মধ্যযুগের বাংলা সমাজ ও সাহিত্য কেমন ছিল তা জেনে নিন

bookshelf-books-old-antiquariat

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দী ‘অন্ধকারময় যুগ’। সাহিত্য রচনার কোনো অনুকূল পরিবেশ, সামাজিক স্থিতি সে সময়ে ছিল না। তুর্কি বিজয়ের ফলশ্রুতিরূপে বাংলাদেশে যে প্রবল সামাজিক ও রাষ্ট্রনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, তাতে সেই সময়পর্বে কোনো সাহিত্যিক নিদর্শন পাওয়া যায়নি, বরং পরবর্তী সময়ের জন্য সুযোগ্য প্রস্তুতিই যেন এই কালপর্বে সংঘটিত হয়েছিল, যার প্রকাশ ও পরিপূর্ণতা কয়েক শতাব্দী ধরে দেখা গেছে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘মধ্যযুগ’ বলতে খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কালকে বোঝায়। মধ্যযুগের কাব্যভাবনা ও রচনার বিবর্তনের পথরেখা অনুসরণ করে এই যুগের সাহিত্যকে তিনটি প্রধান উপচ্ছেদে ভাগ করা যায়-

(১) প্রাক-চৈতন্য পর্ব অর্থাৎ চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্ববর্তী পর্ব (চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দী)
(২) চৈতন্য পর্ব (ষোড়শ শতাব্দী)
(৩) চৈতন্যোত্তর পর্ব (সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতাব্দী)

সমগ্র মধ্যযুগ তো বটেই, আধুনিক যুগের জীবন ও সাহিত্যচিন্তা পর্যন্ত চৈতন্যদেবের বিপুল, সর্বাতিশায়ী প্রভাবে এমনভাবে প্রভাবিত, যার তুলনা সমগ্র বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতেই অতুলনীয়। সেই কারণে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ধারাকে তাঁরই নামাঙ্কিত করে উপবিভাগ করা হয়ে থাকে। প্রাক-চৈতন্যযুগে রচিত সাহিত্যের মধ্যে উল্লেখ্য বড়ু চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, কৃত্তিবাসী রামায়ণ, মালাধর বসুর শ্রীকৃষ্ণবিজয়, বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসের বৈষ্ণব পদাবলি, তিনটি ‘আদি মনসামঙ্গল কাব্য’

উত্তর-চৈতন্য যুগের সাহিত্যসম্ভারের মধ্যে রয়েছে বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যের ধারা, কাশীদাসী মহাভারত, চৈতন্য জীবনীসাহিত্য, মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল, অন্নদামঙ্গল, আরাকান রাজসভাশ্রিত কবিদের কাব্য, শাক্ত পদাবলি প্রভৃতি। পলাশির যুদ্ধ (১৭৫৭) বা ভারতচন্দ্রের মৃত্যু (১৭৬০) থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে যুগসন্ধিক্ষণ বলে।

খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীতে যে বাংলা সাহিত্যের সূচনা, তার প্রতিষ্ঠা পঞ্চদশ শতাব্দীতে।

ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতি যে তখন মূলত রাজকীয় মর্যাদার উপর নির্ভরশীল থেকেছে। বাংলা বাষার জন্মমুহূর্তে তা পালরাজাদের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিল। সেই সময়ে বাংলা ভাষায় গীতিকবিতার আকারে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের তথা সহজিয়াদের যে গানগুলি রচিত হয়েছিল, ‘চর্যাগীতি’ নামে পরিচিত সেই গানগুলিই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ধর্মসাধনার বিচারে চর্যাগীতি বাঙালি জাতি ও তার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য সম্পদ।

গৌড়বঙ্গে সেন রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে সেই গীতধারা এদেশে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির ধারক সেন রাজারা সংস্কৃতির বাহনরূপে সংস্কৃতকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ায় বাংলা ভাষা রাজদরবার থেকে নির্বাসিত হয়ে লোকজীবনকে আশ্রয় করেই আপন অস্তিত্ব বজায় রেখেছিল। সে ভাষায় সাহিত্য কিছু রচিত হলেও তা ছিল অনভিজাত মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। শ্রেণিহীন বৌদ্ধ, বর্ণহীন শৈব, অন্তঃপুরচারিণী এবং তথাকথিত শূদ্রেরাই ছিলেন তার ধারক ও বাহক। তাদের সাহিত্যের অধিকাংশই আবার লৌকিক ছিল বলেই, ছিল মৌখিকও। ছড়া, কথা, গানের আকারে সেই সাহিত্যের প্রচুর নিদর্শন এখনও বাংলার লোকসাহিত্যে প্রচলিত আছে।

আরও পড়ুন
ঢাকার মূর্খতা ও জড়তার কারণে হুমায়ূন এখনো যেভাবে অপঠিত
বাঙালি সমাজ ও সাহিত্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্মেষ (পর্ব-১)
বাঙালি সমাজ ও সাহিত্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্মেষ (পর্ব-২)

আরাকান রাজসভার কাব্যচর্চা

বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাসে চট্টগ্রামের রোসাঙ্গ রাজসভার বিপুল অবদান রয়েছে। রোসাঙ্গের রাজবংশ মগ এবং তাঁদের মাতৃভাষা আরাকান। চতুর্দশ শতাব্দীর প্রারম্ভে বাংলাদেশ ও আরাকানের মধ্যে যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সূত্রপাত হয়, তা পঞ্চদশ শতাব্দীর সূচনায় হোসেন শাহ যখন চট্টগ্রাম জয় করেন, তখন আরও গভীর হয়। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে চট্টগ্রাম বঙ্গসংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়।

চৈতন্যপ্রভাব ও সুফি পীরদের প্রভাবে এই অঞ্চলে কাব্য-সঙ্গীত চর্চা, অনুশীলন চলতে থাকে। চট্টগ্রাম ও নিম্নবঙ্গ অঞ্চলের শিক্ষিত মুসলিমেরা রাজসভায় উপস্থিত হলে তাদেরই আগ্রহে গৌড় দরবারের অনুকরণে আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্যের সমাদর ও পৃষ্ঠপোষকতার সূত্রপাত হয়।

আরাকানের সাহায্যে ভারতবর্ষের উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের প্রচলিত আরব্য উপন্যাস জাতীয় গল্প, লৌকিক কাহিনি বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে উপস্থিত হয়। তখনো কোন বাংলা উপন্যাস রচনা করা হয়নি। এসময়ে বহু লোকগীতি, প্রণয়কাব্যে চৈতন্য প্রভাবমুক্ত সাহিত্যের প্রথম প্রকাশ লক্ষ করা যায়। ষোড়শ শতাব্দীর চৈতন্য প্রভাব সপ্তদশ শতাব্দীতে কিছুটা শিখিল হয়ে পড়ার পাশাপাশি নব্য স্মার্ত চেতনার প্রতিষ্ঠা লক্ষ করা যায়। এ সময়ে বহু মুসলিম কবি আরবি-ফারসি লোককথার সাহায্যে সাধারণ মানুষের কথা সাহিত্যে নিয়ে এলেন লোকগাথামূলক প্রণয়কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে। আরাকান রাজসভায় মুসলিম কবিদের এসব রচনাকে চারটি ভাগে বিভক্ত করা যায় —-

(১) অনুবাদ সাহিত্য — আরবি-ফারসি লোককথা কাব্য, গল্প অবলম্বনে রচিত,
(২) রাধাকৃষ্ণ লীলাবিষয়ক পদ বা পদাবলি সাহিত্য
(৩) ধর্মগ্রন্থ অনুবাদ ও তান্ত্রিক যোগ বিষয়ক নিবন্ধ
(৪) বিদ্যাসুন্দর কাব্য মূলত অনুবাদ গ্রন্থ হলেও সাহিত্যে এদের ভূমিকা কম নয়। এই কাব্যবিভাগগুলির অন্যতম প্রধান কবিরা হলেন যথাক্রমে দৌলত কাজী, সৈয়দ আলাওল, মোহাম্মদ খান, সৈয়দ সুলতান, সাবিরিদ খান

সপ্তদশ শতাব্দীতে আরাকান রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-সংস্কৃতি উল্লেখযোগ্যতা দাবী করলেও সেই শতাব্দীর শেষদিকে আরাকানের রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাঙালি মুসলিমেরা ক্ষমতাচ্যুত হলে বাংলা সংস্কৃতির পূর্ব সমাদর আর থাকেনি। তবু চট্টগ্রামের শিক্ষিত মুসলিমেরা সাহিত্যচর্চা ছেড়ে দেননি। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ রাঢ়, ভুরশিট-মান্দারণ প্রভৃতি অঞ্চলে বাঙালি মুসলিমেরা এক বিশেষ সাহিত্য সংস্কৃতির কেন্দ্র গড়ে তোলেন। সিলেটের পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্বে সুলতানদের অধিকার বিস্তৃত হলে সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে বাঙালি মুসলিমদের সাহিত্যচর্চার অনুকূল পরিবেশ সৃজিত হয়। আরাকান ও চট্টগ্রামে মুসলিম অধিকার অবলুপ্ত হওয়ার পরেও সিলেট অঞ্চল ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত ইসলামি সাহিত্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল।

অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাংলাদেশে স্বাধীন নবাবি আমল শুরু হওয়ার আগে থেকেই বাঙালি মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে বাংলা শিক্ষার প্রসার হতে থাকে। সে সময়ে বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের বাহুল্য ছিল ধর্ম, ঘর, গৃহস্থালির কাজে, সমাজে ব্যবহৃত ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের ব্যাপক প্রচলন তখনও ছিল যা আজও বর্তমান। ইংরেজ আমল শুরু হলে কলকাতার মজদুর মুসলিমদের পাঠ্যগ্রন্থে যখন আরবি-ফারসির সঙ্গে বাংলা ও হিন্দির মিশ্রণ নিবিড় হয়ে উঠলে ইসলামি বাংলা তৈরি হল।

অষ্টাদশ শতাব্দী ও শাক্ত পদাবলি

১৭০৭ খ্রিস্টাব্দের পর (ঔরঙ্গজেবের মৃত্যু) বাংলার নবাবি রাজত্বেও কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার শিথিলতার প্রভাব অলক্ষণীয় থাকল না। নবাবদের বিলাসব্যসন মত্ততা, ষড়যন্ত্র, ভূস্বামীদের শোষণ, বর্গির হাঙ্গামা, অত্যাচার, পর্তুগিজ ও মগ জলদস্যুদের আক্রমণ—বাঙালিদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। বাঙালির দুঃখ চিত্রের কথা ও দুঃখ মুক্তির সুর শাক্ত গানগুলিতে পরম আকুলতায় ফুটে উঠেছে।

বাঙালির মাতৃভাবানুরাগের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ ঘটেছে এই গানগুলিতে। পল্লীনির্ভর বাঙালির পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের গভীর সুর এই গানগুলিতে ছত্রে ছত্রে মর্মরিত হয়ে উঠেছে। এই শাক্ত-সঙ্গীতের পথিকৃৎ সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন, যিনি কবিরঞ্জন নামে প্রসিদ্ধ।

খ্যাতনামা এই শক্তিসাধক, কবি ও গায়কের জন্ম আনুমানিক ১৭২০ খ্রিস্টাব্দে চব্বিশ পরগণার হালিশহরের নিকটবর্তী কুমারহট্ট গ্রামে। পিতা রামরাম সেন। খুব কম বয়সেই তার মধ্যে কবিত্বশক্তি ও ঈশ্বরভক্তি বিকশিত হয়। অবসর পেলেই শ্যামাবিষয়ক গান রচনা করে খাতায় লিখে রাখতেন। তিনি মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। তার গানগুলি রামপ্রসাদী সঙ্গীত নামে পরিচিত এবং সঙ্গীতগুলির সুর বা গীতিভঙ্গি বাংলার লোকসংগীতের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি বিদ্যাসুন্দর কাব্য রচনা করেছিলেন। কালীকীর্তন নামে তাঁর একটি ছোটো বইও রয়েছে।

তার আগে এমন ধরনের মাতৃগীতি বাংলা সাহিত্যে ছিল না। সহজ সরল ভাষায় ভক্ত প্রাণের আকুতি গানগুলির সম্পদ। তন্ত্রের গূঢ় তত্ত্বকথা গানগুলিতে থাকলেও তা দুর্বোধ্য ও নীরস হয়ে পড়েনি। রামপ্রসাদের অনুকরণে বহু কবি শাক্তসঙ্গীত রচনা করেছেন। শাক্ত গানের বিভিন্ন পর্যায়—-যেমন বাল্যলীলা, আগমনী, বিজয়া, জগজ্জননীর রূপ, মা কি ও কেমন, ভক্তের আকুতি ইত্যাদি। শাক্ত পদাবলির কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন —- কমলাকান্ত ভট্টাচার্য, অক্ষয়চন্দ্র সরকার, অতুলকৃষ্ণ মিত্র, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, এন্টনী সাহেব, কালিদাস চট্টোপাধ্যায়, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, দাশরথি রায়, মধুসূদন দত্ত, রূপচাঁদ পক্ষী, হরিনাথ মজুমদার প্রমুখ।

খ্যাতনামা শ্যামাসঙ্গীতকার কমলাকান্ত ভট্টাচার্য তাঁর গভীর ভক্তি ও আন্তরিকতাসমৃদ্ধ গানের জন্য বাংলা শাক্তসাহিত্যে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

তাঁর বিখ্যাত গানগুলির মধ্যে রয়েছে ‘আমি কি হেরিলাম নিশি স্বপনে‘, ‘তুমি যে আমার নয়নের নয়ন‘, ‘মজিল মোর মন ভ্রমরা‘ ইত্যাদি। ‘সাধকরঞ্জন‘ নামে তাঁর একটি বিখ্যাত তান্ত্রিক কবিতা গ্রন্থ রয়েছে।

নাথ সাহিত্য

মঙ্গলকাব্য ছাড়া নাথ সাহিত্য নামে পরিচিত আরেক শ্রেণির কাব্য মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বিশেষ জনপ্রিয় হয়েছিল। বাংলাদেশে সুপ্রাচীন কাল থেকে বর্তমান শিব-উপাসক এক যোগী সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠিত ধর্মই হল নাথধর্ম। বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব কালক্রমে স্তিমিত হয়ে এলে তার সঙ্গে শৈবধর্মের মিশ্রণের ফলেই এই নাথধর্মের উৎপত্তি।

নাথ ধর্মসম্প্রদায়ের যোগ-মাহাত্ম্যই নাথ সাহিত্যের বিষয়, কীভাবে যোগের শক্তিতে দুঃখ বিপদ অতিক্রম করা যায়, জয় করা যায় মৃত্যুকে পর্যন্ত—নাথসাহিত্যে সে কথাই বর্ণিত হয়েছে। এই নাথসাহিত্যের দুটি ভাগ। সেগুলি হলো-

(১) শিষ্য গোরক্ষনাথ কীভাবে গুরু মীননাথকে উদ্ধার করলেন সেই কাহিনী অর্থাৎ সংসারের মায়ায় আবদ্ধ মীননাথকে যোগী করে তোলার কাহিনী
(২) রানি ময়নামতী আর তাঁর পুত্র গোবিন্দচন্দ্রের কাহিনী। যে আলাদা ছড়া-পাঁচালির আকারে মীননাথ-গোরক্ষনাথের কাহিনী রয়েছে, তার নাম ‘গোরক্ষবিজয়’। আর যে কাহিনিতে রানি ময়নামতী-গোবিন্দচন্দ্রের বৃত্তান্ত পাওয়া যায় তা ‘ময়নামতীর গান’ নামে পরিচিত।

সুপ্রাচীন কাল থেকে নানা প্রক্ষেপের মধ্য দিয়ে এসব কাহিনির মূল রূপটি বর্তমানে বহুল-পরিবর্তিত, এমনকি, এর বহু পুঁথিতে চৈতন্য প্রভাবের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। এই নাথসাহিত্য গ্রাম্য কবিদের রচনা। যে কারণে এতে না আছে পান্ডিত্যের আড়ম্বর, না আছে সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্রের প্রভাব। সহজ, সরল, অনাড়ম্বর ভাষা-রীতিই নাথসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য।

raja

raja

Published 04 May 2020
  0      0
 

comments (0)

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png