মহানবির স. রাজনৈতিক জীবন

মহানবির স. রাজনৈতিক জীবন

পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মহানবির স. আবির্ভাবপূর্বে গোটা বিশ্বসহ আরবের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নৈরাজ্যমূলক, বিশৃংখলাপূর্ণ এবং ভয়াবহ। গোত্রতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জোর যার মুল্লুক তার—এ সন্ত্রাসবাদী নীতিতেই রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ হতো তখন। গোত্রকলহ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, মারামারি, হানা-হানি লেগেই থাকত। কেন্দ্রীয় শাসন বা নিয়ন্ত্রণ বলে কিছু ছিল না। রাজনৈতিক এমনি শোচনীয় দুর্দিনে মহানবী স. আবির্ভূত হয়েছেন মানবতার মুক্তির দিশা নিয়ে। নৈরাজ্যপূর্ণ আরব ভূমিতে তিনি যে অবিস্মরণীয় রাজনৈতিক বিপ্লব সাধন করেছেন তা বিশ্বের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

রাজনীতি কী

রাজনীতিকে ইংরেজিতে ‘পলিটিক্স’ (politics) আর আরবিতে ‘আস-সিয়াসাহ’ (السياسة)। রাজার নীতিকেই একসময় রাজনীতি বলা হতো। পরে রাষ্ট্র পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিটি রাজনীতি বা রাষ্ট্রনীতি বলে পরিচিতি পায়। বর্তমানে অবশ্য রাষ্ট্রনীতি ও রাজনীতি পরিভাষা হিসেবে এক কথা নয়। রাষ্ট্র ও সরকারের যেরূপ পার্থক্য, রাষ্ট্রনীতি ও রাজনীতিতে তেমনি তফাত। অর্থাৎ রাষ্ট্রসংক্রান্ত বিষয়াদি হলো রাষ্ট্রনীতির অন্তর্ভুক্ত আর সরকার সম্বন্ধীয় কার্যকলাপকেই বলা হয় রাজনীতি।


রাজনৈতিক কার্যকলাপ

রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষমতা যাদের হাতে থাকে তাদের সংশোধন করা, তাদের কার্যাবলির সমালোচনা করা, তাদের নীতির ভ্রান্তি প্রকাশ করে জনগণকে সচেতন করা এবং এ জাতীয় যাবতীয় কাজকেই রাজনৈতিক কার্যাবলি হিসেবে গণ্য করা হয়। মৌলিকভাবে কায়েমি স্বৈরাচারী নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রচেষ্টাই হলো রাজনীতির প্রধান কাজ। ভ্রান্ত নীতি ও আদর্শে রাষ্ট্র পরিচালিত কর্তৃপক্ষকে সরিয়ে সঠিক শাসনব্যবস্থা চালু করাই আসল রাজনৈতিক কার্যকলাপ।

 

মহানবীর স. রাজনৈতিক দায়িত্ব

কুরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “তিনিই এ সত্তা যিনি তাঁর রসুলকে হেদায়াত ও দীনে হকসহ পাঠিয়েছেন, যাতে আর সব দীনের ওপর একে (দীনে হককে) বিজয়ী করে তোলেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট” (সুরা আল ফাতহ, ২৮)। একই দায়িত্বের কথা তিনি সুরা তাওবা (আয়াত ৩৩) এবং সুরা আস-সফ্‌ফে-ও (আয়াত ০৯) উল্লেখ করেছেন।

আল্লাহ তাআলা তাঁর রসুলকে পাঠাবার যে উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন সেটাই নবিজীবনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অর্থাৎ, দীনে হক দিয়ে তাঁকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে এবং মানবরচিত যাবতীয় দীনের ওপর আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আরও স্পষ্ট করে বলা যায়, দীন ইসলামরূপ পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধানটিকে একটি বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই সেই দায়িত্ব। দীন-ইসলাম মানবসমাজে বাস্তবায়ন করাই এ-দায়িত্বের লক্ষ্য। তিনি যা যা করেছেন, তা সে লক্ষ্য পৌঁছার জন্যই করেছেন।

দ্য লিডারশিপ অব মুহম্মদ
দ্য লিডারশিপ অব মুহম্মদ (হার্ডকভার) by জন এডেয়ার

BUY NOW

মহানবীর স. রাজনীতির লক্ষ্য

উপর্যুক্ত আয়াত থেকে মহানবির স. রাজনীতির লক্ষ স্পষ্টতই বোঝা যায়। তাঁর রাজনীতি ছিল ইসলামের জন্য। দেশ ও জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য। মানুষের হৃদয় মুকুরে ধর্মীয় চেতনাকে বদ্ধমূল করে আল্লাহ ভীরু চরিত্রবান মানুষ তৈরি করতে চেয়েছেন তিনি, যেন ধর্মীয় বিধান মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। কেননা, তাহলেই সমাজের বর্বরতা ও নৈরাজ্য দূর করা সম্ভব। পয়েন্ট আকারে এভাবে বলা যায় যে, তাঁর রাজনীতির লক্ষ ছিল :

১। আল্লাহর পৃথিবীতে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও তাঁর নির্দেশিত আইন প্রতিষ্ঠা করা।

২। শিক্ষা, অর্থ, সমাজ, সংস্কৃতির সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানানুগ পরিবেশ কায়েম করা।

৩। মানুষের মধ্যকার বৈষম্য, অনাচার, অবিচার, অন্যায় দূরীভূত করে সাম্য, শান্তি, শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও সুষম শাসনের ব্যবস্থা করা।

৪। যোগ্য ও খোদভীরু নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।

৫। পরকালীন কল্যাণের পথকে সবার জন্য মসৃণ করে দেওয়া, যেন পার্থিব প্রবঞ্চনার গোলকধাঁধায় তার চিরায়ত জীবন বরবাদ হয়ে না যায়।

 

মহানবির স. রাজনীতির বৈশিষ্ট্য

মহানবির রাজনীতির তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল :

১। চারিত্রিক ও নৈতিক শক্তি : সকল নবির (আলাইহিমুস সালাম) রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, তাঁদের চারিত্রিক ও নৈতিক শক্তি। তাঁদের নিষ্কলঙ্ক দীর্ঘজীবন যে নিঃস্বার্থপরতার পরিচয় বহন করে তা অন্য কোথাও সমপরিমাণে পাওয়া যায় না। মহানবির স. রাজনীতিতে এ নিঃস্বার্থপরতা ও নৈতিকতার বৈশিষ্ট্য সমুজ্জ্বল ছিল। এ জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও সস্তা শ্লোগান কার্যকরী হয়নি। তাঁর নিঃস্বার্থ চরিত্রের প্রভাবকে শুধু রাজনৈতিক কার্যকলাপের দোহাই দিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল না।

২। উপায়-উপকরণের পবিত্রতা : তিনি কোনও অন্যায় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী উপায় অবলম্বন করে রাজনীতি করেননি। তাঁর দুশমনদের সঙ্গেও তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশ পোষণ করতেন না। চরম শত্রুও যদি ইসলামের আদর্শ গ্রহণ করে তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিতে রাজি হতো তাহলে তিনি পূর্বের সব দোষ মাফ করে দিতেন।

৩। উদ্দেশ্যের নিষ্কলুষতা : ইসলামের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাই তাঁর কাম্য ছিল। ব্যক্তি প্রতিষ্ঠা যদি তাঁর উদ্দেশ্য হতো তাহলে শুরুতেই তিনি মক্কার নেতৃত্বের প্রস্তাব মেনে নিয়ে বাদশাহ হতে পারতেন।

—এ তিনটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য রসুলের রাজনীতিকে স্বার্থপর ও দুনিয়াদারদের রাজনীতি থেকে পৃথক মর্যাদা দান করেছে।

মহানবী (সা:) -এর চিঠি চুক্তি ভাষণ
মহানবী (সা:) -এর চিঠি চুক্তি ভাষণ (হার্ডকভার) by মো. এমদাদুল হক চৌধুরী

BUY NOW

রাজনৈতিক জীবনের সূচনা

‘দীনে হককে আর সব দীনের ও্পর বিজয়ী করা’ সংক্রান্ত যেই দায়িত্বের কথা আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বলেছেন, সবগুলোই অবতীর্ণ হয়েছে মদিনায়। মদিনার ছিল সময়টি ছিল আল্লাহর বিধান প্রয়োগের সময়। আর মক্কার সময়টি ছিল মনন-মানসের প্রস্তুতিকাল। অর্থাৎ, ৪০ বছর বয়সে নবুয়তপ্রাপ্তির মক্কায় যেই সময়টুকু মহানবি কাটিয়েছেন, তখন তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ, জাগতিক উপায়-উপকরণ বলতেও তেমন কিছু তাঁর হাতে ছিল না। তাই তিনি তাঁর মহান রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য তখন যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন বলা যায়। আর হিজরতের পর থেকে মদিনার জীবনে তা একটা একটা করে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপ

অনুসারী গঠন : মক্কার ১৩ বছরে আবু বকর, ওমর, ওসমান, আলী ও আবুযর গিফারি’র (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মতো সমাজের বেশ কিছু সেরা মানুষসহ মক্কার ৪৩৫, মদিনার ২০০ এবং হাবশায় হিজরতকারী প্রায় ১০০ লোকসহ মোট সাড়ে সাত শতাধিক ব্যক্তিকে তিনি ইসলামের ছায়াতলে শামিল করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই সংখ্যাই মদিনায় হিজরতের পর এক বছরের মধ্যে প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে তিন হাজারে গিয়ে দাঁড়ায়।

দপ্তর প্রতিষ্ঠা : মাক্কি জীবনে তাঁর কর্মকাণ্ডের সুবিধার জন্য কাবা শরিফের পাশেই আরকাম ইবনে আবুল আরকামের রা. বাড়িতে একটা কেন্দ্রীয় দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটিকে রাজনৈতিক শেল্টার সেন্টারও বলা চলে। এখানে গোপনে এসে নবমুসলিমরা যাবতীয় কর্মসূচীর সংবাদ সংগ্রহ করতে পারতেন। এবং প্রাথমিক শিক্ষা, নতুন খোদায়ি বিধান এবং নবীজির নির্দেশনার কথাও জানতে পারতেন।

আরও পড়ুন ব্লগ “মানুষ মুহাম্মদ(সা)কে জানতে চান? তাহলে পড়ুন অনবদ্য এই বইটি

সাহাবিদের আবিসিনিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে পাঠানো : নবীজি স. যখন দেখলেন, তার সাহাবি ও সঙ্গীদের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে এবং তিনি তাদের সুরক্ষা দিতে ও সামলে রাখতে সক্ষম হচ্ছেন না, তখন তিনি তাদের বললেন, যদি তোমরা বের হয়ে আবিসিনিয়ার দিকে চলে যাও, তাহলে ভালো হবে। সেখানকার যিনি বাদশা, তার প্রভাবে কেউ অন্যের ওপর জুলুম করে না। সেটা বেশ ভালো দেশ। সেখানেই থাকো, যতদিন আল্লাহ তোমাদের জন্য মুক্তি ও উন্মুক্ত কোনো ব্যবস্থা না করে দেন।

প্রথমে সাহাবিদের ১০ জনের একটি দল (পরে তা বেড়ে ৮৩ জনে পৌঁছে) আবিসিনিয়া অভিমুখে হিজরত করেন। তারা সেখানে অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) গ্রহণ করেন। পরে মদিনা মুসলিমদের আবাসভূমি হয়ে উঠলে তারা সেখান থেকে মদিনায় চলে আসেন। আবিসিনিয়া হিজরতের একমাত্র কারণ কোরাইশের নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাওয়া নয়, বরং ইসলাম প্রচার এবং নবিজির স. দুশ্চিন্তা খানিকটা কমানোও এর উদ্দেশ্য ছিল। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গেও মহানবির অনুসারীদের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র তৈরি হয়।

হিজরতের পূর্বে মদিনাবাসীর সঙ্গে চুক্তি : হজের মৌসুমে ইয়াসরিব’র (মদিনার পূর্বনাম) অধিবাসীরা মক্কায় এলে মহানবি তাদের সামনে দীনের দাওয়াত তুলে ধরেন। তারাও নবজিকে জানান যে, “আমরা আমাদের জাতিকে রেখে এসেছি। এই জাতির ভেতরে যতটা অন্যায়, বিশৃঙ্খলা ও বিভেদ আছে, ততটা অন্য কোনো জাতির মধ্যে নেই। হতে পারে, আপনার মাধ্যমে আল্লাহ তাদের ঐক্যবদ্ধ করে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা যদি তাদের ঐক্যবদ্ধ করে দেন, তাহলে আপনার চেয়ে অধিক সম্মানের পাত্র আর কেউ হবে না।”

তারা আকাবার কাছেই একটি গিরিপথে সমবেত হন। রাতের তিনের একাংশ পার হলে তাদের সংখ্যা ছিল ৭৩ জন; যাদের মধ্যে দু’জন নারীও এসে ছিলেন। রাসুল স. সেখানে আগমন করেন। তার সঙ্গে তার চাচা আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিবও ছিলেন। তাদের থেকে তিনি এই প্রতিশ্রুতি নেন যে, তারা নবীজিকে সুরক্ষিত রাখতে ততটা যত্নবান হবে এবং যতটা যত্ন রাখে নিজেদের স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি। নবীজিও তাদের বলেন যে, তিনি তাদের নি:সঙ্গ ও সহায়হীন অবস্থায় ছেড়ে দেবেন না এবং নিজ জাতির কাছেও ফিরে যাবেন না। তিনি তাদেরই একজন হয়ে থাকবেন। তারা যার সঙ্গে যুদ্ধ করবে, তিনিও তার সঙ্গে যুদ্ধ করবেন, যার সঙ্গে সন্ধি করবে, তিনিও তার সঙ্গে সন্ধি করবেন।

এই প্রতিশ্রতিই মদিনায় নবীজির অবস্থান শক্তিশালী করে তোলে।

প্রাথমিক জরিপ : বুখারির ‘কিতাবুল জিহাদ’-এ উল্লেখ আছে, দ্বিতীয় হিজরিতে ইদুল ফিতর উপলক্ষে নবিজ স. মুসলিম জনগণের একটা পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে একটি দফতরের মধ্যে তা সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেন। এটা ছিল একই সঙ্গে একটি প্রয়োজনীয় জরিপকার্য এবং একটি আদমশুমারিও বটে। ইতিহাসে এটিই প্রথম লিপিবদ্ধ আদমশুমারি।

মসজিদ নির্মাণ : নবীজি স. মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে (২৪ সেপ্টেম্বর, ৬২২ ইসায়ি) সর্বপ্রথম মসজিদে নববি নির্মাণ করেন। এটা একদিকে ছিল যেমন ইবাদাতের ঘর, তেমনি ছিল তার কর্মী ও সহচরদের পারস্পরিক সম্মিলনকেন্দ্রও।

মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা.
মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা. (হার্ডকভার) by নঈম সিদ্দিকী

BUY NOW

আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব বন্ধন : মদিনায় পৌঁছে তিনি আনাসের রা. ঘরে তার সঙ্গে মক্কা থেকে গমনকারী ও মদিনায় যারা তাদের অভ্যর্থনা জানিয়েছেন, উভয়পক্ষকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে মানব ইতিহাসে এক অসাধারণ কাজ সম্পন্ন করেন। মক্কাবাসীদের বলা হতো মুহাজির এবং মদিনাবাসীরা হলেন আনসার। রসুল স. আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে একে অন্যের সমব্যথী, সহমর্মী, সমবেদনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে মিত্রতা অঙ্গীকারেও বেঁধে দেন।  এই ভ্রাতৃবন্ধন আপন বৈশিষ্ট্যের বিবেচনায় অনন্য, ইসলামি ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের বুনিয়াদ এবং এমন একটি দাঈ উম্মত প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত, যারা একটি নতুন পৃথিবী বিনির্মাণের জন্য মুখিয়ে আছে, যারা বিশুদ্ধ ও সুনির্দিষ্ট বিশ্বাস, জগতকে দুর্ভাগ্য ও বিশৃঙ্খলার হাত থেকে মুক্তি দেয়ার মতো সৎ উদ্দেশ্য, ঈমান ও অর্থপূর্ণ ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যবদ্ধ কর্মতৎপরতার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্যে উঠে দাঁড়াচ্ছে।

আওস-খাজরাজের বিরোধ মীমাংসা : মদিনার প্রধান দুটি গোত্র আওস ও খাযরাজের মধ্যেও অনেক যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যার মধ্যে প্রথম ছিলো ‘সুমাইর’ যুদ্ধ, আর সর্বশেষ ছিলো ‘বুয়াস’ যুদ্ধ; যা হিজরতের ৫ বছর পূর্বে সংঘটিত হয়।  আওস ও খাজরাজ গোত্রের বহু দিনের বিবাদ মিটিয়ে মহানবি স. মদিনায় বসবাসকারী তিন শ্রেণীর মধ্যে ঐক্য, সংহতি, সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মদিনার সনদ প্রণয়ন করেন।

মদিনা সনদ : রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে এটাই পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান। মসৃণ পাতলা চামড়ায় লিখিত এ-সনদটি দীর্ঘকাল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নেতাদের কাছে ছিল। পরে তা হাদিস গ্রন্থগুলোতে সংরক্ষিত হয়েছে। এতে মহানবী স. কুরআনের নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে একটি লিখিত শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করেন। ইসলামের ইতিহাসে এই শাসনতন্ত্রকেই  বলা হয় ‘মদিনা সনদ’। আর এটাই পৃথিবীর প্রথম লিখিত শাসনতন্ত্র। এ সনদে ৪৭টি ধারা ছিল। এসনদে ধর্ম বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এখানে তিনি রাজনৈতিক ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এবং মুসলিম ও অমুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ভিত্তিতে সহনশীলতার মনোভাব গড়ে তোলার তাগিদ আরোপ করেন।

অন্যান্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ : তাঁর ১০ বছরের মাদানি জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বিভিন্ন বিবদমান গোত্রগুলো একটি কেন্দ্রীয় শাসনের আওতায় নিয়ে আসা, বিভিন্ন এলাকা ও গোত্রের সর্বমোট ২০৯টি প্রতিনিধিদলকে সাক্ষাৎদান, রাজনৈতিক লক্ষ্যে শতাধিক দূত প্রেরণ, তৎকালীন সময়ের দুই পরাশক্তি পারস্য এবং রোম সম্রাটসহ চার শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির কাছে দাওয়াতিপত্র প্রেরণ, বিদ্রোহীদের দমন, বৈরী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, আভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর অধিকার প্রদান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ইত্যাদিসহ নানান সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করেন। অসাধারণ রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কারণেই মাত্র ১০ বছরে মুসলিম জনসংখ্যা ৭০০ থেকে প্রায় ১০ লাখে উন্নীত হয়। মাত্র ছয় বর্গমাইলের ইসলামি অঞ্চলের পরিধি পৌনে ১২ লাখ বর্গমাইলে বিস্তৃতি লাভ করে। বিদায় হজেই অংশগ্রহণকারী সাহাবিদের সংখ্যা ছিল সোয়া লাখের উপরে।

মুহাম্মাদ সা. ব্যক্তি ও নবী
মুহাম্মাদ সা. ব্যক্তি ও নবী (হার্ডকভার) by মনযূরুল হক, শায়খ সালেহ আহমদ আশ-শামী

BUY NOW

ইসলামি অঞ্চল, শাসনব্যবস্থা ও রাজনীতি বিষয়ক বইসমুহ পেতে ক্লিক করুন!

নেতৃত্ব গঠনে মহানবির স. নীতি

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সঠিক নেতৃত্বের নীতি ব্যতীত যে-কোনও আন্দোলন পণ্ড হতে বাধ্য। নেতৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিগণ কোনও আদর্শকে গ্রহণ না করলে তা বাস্তবায়িত হতে পারে না। এটা কিছুতেই সম্ভব নয় যে, কোনও আদর্শের বিপরীত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় সমাজে সে আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই মহানবি স. এক্ষেত্রে তিনি বেশ কয়েকটি নীতি অবলম্বন করতেন। তার মধ্যে কয়েকটি হলো :

কায়েমি নেতৃত্ব পরিবর্তনের কর্মপন্থা : কোনও নবিই প্রচলিত নেতা বা শাসকদের নিকট নেতৃত্ব দাবি করেননি। তেমনি মহানবি মুহাম্মাদ স.-ও মক্কা ও অন্যান্য স্থানের নেতৃবৃন্দ ও শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতই পেশ করেছেন; তাদের কর্তৃত্ব পরিত্যাগ করার আহ্বান জানাননি। সকল নবি তাঁদের দাওয়াত নেতাদের নিকট পেশ করেছেন, প্রত্যেক রসুলই সমাজের নেতৃস্থানীয় যাদের নিকট দাওয়াত পেশ করতে আদিষ্ট হয়েছেন। সেখানে এ-কথাও প্রমাণিত হয়েছে যে, সমাজপতিগণ প্রত্যেক রসুলেরই বিরোধিতা করেছে। তবু মহানবি স. প্রথমে নেতাদের ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করলেন। তারা কবুল না করলেও তাদের নিকট দাওয়াত পৌঁছাবার ফলে সমাজের অনেক লোকের নিকটই ইসলামের আওয়াজ পৌঁছবার সুযোগ হলো। প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব ইসলাম কবুল করতে রাজি না হওয়ায় তার সহচরদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করা ব্যতীত আর কোনও পথই রইল না।

নেতা নির্বাচন : রাজনীতিতে নেতা নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়। মহানবি স. নেতা নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেবলমাত্র যিনি যোগ্য ও বিশেষজ্ঞ নিরপেক্ষভাবে তাকেই মনোনীত করতেন। এ ক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট কিংবা ক্ষমতা বা পদের জন্য লালায়িত ব্যক্তিকে নেতা নির্বাচন করতেন না। এ মর্মে তিনি সকলের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন,  ‘‘আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, আমি এই দায়িত্বপূর্ণ কাজে এমন কোনও ব্যক্তিকে নিয়োগ করব না, যে তা পাওয়ার জন্য প্রার্থী হবে, অথবা এমন কাউকেও নয়, যে তা পাওয়ার জন্য লালায়িত হবে।’’

জনগণের সেবক : তিনি বলেছেন, ‘সাইয়্যিদুল কওমি খাদিমুহুম’; অর্থাৎ নেতা হবেন জনগণের সেবক। তিনি তাঁর অনুসারীদের এভাবেই তৈরি করেছিলেন। ফলে প্রসাশনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত ব্যক্তিরা নিজেদের জনগণের সেবকের ভূমিকায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

জবাবদিহিতা : নবীজির রাজনৈতি কর্মকাণ্ড পরিচালনার মূলনীতি ছিল, কর্তৃত্ব, ক্ষমতা ও অর্থ-সম্পদ আল্লাহ ও মুসলমানদের আমানত। আল্লাহভীরু ও ন্যায়পরায়ণ লোকদের হাতে তা ন্যস্ত থাকবে। কেউ ইচ্ছামত তা খিয়ানত করার অধিকার রাখে না। এ আমানত যাদের হাতে সোপর্দ করা হবে তারা এর দায়িত্ব পালন সম্পর্কে  জবাবদিহি করতে বাধ্য। আল্লাহ বলেছেন, ‘‘আমানত বহনের যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে আমানত সোপর্দ করার জন্য আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আর যখন মানুষের মধ্যে ফায়সালা করবে, ন্যায়নীতির সাথে ফায়সালা করবে, আল্লাহ তোমাদেরকে ভাল উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন।’’ (সুরা নিসা, ৫৮)

পরামর্শ সভা গঠন : কুরআনে নবীজিকে স. পরামর্শের ভিত্তিতে কার্যনির্বাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি তাই মজলিসুস শূরা বা পরামর্শ সভা গঠন করেন। মজলিসুস শূরা গঠনে রসুল স. একটি কৌশল অবলম্বন করেন। তা হলো এ পরামর্শ সভাকে গতিশীল ও সার্বজনীন করার জন্য মদিনার বাইরে এমনকি আরবীয় গন্ডির বাইরের কয়েকজনকে এর সদস্যভুক্ত করেন। মুহাজির ও আনসারী বিজ্ঞ সাহাবি ছিলেন এ সভার অন্যতম সদস্য। সভার সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করতেন এবং তাদের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। যদিও কুরআন তাকে যে অলঙ্ঘনীয় ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে তার প্রেক্ষিতে তিনি সে সব পরামর্শ গ্রহণ বা বর্জন করার এখতিয়ার রাখতেন তবু তিনি সাহাবীদের সঙ্গে পরামর্শ করার পর যে মতটি অধিক সঠিক ও কল্যাণকর মনে করেছেন সেটিই গ্রহণ করেছেন। নবীজির পরামর্শ গ্রহণের নীতি থেকে বোঝা যায়, নেতা পরামর্শ চাইবেন সংশ্লিষ্ট লোকেরাও পরামর্শ দিবে; কিন্তু তার নিকট যে পরামর্শ অধিক সঠিক ও কল্যাণকর মনে হবে তা তিনি গ্রহণ করবেন।

নবীজির যুদ্ধজীবন : পাঠ ও পর্যালোচনা
নবীজির যুদ্ধজীবন : পাঠ ও পর্যালোচনা (হার্ডকভার) by ডঃ আলী মুহাম্মাদ সাল্লাবী

BUY NOW

প্রতিরক্ষা ও সামরিক নীতিনির্ধারণ

বিপ্লবী রাজনৈতিক কার্যাবলিতে কায়েমি স্বার্থের সঙ্গে সংঘর্ষ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তাই চরম পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা ও সামরিক আয়োজন চূড়ান্ত করে রাখতে হয়। নবগঠিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা চিরকাল একটি জটিল সমস্যা বলে চিহ্নিত হয়ে থাকে। মহানবি স. এ সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অপূর্ব অসম সাহসিকতা, ও অপূর্ব দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। মদীনায় মাত্র ১০ বছরের জীবনে তাকে ছোট বড় ৮০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করতে হয়। এর মধ্যে ২৭টি তিনি নিজেই সেনাপতির ভূমিকা পালন করেন। যদিও এর মধ্যে মাত্র ০৯টিতে যুদ্ধে সশস্ত্র সংঘাত ঘটে। এবং এর প্রত্যেকটিতেই এসব যুদ্ধে বিজয় অর্জন রসুলের স. অপূর্ব যুদ্ধকৌশলের বারতা বহন করে। রসুলের জীবনে সংঘটিত এই যুদ্ধগুলো ছিল প্রতিরক্ষামূলক। কেননা তিনি যুদ্ধবাজ বা সম্রাজ্যবাদী ছিলেন না। উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে হামলাও করেননি। বহুবিধ হুমকি ও বিপদের মুখে তিনি অল্পসময়ে দক্ষ সামরিক সংগঠন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলেন। বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে এ সংগঠন যথারীতি এক উন্নত সেনাবাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অপরদিকে তেমনি এক অভিনব রণকৌশল অনুসরণ করেন। ফলে তিনি তার এ সেনা সংগঠনের সহযোগিতায় সমগ্র আরব উপদ্বীপ তাঁর পদানত হয়।

রসুল স. কোনও অভিযান প্রেরণকালে তিনি সেনা-অধিনায়কদের অভিযানের সহায়ক দিক নির্দেশনা এবং এর কৌশল ব্যাখ্যা করতেন। তিনি নারী ও শিশুদের আক্রমণ করতে নিষেধ করতেন, অমুসলিম ধর্মগুরুদের আঘাত করতে বারণ করতেন, অন্যায়ভাবে কোনও গাছপাল ও পশুপাখিও যেন ক্ষতিগ্রস্ত না-হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে বলতেন। বন্দিদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের নজির তো ছিল এমন যে, সাহাবায়ে কেরাম নিজেরা অভুক্ত থেকেও তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন।

পররাষ্ট্রনীতি
রাজনীতিতে বিদেশনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মহানবি স. আরব উপদ্বীপের বাইরের অঞ্চলগুলোতে লোক প্রেরণ করে ইসলামের দাওয়াতের সর্বজনীনতা নিশ্চিত করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধানদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বৈদেশিক নীতির ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেন। তার লক্ষ্য ছিল একটি শক্তিশালী ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করা এবং যাবতীয় উপায় উপকরণকে কাজে লাগিয়ে সারা পৃথিবীর সকল জাতি ও দেশকে ইসলামি বিধান বাস্তবায়নের আহবান জানানো। কেননা, রাজতান্ত্রিক যুগে আল্লাহর অজস্র বান্দা রাজাদের গোলামির যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল—তাদের না ছিল বিচার স্বাধীনতা, না ছিল অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এবং না ছিল কোনও রাজনৈতিক অধিকার।

তদুপরি রসুল স. সমকালীন রাজা বাদশাদের চিঠি লিখতে গিয়ে প্রচলিত রীতিনীতি মেনে চলতেন—সিল মারার জন্য আংটি তৈরি করান এবং তাতে মুহাম্মাদ-রসুলুল্লাহ’ শব্দটা খোদাই করান। নিজের একটা স্বতন্ত্র রীতি ও পদ্ধতি চালু করেন—প্রত্যেক চিঠি ‘বিস্‌মিল্লাহির রহমানির রাহিম’ দিয়ে শুরু করতেন। প্রেরক হিসেবে নিজের নাম এবং যাকে চিঠি পাঠান তার নাম লেখাতেন। অত্যন্ত মাপা শব্দে ও সতর্ক ভাষায় বক্তব্য তুলে ধরতেন। সেই যুগের প্রেক্ষাপটে যে কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহারেও তিনি শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দেন। এ সব চিঠিতে অতি সংক্ষেপে এ বাক্যটি ব্যবহার করেন যে, ‘‘আল্লাহর সামনে নিজেকে সমর্পণ করুন শান্তি পাবেন।’’

সীরাতে রাসুল ﷺ বইসমগ্র দেখতে ক্লিক করুন!

সবিশেষ

মহানবির জীবনে রাজনীতি একটি ব্যাপক ও বিচিত্র অধ্যায়। সংক্ষিপ্ত কলেবরে তা নিয়ে আলোচনা করাও দুরূহ। আমরা সামান্য ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। আল্লাহ আমাদের সঠিক চিত্রটি বোঝার তৌফিক দিন। আমিন।

মনযূরুল হক

মনযূরুল হক

মনযূরুল হক। লেখক ও গবেষক। কওমি মাদরাসা থেকে তাকমিল এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন মাহির’স প্রডাকশন ও মুহাম্মাদ স. রিসার্চ সেন্টারে। গবেষণা করছেন ‘ইসলামি আইনের আলোকে বাংলাদেশের আইন : বৈপরীত্য ও সামঞ্জস্য’ বিষয়ে। প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে আশিক মিন ফিলিস্তিন (২০১৬), মুহাম্মাদ স.: ব্যক্তি নবী (২০১৮), রমজানে জীবন যাপন (২০১৯) উল্লেখযোগ্য।

comments (0)

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png
Loading