শিশু-কিশোরদের প্রতি প্রিয়নবী (সা.) এর স্নেহাশিস আচরণ

শিশু-কিশোরদের প্রতি প্রিয়নবী সা

শিশুরা মানববাগানের ফুল। এই ফুল একদিন প্রস্ফুটিত হবে। সুঘ্রাণ ছড়াবে চারদিকে। সমাজকে করবে মুখরিত। আলোকিত ও আন্দোলিত। তাই বাগানের মালির মতো শিশুর পরিচর্যা করতে হবে। নিতে হবে শিশুর যত্নআত্তি। কেননা তাদের হৃদয় কোমল ও পবিত্র। ফুলের মতোই সুন্দর তাদের জীবন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশু-কিশোরদের সঙ্গে স্নেহপূর্ণ, কোমল এবং বন্ধুসুলভ আচরণ করতেন। তিনি তাদের হাসি-আনন্দে যোগ দিতেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলতেন হাসিমুখে। তাদের সঙ্গে খেলা করতেন এবং মনপ্রাণ দিয়ে তাদের ভালোবাসতেন। তাদের চপলতায় তিনি কখনও অসন্তষ্ট কিংবা বিরক্ত হতেন না। যেকোনো শিশুকে তিনি নিজের সন্তানের মতো আদর-সোহাগ করতেন। তাদের দাবি-আবদার মেটাতে চেষ্টা করতেন। অন্যদেরকেও তাদের প্রতি কোমল ব্যবহারের  জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। তাদের প্রতি স্নেহাশিষ আচরণের তাগিদ দিতেন।

হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, নবী করিম সা. তাঁর নাতি হাসানকে চুমু খেলেন। সেখানে আকরা ইবনে হাবিস নামে এক সাহাবী বসাছিলেন। হাসানকে চুমু খাওয়া দেখে তিনি বললেন, আমার দশটি সন্তান রয়েছে। আমি তাদের কাউকে চুমু খাইনি। নবীজি তার দিকে তাকিয়ে বললেন, যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হবে না। [সহিহ বুখারি :  হাদিস ৫৬৫১; সহিহ মুসলিম : হাদিস ৬৫; সুনানে আবু দাউদ : হাদিস ৫২১৯] প্রিয়নবী সা. নিজে যেমন শিশুদের আদর-স্নেহ করতেন,  তেমন তার উম্মতকেও বলে গেছেন শিশুদের আদর-স্নেহ করতে। হাদিসে এসেছে হযরত আয়েশা রা. বলেন, এক গ্রাম্যব্যক্তি নবী করিম সা. এর কাছে আসল। নবীজি তাকে বললেন, তোমরা কি তোমাদের শিশুদেরকে চুমু খাও? সে বলল, আমরা তাদেরকে চুমু দিই না। নবী করিম সা. বললেন, তোমাদের অন্তরে যদি দয়া-মায়া না থাকে তাহলে আমার কী করার আছে? [সহিহ বুখারি : হাদিস ৫৬৫২; সহিহ মুসলিম : হাদিস ৬৪] অন্য এক হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, একবার এক ব্যক্তি নবী করিম সা. এর নিকট উপস্থিত হলো। লোকটির সাথে একটি শিশুও ছিল। নবীজি লোকটিকে বললেন, তুমি কি এই শিশুর প্রতি দয়া কর? সে বলল, হ্যাঁ। নবী করিম সা. বললেন, তাহলে এই শিশুর প্রতি তুমি যতটুকু দয়া করবে তারচে বেশি আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করবেন। তিনি দয়ালুর মধ্যে সবচে বড় দয়ালু। [আল আদাবুল মুফরাদ : হাদিস ৩৭৭]

উপর্যুক্ত হাদিসগুলো থেকে একথা বুঝা যায়, যারা শিশুদের প্রতি দয়া করবে আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি দয়া করবেন। আর যারা শিশুদের প্রতি দয়া করবে না আল্লাহও তাদের প্রতি দয়া করবেন না। তাই আমাদের শিশু-কিশোর বা ছোটদের প্রতি দয়াদ্র হতে হবে। তাদের সঙ্গে আদর-স্নেহ আর ভালোবাসার ব্যবহার করতে হবে। তাহলে আল্লাহও আমাদের প্রতি দয়া করবেন। কেননা আমাদের সমাজে বা পরিবারে, নিজেদের মধ্যে বা আত্মীয়দের ভেতর এমন অনেক শিশু-কিশোর রয়েছে- যাদের সঙ্গে আমরা রূঢ় ব্যবহার করি। একটু কিছু হলেই তাদের গায়ে হাত তুলি। এমনটা করা উচিত নয়। আমাদের নবীজি সা. এমন করতেন না।

শিশু-কিশোর বা ছোটদের প্রতি দয়া না করলে প্রিয়নবী সা. অনেক রাগ করতেন। হযরত উবাদাহ ইবনে ছামিত রা. বলেন, নবী করিম সা. ইরশাদ করেছেন, ওই ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয় যে আমাদের বড়কে সম্মান করে না এবং আমাদের ছোটকে দয়া করে না এবং আমাদের আলিমের হক রক্ষা করে না। [মুসনাদে আহমাদ : হাদিস ২২৬৫৪] শিশু-কিশোর বা ছোটদের প্রতি দয়া না করলে, আমরা নবীজি সা. এর  উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হবো না। কত বড় কথা! অথচ আমাদের ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও বাসায় কাজের ছোট ছেলেমেয়ে থাকে কিংবা যিনি কাজ করেন তার ছোট সন্তানাদি থাকে। আমরা অনেক সময় তাদের সাথে নির্দয় আচরণ করি। কারণ নবীজী বলেছেন, যে ছোটর প্রতি দয়া করে না সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং আমরা এমনটি কখনো করবো না। আর এক্ষেত্রে নবীজি সা. কেমন ছিলেন তার একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. একটানা ১০ বছর নবীজির খেদমত করেছেন। কিন্তু নবীজি কখনো তার গায়ে হাত তোলেননি, এমনকি কখনো এমন কথাও বলেননি যে, আনাস! তুমি এই কাজটি কেন করেছ, আর ওই কাজটি কেন করনি। অথচ আমরা একটু এদিক-সেদিক হলেই বাসার ছোট্ট কাজের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে অসৎ ব্যবহার করি।

সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম হলো-ছোটরা বড়দের সালাম দিবে। কিন্তু বড়রা ছোটদের সালাম দিবে না তা নয়।

কেননা নবীজি সা. ছিলেন সবার বড়। অথচ তিনি ছোটদের সালাম দিতেন। আর আমরা যদি ছোটদের সালাম না দিই তাহলে তারা কার কাছ থেকে সালাম শিখবে? হযরত আনাস রা. বলেছেন, রাসুলুল্লা সা. যখন আনসারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যেতেন তখন তাদের শিশুদের সালাম দিতেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন এবং তাদের জন্য দুআ করতেন। [সুনানে কুবরা নাসায়ি : হাদিস ৮২৯১; সহিহ ইবনে হিব্বান : হাদিস ৪৫১] একদিন নবীজি কোথাও যাচ্ছিলেন। কয়েকটি শিশু খেলা করছিল। নবীজি তাদেরকে সালাম দিলেন। আনাস রা. বলেছেন, আমিও একদিন কয়েকজন শিশুর সাথে খেলছিলাম। নবীজি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদেরকে সালাম দিয়েছেন [সহিহ মুসলিম : হাদিস ২৪৮২] নবীজির সালাম পেয়ে শিশুরা অবাক যেমন হত, অত্যন্ত খুশিও হত। সালামের কারণে কথা বলার জড়তা কেটে যেত। শিশুরা নবীজিকে ঘিরে ধরত। শিশুদের মধ্যে বড়দের সাথে কথা বলার ব্যাপারে আগ্রহ তৈরি হত। শিশুদের শেখার সুযোগও বাড়ত বৈ কি। নবীজি নিজ থেকেই শিশুদের কাছাকাছি যেতেন। সময় হলেও আনসারপাড়ায় চলে যেতেন। তাদের বাড়িঘরে গিয়ে শিশুদের খোঁজ-খবর নিতেন। নবীজিকে দেখেই শিশুরা আনন্দে আটখানা হয়ে চারদিক থেকে ছুটে আসত। নবীজির চারপাশে চক্কর কেটে ঘুরতে থাকত। নবীজি স্মিতহাসিতে শিশুদের সালাম দিতেন। পরমস্নেহে শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। তাদের জন্য দু‘আ করতেন। [নাসায়ি : হাদিস ৮৩৪৯] নবীজি শিশুদের সাথে শুধু খেলাই করতেন না, তাদেরকে বিভিন্ন বিষয় শিক্ষাও দিতেন। তাদেরকে আল্লাহর পরিচয়, ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, তাওহিদের মূলনীতিও শিক্ষা দিতেন। জীবনযাপনের আদব-কায়দাও তাদেরকে হাতেকলমে বুঝিয়ে দিতেন। আনাস বিন মালেক রা. বলেছেন, নবীজি একদিন তাকে কাছে ডেকে বললেন, হে বৎস! ঘরে প্রবেশের সময় গৃহবাসীকে সালাম দিবে। এই সালাম তোমার ও তোমার ঘরবাসীর জন্য বরকত নিয়ে আসবে। [তিরমিজি : হাদিস ২৬৯৮] সালামের অনেক উপকারিতা রয়েছে। সালামচর্চার মাধ্যমে ঘরে ঘরে আল্লাহর রহমত, বরকত নেমে আসে। প্রভূত কল্যান আসে। সবচেয়ে বড় কথা, ঘরের মানুষদের মধ্যে সৌহার্দ-সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়। একজন শিশু ছোটবেলা থেকে সালামে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে, তার মধ্যে আচরণগত জড়তা থাকে না। তার মধ্যে অন্তর্মুখী স্বভাব বাসা বাঁধার সুযোগ পায় না। সালাম একটি শিশুকে জড়তাহীন স্মার্ট ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করে।

নামাজের মতো মহান ইবাদতেও রাসুলুল্লাহ সা. শিশুদের প্রতি খেয়াল রাখতেন। কেননা এমন ঘটনাও ঘটেছে, রাসুল সা. সিজদায় গিয়েছেন আর হাসান বা হুসাইন রা. তাঁর পিঠে চড়ে বসেছেন। ফলে তিনি দীর্ঘ সময় সিজদায় থাকতেন। (অপেক্ষা করতেন কখন তারা পিঠ থেকে নামবে)। [সুনানে নাসায়ি : হাদিস ১১৪১; মুসনাদে আহমাদ : হাদিস ২৭৬৮৮; মুসতাদরাকে হাকেম : হাদিস ৪৭৭৫] আর প্রিয়নবীর প্রিয় দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন প্রতি রাসুল সা. এর ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে, অবসরে তাঁদের দুজনকে বুকে জড়িয়ে রাখতেন এবং যারা তাঁদের ভালোবাসবে তাদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। উসামা ইবনে জায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, এক রাতে আমার কোনো প্রয়োজনে নবী সা. এর কাছে গেলাম। অতএব নবী সা. এমন অবস্থায় বাইরে এলেন যে একটা কিছু তাঁর পিঠে জড়ানো ছিল, যা আমি অবগত ছিলাম না। আমি আমার প্রয়োজন সেরে অবসর হয়ে প্রশ্ন করলাম, আপনার দেহের সঙ্গে জড়ানো এটা কী? তিনি পরিধেয় বস্ত্র উন্মুক্ত করলে দেখা গেল তাঁর দুই কোলে হাসান ও হুসাইন রা.। তিনি বলেন, এরা দুজন আমার পুত্র (দৌহিত্র) এবং আমার কন্যার পুত্র। হে আল্লাহ! আমি এদের দুজনকে ভালোবাসি। সুতরাং তুমি তাদের ভালোবাসো এবং যে ব্যক্তি এদের ভালোবাসবে, তুমি তাদেরও ভালোবাসো। [তিরমিজি : হাদিস ৩৭৬৯] হুসাইন রা. এর প্রতি রাসুল সা. এর ভালোবাসার মাত্রা কতটুকু, তা আরেকটি ঘটনা দ্বারা আরো বেশি উপলব্ধি করা যায়। একদিন হুসাইন রা. গলির মধ্যে খেলছিলেন। প্রিয়নবী সা. সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি লোকদের অগ্রভাগে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর দুই হাত প্রসারিত করে দিলেন। বালকটি এদিক-ওদিক পালাতে থাকল। কিন্তু নবী সা. তাকে হাসতে হাসতে ধরে ফেলেন। এরপর তিনি তাঁর এক হাত ছেলেটির চোয়ালের নিচে রাখলেন এবং অন্য হাত তার মাথার তালুতে রাখলেন। তিনি তাকে চুমু দিলেন এবং বলেন, হুসাইন আমার থেকে এবং আমি হুসাইন থেকে। যে ব্যক্তি হুসাইনকে ভালোবাসে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ভালোবাসেন। হুসাইন আমার নাতিদের একজন। [ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪৪] সুতরাং আমরা যদি আল্লাহর ভালোবাসা পেতে চাই তাহলে অবশ্যই রাসুল সা. এর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা স্থাপন করতে হবে। তিনি যাদের ভালোবাসতেন তাদেরও ভালোবাসতে হবে।

শিশু-কিশোরদের প্রতি প্রিয়নবী সা. এর ভালোবাসার তুলনা ছিল না। ফলে তারাও প্রিয়নবীকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। আবদুল্লাহ বিন জাফর রা. বলেন, মহানবী সা. যখন কোনো সফর শেষে বাড়িতে ফিরতেন, তখন বাচ্চারা তার আগমনের পথে গিয়ে অভ্যর্থনা জানাত। একবার তিনি তার সফর থেকে এসে আমাকে তার বাহনের সামনে বসালেন। অতঃপর নাতি হাসান, হোসেন রা.কে বাহনের পেছনে বসালেন। তারপর আমাদের নিয়ে তিনি মদিনায় প্রবেশ করলেন। [সহিহ মুসলিম : হাদিস ৬৪২১] মক্কা বিজয়ের পর যখন মহানবী সা. মক্কা শহরে আগমন করেন, তখন কিছু ছোট বাচ্চা তার কাছে আসলে তিনি তাদের আদর করেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, বিজয়ীবেশে মহানবী সা. যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন আবদুল মুত্তালিব বংশের ছোট ছোট ছেলেরা তার কাছে আসে। তিনি তাদের একজনকে নিজ বাহনের সামনে বসালেন এবং অপরজনকে পেছনে বসালেন। [সহিহ বুখারি : হাদিস ১৭০৪] এমনই ছিল শিশুদের সঙ্গে রাসুল সা. এর ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। অথচ আমাদের অনেকে শিশুদের অপহরণ ও পাশবিক নির্যাতন করে নিজেদের কলঙ্কিত করছি। ক্ষেত্র বিশেষে পাষণ্ডতা ও রূঢ়তা প্রকাশ করছি।

স্নেহ-ভালোবাসা শুধু নিজের সন্তানদের প্রতি সীমাবদ্ধ রাখা নয়, বরং সব শিশুর ক্ষেত্রে স্নেহ ও ভালোবাসা প্রকাশ আবশ্যক। বিশেষ করে মা-বাবার মমতাবঞ্চিত এতিম শিশুদের স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ করা চাই। তাদের প্রতি সাহায্য-সহায়তার হাত বাড়ানো জরুরি। মহানবী সা. বলেন, আমি ও এতিমের প্রতিপালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব। একথা বলে তিনি তার তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলের মধ্যে সামান্য ফাঁক রাখেন। [সহিহ বুখারি : হাদিস ৪৯৯৮] আমাদের সমাজে অনেক এতিম শিশু রয়েছে। যারা অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে উঠছে। শিশুর প্রাপ্য অধিকার ও শিক্ষা-দীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাইলে তাদের দায়িত্ব নিতে পারি।

সর্বশেষ আমাদের সমাজে শিশুদের প্রতি কেমন আচরণ করা হয় তার একটি চিত্র তুলে ধরে লেখার ইতি টানবো। গত ২০২০ বিশ ছিল করোনার বছর। দৈনিক প্রথম আলোর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে- করোনা অতিমারির বছরেও দেশে নারী ও শিশু সহিংসতা থেকে রেহাই পায়নি। আগের বছরের মতো অব্যাহত ছিল সহিংসতা। সহিংসতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ধর্ষণ ও পারিবারিক সহিংসতা। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ২০ হাজার ৭১৩ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬ হাজার ৯০০ জন নারী। গত বছরের তুলনায় যা বেশি। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১২ মাসে ধর্ষণের শিকার হন ৬ হাজার ৭০০ জন। গত বছর নির্যাতনের শিকার হয় ২১ হাজার ৭৬৯ জন নারী ও শিশু। [দৈনিক প্রথম আলো : ৩১ ডিসেম্বর ২০২০]

আমরা দেখি ১৭ মার্চ এলেই পালন করা হয় জাতীয় শিশু দিবস। শিশুদের নিয়ে স্লোগানসর্বস্ব অনেক দাবি-দাওয়াই উত্থাপন করা হয়। আলোচনা করা হয় শিশুশিক্ষা ও অধিকার নিয়ে। সবচেয়ে বেশি যে কথা বলা হয় তা হলো, শিশুরা আগামীর কর্ণধার, জাতির ভবিষ্যৎ। তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমরা কত রুঢ় ও নির্দয় প্রথম আলোর এই রিরোর্ট থেকেই বুঝা যায়। সত্য হলেও তিক্ত যে, কায়েমি স্বার্থবাদী চিন্তা-চেতনা মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক করে তুলছে। ফলে মানুষে মানুষে বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনা দিন দিন বাড়ছে। নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না কোমলমতি শিশুরাও। শহরে-বন্দরে, গ্রামেগঞ্জে অপুষ্টিজনিত নানা রোগে প্রতিবছর হাজারো শিশু মৃত্যুমুখে ঢলে পড়ছে। দরিদ্রতা ও অসহায়ত্বের অভিশাপ নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে অনেকে। ক্ষুধার যন্ত্রণায়, অন্নের অন্বেষায় ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বহু শিশু। বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকে শিক্ষার পরিবর্তে হাতে তুলে নিচ্ছে শ্রমের যন্ত্রাদি। দোকানপাট বাসাবাড়িতে অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করেও অনেককে নামমাত্র বেতনে কাজ করতে হচ্ছে। বহু নরখাদক শিশু পাচারের মতো ঘৃণ্য ও জঘন্য কাজে লিপ্ত। এসব শিশুদের কেউ কেউ ভয়ংকর অপরাধী হয়ে উঠছে। পৃথিবীটা ক্রমেই যেন শিশুদের জন্য অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে। তাই আর নয় শিশু নির্যাতন। কোনো শিশু যেন প্রাপ্য অধিকার ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। আসুন শিশুদের সঙ্গে স্নেহাশিস মমতা ও ভালোবাসার আচরণ করি- যেমন করতেন আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

সন্তানকে ইসলামের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য বইগুলো সংগ্রহ করতে পারেন!

এমদাদুল হক তাসনিম

এমদাদুল হক তাসনিম

নির্বাহী সম্পাদক : মাসিক ইসলামী বার্তা, অর্থ সম্পাদক : বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম ই-মেইল: imdadtasnim@gmail.com

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Loading