়ে যে বাধা-বিপত্তি সামনে আসে—সে দিকগুলো নিয়ে মূলত আলোকপাত হয়েছে এখানে। কথা হয়েছে অমিত সম্ভাবনার সে অনন্য দ্বার নিয়েও, যা উন্মুক্ত করলেই মিলবে এক পরম-পবিত্র জীবন।

জীবনের কত বসন্ত চলে গেছে, ম্লান হয়ে গেছে কত ভোর। আবছা স্মৃতির মতো, জীবন আচ্ছন্ন হয়ে আসে ধূসরতায়। সময়ের সরল রেখা অস্ফুট হয় ক্রমে। পাখি সব নীড়ে ফেরে। নদী বয় মোহনায়। তবু কিছু মানুষ ভ্রান্তির মায়াজাল ছিঁড়ে আসতে চায় না ফিরে। মোহ-মায়ার বাঁধন ফুঁড়ে ছুটতে পারে না তারা আদিগন্ত অনন্তের পথে।

ফিরতে হবে তবু। বেলা ফুরাবার আগে। চিনে নিতে হবে পথ ঠিকঠাক। সন্ধ্যা-আঁধার ঘন হবার আগেই, জীবন তরিটিকে ভেড়াতে হবে কূলে। রাতেরও সমাপ্তি আছে। ক্লান্তিরও আছে অবসান। জীবন-জড়তার জোয়ার ছেড়ে নতুন করে ফের উঠতে হবে জ্বলে। নিজেকে পুনঃঝালিয়ে নিতে আজ তবে ডুব দেওয়া যাক ‘বেলা ফুরাবার আগে’।

অন্যান্য ইসলামি বইগুলো পেতে 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Published 05 Dec 2018
Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh
  0      0
 

comments (0)

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png