ঝিমুনি ছাড়াই জেগে ওঠার ৫টি ধাপ

ভোরে ঘুম থেকে ওঠার ব্যাপারে হল এলরডের কার্যকরী পরামর্শ
waking up

আপনি এমন কাউকে দেখেছেন, যে কিনা জীবনে কখনও সঠিক সময়ের বাইরে ঘুম থেকে ওঠেনি?

না, পৃথিবীর সবাই হয়তোবা কোন না কোন সময় দেরিতে উঠেছেই। বরং বলা যায় ঘুম থেকে সঠিক সময়ে ওঠাটাই একটা মিথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে স্বীকারােক্তি, ঘুম থেকে বিনা দ্বিধায় জেগে উঠার যে পদ্ধতি এখন আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব, তা না থাকলে, সত্যি কথা- আমি এখনও ঘুমাতাম, কিংবা ঝিমাতাম। এবং আরও বেশি যা ক্ষতিকর তা হচ্ছে, আমি এখনও পুরনাে, অলস মানসিকতায় আটকে থাকতাম যে, “ভােরে উঠা আমার কর্ম না!”

বলা হয়ে থাকে, ভােরে ঘুম থেকে উঠতে কেউ পছন্দ করেন না। কিন্তু এই সময় ওঠার যে সজীব অনুভূতি, সেটা সবাই পেতে চান। শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই রকম- শরীরচর্চা শুরু করার পর যে পরিবর্তন আসবে তা সম্পর্কে আমরা সবাই ওয়াকিবহাল; সবাই সেই অনুভূতি পেতে চাই । কিন্তু খুব কম মানুষই শরীরচর্চা শুরু করি। খুব ভােরে ঘুম থেকে উঠা, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কোনাে উদ্দেশ্য নিয়ে–সবসময়ই আপনার ভেতর শক্তির একটা নির্দিষ্ট ধরনের বিচ্ছুরণ ঘটায়।

ভােরে জাগার অনুপ্রেরণা বাড়ান

আমাদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রে সকালে অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘুমের গভীর পর্যায় থেকে একধাপ এগিয়ে আসি জাগরণের দিকে। তখনও আমরা নিদ্রাচ্ছন্ন, ধরুন আধা নিদ্রাচ্ছন্ন। এখন এই আধা ন্দ্রিাচ্ছন্ন অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ সচেতন হয়ে ওঠার তাড়নাকে মাপব ১০-এর স্কেলে। যদি ১০ হয়- আমরা সম্পূর্ণভাবে তৈরি বিছানা ছাড়ার জন্যে; যদি ১ হয়- আমরা আবার পূর্ণ নিদ্রায় ফিরে যেতে চাই। অনুশীলন শুরু করার আগে মােটামুটি সবাই এই স্কেলের ১ অথবা ২ পয়েন্টে থাকুন। এটা স্বাভাবিক, সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। আমাদের অবচেতন মন (নির্দিষ্ট তাড়না ছাড়া) অবশ্যই আধা থেকে পূর্ণ নিদ্রায় ফিরে যেতে চাইবে। ভােরে জেগে উঠা ও অসাধারণ একটি দিনের জন্যে এই যে নির্দিষ্ট তাড়না কিংবা অনুপ্রেরণার কথা বলা হচ্ছে, যা আমাদের এক-দুই পয়েন্ট থেকে নয়-দশ পয়েন্টে নিয়ে যাবে, তা কীভাবে অর্জন করা সম্ভব? উত্তর খুব সহজ। ভােরে জেগে উঠার জন্যে আমরা ধীরে ধীরে নিচে আলােচনা করব। ধাপগুলাে একেকবারে একেকটি অনুসরণ করব।

একটা ব্যাপার ভেবে দেখুন, ভােরে ঘড়ির (কিংবা ফোনের) স্নুজ বাটন চাপার কোন অর্থই হয় না। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম বলা যে, “আমি এত ভােরে ঘুম থেকে উঠা অপছন্দ করি- একবার স্নুজ বাটন চাপি… এবং আবার… এবং বারবার” —-ডেমিট্রিয়াস মার্টিন

প্রথম ধাপ

বিছানায় যাবার আগেই সিদ্ধান্ত নিন। মনে রাখবেন- পূর্ণ নিদ্রা থেকে সচেতনতা আসার পর প্রথম যে চিন্তাটা আসে তা হচ্ছে ঘুমােতে যাওয়ার আগে যে চিন্তাটা আমাদের মনে ছিল। উদাহরণ দিই, ছােটবেলায় ঈদ কিংবা পূজার আগের রাতে আমরা খুব উত্তেজিত থাকতাম। বিছানায় গিয়ে পরিকল্পনা করতে করতে ঘুমাতাম- সকালে উঠে কী কী করতে হবে। সেই সময়ের ভােরের কথা মনে করুন। অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ সচেতনতায় চলে আসতাম। বিছানা ছাড়তাম এবং রাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেমে যেতাম ক্লান্তি কিংবা দ্বিধা অনুভব করা ছাড়াই। খুব খুশি মনে উৎসাহের সঙ্গে দিনটিকে আলিঙ্গন করতাম।

অন্যদিকে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে যদি আপনার শেষ চিন্তাটা এরকম হয় যে, “ছয়টায় ঘুম থেকে উঠতে হবে? সারাদিনের কাজ শেষে এত ক্লান্ত আমি! এত রাত হয়ে গেল বিছানায় আসতে- তারপরও!” এরপর সকালে অ্যালার্ম বাজার পর কী মনে হতে পারে? ব্যাপারটা কম-বেশি সবার ক্ষেত্রেই একই- “এর মধ্যে ছয়টা বেজে গেছে? এখনও ক্লান্ত আমি। আর দশ মিনিট ঘুমালে এমন কিছু ক্ষতি হবে না।” এবং স্নুজ বাটন; এবং একই গল্প!

নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন। মূল লক্ষ্যটা হচ্ছে- ঘুমােতে যাওয়ার আগেই ঘুম। থেকে উঠার জন্যে মনকে ইতিবাচক অনুপ্রেরণা দিয়ে রাখতে হবে।

ধাপ-২

ঘড়ি কিংবা ফোন বিছানা থেকে যতখানি সম্ভব দূরে সরিয়ে রাখুন।

যদি এখনও ঘড়ি বিছানা থেকে দূরে না সরিয়ে থাকেন, এখনই সরান। অ্যালার্ম বাজার পর সেটা বন্ধ করার জন্যে হলেও আপনাকে বিছানা থেকে উঠতে হবে, হেঁটে ঘড়ির কাছে যেতে হবে। এই গতি আপনার শরীরে শক্তির প্রবাহ বাড়াবে; প্রবাহিত শক্তি তন্দ্রা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। বিছানার পাশে কিংবা বিছানাতেই যদি ঘড়ি কিংবা ফোনটা থাকে, আমরা সবাই জানি, কী ঘটে। উঠার ইচ্ছা না থাকলে আমরা অ্যালার্ম স্থায়ীভাবে বন্ধ করি; স্নুজ বাটন চাপি; কানে বালিশ চেপে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ি। এমনকি আমাদের অবচেতন মন অনেক সময় অ্যালার্ম বাজার ব্যাপারটাকে স্বপ্ন হিসেবে উপস্থাপনও করে।

আপনাকে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে অ্যালার্ম বন্ধ করতে হবে এই ব্যাপারটা আপনাকে ঘুম থেকে জেগে উঠার স্কেলে ১ পয়েন্ট থেকে ২ কিংবা ৩-এ পৌছে দেবে।

ধাপ-৩

দাঁত মাজুন। বিছানা ছেড়ে হেঁটে এসে অ্যালার্ম বন্ধ করলেন। এখন আপনাকে বিছানা আবার ডাকবে। কিন্তু আপনি সেই ডাক না শুনে সােজা ওয়াশ রুমে যাবেন। সিংকের সামনে দাঁড়ান; আয়নায় নিজেকে দেখুন; মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন; আবার নিজেকে দেখুন। পরিবর্তন লক্ষ্য করে উৎফুল্ল হােন। ব্রাশে পেস্ট লাগান- দাত মাজুন। এই পুরাে ব্যাপারটা আপনাকে স্কেলের পরবর্তী ধাপে তুলে দেবে। এখন যেহেতু আপনার মুখ দুর্গন্ধ ও জীবাণুযুক্ত, এখন সময় …

ধাপ-৪

পুরাে এক গ্লাস পানি খান। আমরা যদি কিছু স্বাভাবিক মানুষের ঘুমের সময় পর্যবেক্ষণ করি, দেখা যাবে তিনি বা তারা মােটামুটি ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন। এই ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা আমরা শরীরে কোনাে জ্বলানি (খাবার, পানি) সরবরাহ করি না বরং সঞ্চিত শক্তি খরচ করি শরীরের প্রয়ােজনীয় তাপের চাহিদা মেটাতে । সুতরাং খুব স্বাভাবিক ভাবেই আপনার শরীরে খাদ্যের বিশেষ করে পানির চাহিদা থাকবে। সকাল অসীম তন্দ্রাচ্ছন্নতা শুধুমাত্র বিশ্রামের অভাবের কারণেই হয় না বরং শরীরে পানির চাহিদা অনেকাংশে দায়ী। সুতরাং আমরা এখন পূর্ণ এক গ্লাস পানি ধীরে-সুস্থে পান করব।

আপনারা সবাই জানেন, আমাদের শরীরে পানির চাহিদা খুব বেশি। তাই দিনের অন্যান্য অংশেও ঝিমুনি, হাই তােলা ও অবসাদ-এসব সমস্যাও আপনি এক গ্লাস পানি খেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে মিটিয়ে ফেলতে পারেন। যাই হােক, দাঁত মাজার পর এক গ্লাস পানি খাওয়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ঘুমের সময় শরীরে সৃষ্টি হওয়া পানি শূন্যতা দূর করা। এক গ্লাস পানি গ্রহণের পর আপনি সম্ভবত এখন। পয়েন্ট স্কেলের ৫-এ আছেন।

ধাপ ৫

কাপড় পরুন অথবা গােসল করুন।

এই ধাপে দুইটা বিষয় আছে। আপনি ইচ্ছেমতাে ক্রম নির্ধারণ করতে পারেন।

৫.১ : শরীরচর্চার জন্যে নির্ধারিত পােশাক পরুন এবং সরাসরি Miracle Morning অনুশীলনে ঢুকে পড়ুন।

৫.২ : গােসল করে ফেলুন।

দ্য মিরাকল মর্নিং
BUY NOW

আমি ব্যক্তিগতভাবে আগে অনুশীলন করতে পছন্দ করি। কারণ শরীরচর্চার পরে অনেক সময় গােসল করাটা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। আবার অনেকে আগে গােসল করে নিতে চান। তাদের যুক্তি হচ্ছে- এভাবে খুব সহজে, দ্রুত তাপমুক্ত হওয়া যায়, যা আপনাকে অনুশীলনের সময় অন্য কোনাে ধরনের পিছুটানে ফেলবে না।

আপনি যা-ই আগে করুন না কেন, আপনি এখন মােটামুটি স্কেলের ৬ পয়েন্টে আছেন। এখন আপনার জন্যে ক্লান্তি এড়িয়ে Miracle Morning অনুশীলনে আর খুব একটা বেগ পেতে হবে না। এখন ভাবুন, এই ধাপগুলাে বাদ দিয়ে, অ্যালার্ম বাজার পরই (যখন আপনি পয়েন্ট স্কেলের- ১ এ) আপনি যদি অনুশীলন করার চেষ্টা করতেন কী প্রচণ্ড মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগতেন!

ঝিমুনি ছাড়াই জেগে উঠার ৫টি ধাপ আর একবার একসঙ্গে

১। ঘুমাতে যাওয়ার আগেই উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করে নিন। এটা সবথেকে জরুরী ধাপ। মনে রাখবেন, সকালের প্রথম চিন্তাটা আসে রাতে।  সুতরাং জেগে উঠার জন্যে প্রয়ােজনীয় মানসিক অনুপ্রেরণার ব্যবস্থা রাতেই সেরে ফেলুন।

২। অ্যালার্ম দেওয়ার উপকরণ (ঘড়ি, ফোন কিংবা অন্যান্য ডিভাইস) বিছানা থেকে দূরে রাখুন। কত দূরে রাখবেন? এত দূরে, যেন অ্যালার্মের আওয়াজ আপনাকে ঘুমের গভীর থেকে ধাক্কা দিতে পারে এবং আপনাকে বিছানা থেকে হেঁটে গিয়ে অ্যালার্ম বন্ধ করতে হয়।

৩. দাঁত মাজুন। প্রয়ােজনে মেন্থল ফ্লেভারড কিংবা এরকম কোন মাউথওয়াস ব্যবহার করুন।

৪. এক গ্লাস পানি খান। শরীরকে কখনােই পানির অভাব বুঝতে দেওয়া উচিত না। সুতরাং, তাড়াতাড়ি।

৫. পােশাক পাল্টান কিংবা গােসল করুন।

আশা করি, এই সহজ কয়েকটি নিয়ম মেনে আপনিও ঝিমুনি ছাড়া উঠে যেতে পারবেন সকালে, যখন সবে উদিত হওয়া সূর্যের হাসি আপনাকে মোহিত করবে প্রতিদিন। তবে শুরু হোক, কাল থেকেই!

আরও পড়ুন- মাত্র ৬ মিনিটের মিরাকল – কী , কেন, কিভাবে?

আত্মোন্নয়নমূলক বইগুলো দেখতে ক্লিক করুন 

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading