প্রসঙ্গ: আধুনিক শিক্ষা বনাম ধর্মীয় শিক্ষা। কোনটি প্রয়োজন??

Untitled-1ল

শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি বুকটান করে দাঁড়াতে পারে না। লাভ করতে পারে না উন্নতি ও অগ্রগতি। শিক্ষা ছাড়া আত্মিক উন্নতি ও উৎকর্ষ সাধনও সম্ভব নয়। কোনো দেশ-রাষ্ট্র ও সমাজ শিক্ষা ছাড়া অর্জন করতে পারে না কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। শিক্ষা মানুষের অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন ও অধিকার। শিক্ষাই মানুষকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষের সুপ্রবৃত্তির উন্মেষ ঘটে। ফলে মানুষ ভালো-মন্দ বিচার-বিবেচনা করতে সক্ষম হয় এবং পাপ কাজ পরিহার করে চলে। অপরপক্ষে অশিক্ষা বা অজ্ঞতার ফলে মানুষের কুপ্রবৃত্তির বিকাশ ঘটে। তার মাঝে মনুষ্যত্ব বা মানবিক মূল্যবোধ থাকে না। সে সততই পাপের পথে ধাবমান হয়। এ জন্য দার্শনিক সক্রেটিস বলেছেন- ‘জ্ঞান বা শিক্ষা থেকেই আসে পুণ্য এবং কল্যাণ; অজ্ঞতা থেকে আসে যা কিছু পাপ। কোনো লোকই স্বেচ্ছায় যা কিছু খারাপ তা পছন্দ করে না, সে পাপ করে অজ্ঞতার কারণে।’

প্রথমেই আলোচনা করা যাক আধুনিক বা জাগতিক শিক্ষা নিয়ে। আধুনিক শিক্ষা কী? আমাদের দেশে প্রচলিত সরকারি ও সর্বজনস্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থাকেই আধুনিক শিক্ষা বলে। অন্যকথায়, যে শিক্ষার মাধ্যমে বর্তমান বিশ্ব ও আধুনিক বিষয়-আশয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায় তাকে আধুনিক শিক্ষা বলে। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় সমকালীন জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নানা আবিষ্কারের বিষয়াবলি গুরুত্বসহকারে শেখানো হয়। এ শিক্ষাব্যবস্থা থেকে তৈরি হয় ডাক্তার, ব্যারিস্টার ও ইঞ্জিনিয়ার। তাই যারা বা যেসব শিশু আধুনিক শিক্ষাগ্রহণ করে তারা জাগতিক জীবনে উন্নতি ও অগ্রগতি লাভের সুযোগ পায়। তবে ধর্মীয় জ্ঞানে তারা পরিপক্কতা অর্জন করতে পারে না। কেননা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মশিক্ষার পাঠ্যবই থাকলেও তা পূর্ণ সিলেবাস নয়। তা থেকে শুধু ধর্মের প্রাথমিক জ্ঞানই অর্জন করা যায়। পৌঁছা যায় না ধর্মের গভীর জ্ঞানে। তবে কথা হলো, ফরজ পরিমাণ দীনি জ্ঞান অর্জন করে কেউ বা কোনো শিশু যদি আধুনিক বা জাগতিক শিক্ষা অর্জন করে তাতে কোনো সমস্যা নেই। বরং ধর্মীয় বিধি মোতাবেক জীবন পরিচালনা ও মানবকল্যাণের জন্য কেউ যদি জাগতিক শিক্ষা অর্জন করে তাহলে তাতে সে সওয়াবেরও আশা করতে পারে। কেননা হাদিসে এসেছে ‘কর্মের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভর করে।’ [সহিহ বুখারি-১]

পবিত্র কুরআনে সুরা আলাকের প্রথম আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করলেন, ‘পড়ো তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ সুরা বাকারার ৩১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহ আদমকে সব বস্তুর নাম শিক্ষা দিলেন।’ উল্লিখিত আয়াত ছাড়াও কুরআনের যেসব স্থানে জ্ঞান ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা এসেছে কোনো স্থানেই জ্ঞান বা শিক্ষাকে কোনো ভাগে বিভক্ত করা হয়নি। অর্থাৎ কোথাও জ্ঞান বা শিক্ষার মাঝে ধর্মীয় ও জাগতিক শিরোনামের বিভক্তিরেখা টানা হয়নি। সুরা বাকারার ২০১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে প্রভু! আমাদের দুনিয়াতে ‘হাসানা’ দান করুন এবং আখিরাতে ‘হাসানা’ দান করুন।’ সুতরাং দুনিয়া এবং আখিরাত- উভয় জগতের সফলতা ও কামিয়াবির কথা চিন্তা করে সমানভাবে ধর্মীয় ও জাগতিক জ্ঞানকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ দুনিয়াকে আল্লাহ বসবাস ও উপকরণের জগৎ বানিয়েছেন। এখানে মানুষের নানারকম প্রয়োজন রয়েছে। আর প্রয়োজন পূরণ ও অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য জাগতিক বা আধুনিক শিক্ষার বিকল্প নেই। ইমাম গাজ্জালি রহ. এর মতে, ‘পার্থিব জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে ইসলামের অনুমতি রয়েছে।’ [ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন]

আধুনিক শিক্ষা বা সমকালীন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি আল কুরআন ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস দ্বারাও প্রমাণিত। কেননা আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অনেক নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁদেরকে দীনি বিষয় শিখিয়েছেন। পাশাপাশি বহু নবী-রাসূলকে সাধারণ জ্ঞানও শিখিয়েছেন। যেমন হযরত দাউদ আ. সম্পর্কে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে লোহা দিয়ে এক বিশেষ ধরনের পোশাক তৈরির পদ্ধতি শিখিয়েছেন। আল কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আর আমি তাঁকে তোমাদের উপকারের জন্য এক প্রকার পোশাক তৈরি করা শিক্ষা দিয়েছিলাম।’ [সূরা আম্বিয়া : আয়াত ৮০] অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে- ‘আমি নাজিল করেছি লোহা, তাতে আছে প্রচণ্ড শক্তি ও মানুষের বহুবিধ উপকারিতা।’ [সূরা হাদিদ : আয়াত ২৫] লোহা দ্বারা বহুবিধ উপকার লাভ করা তখনই সম্ভব যখন তাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাবে। আর এর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে, কারিগরি ও টেকনোলজি জানা। তাই এই আয়াতে পরোক্ষভাবে ওগুলো শেখারও নিদের্শ রয়েছে।

আর হাদিসেও রাসূল সা. সাধারণ জ্ঞান শেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন এক হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ তায়ালা একটি তীর দ্বারা তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এক. যে তীর বানায় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে মানুষের কল্যাণ। দুই. নিক্ষেপকারী। তিন. নিক্ষেপে সাহায্যকারী।’ তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা তীর নিক্ষেপ ও ঘোড় সওয়ারির প্রশিক্ষণ দাও। তবে আমার কাছে তীর নিক্ষেপের প্রশিক্ষণ, ঘোড় সওয়ারি থেকে পছন্দ।’ [তিরমিজি-১৬৩৭] হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হযরত যাকারিয়া আ. নিজ হাতে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং পেশায় তিনি ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি। [শরহুন নববী মুসলিম ১৫/১৩৫] নিশ্চিতভাবে বলা যায় বর্তমান যুগের একজন ইঞ্জিনিয়ারের সমাজে যে অবস্থান, ওই সময় একজন কাঠমিস্ত্রির তা ছিল। অপর এক হাদিসে রাসূল সা. বলেন, ‘দুর্বল প্রকৃতির মুমিন অপেক্ষা, শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় এবং  উত্তম। আর প্রত্যেকের মধ্যে কিছু না কিছু কল্যাণ নিহিত আছে। যে জিনিস তোমার উপকারে আসবে, তার প্রতি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর ও হীনবল হয়ো না।’ [সহিহ মুসলিম-৬৯৪৫] শক্তিশালী বলতে শুধু দৈহিকভাবে শক্তিশালী উদ্দেশ্য নয়। বরং কৌশল ও প্রযুক্তিগত শক্তিও এখানে উদ্দেশ্য। তাই যারা ওইগুলো শিখে শক্তিশালী হবে, তাদের কদর আল্লাহর কাছে কিছুটা ব্যতিক্রম হবে নিশ্চয়। হাদিসের মধ্যে আরো বলা হয়েছে, ‘যে জিনিস তোমার উপকারে আসবে, তার প্রতি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর।’ এখানে উপকারে ক্ষেত্র নির্ধারণ না করায়, জাগতিক ফায়দার বস্তু শেখাও হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হবে।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে একথা প্রতীয়মান হয় যে, দুনিয়ার জীবনোপকরণের জন্য আধুনিক শিক্ষাগ্রহণ ধর্মশিক্ষার অন্তরায় নয়। তবে হতে হবে মানুষের উপকার সাধন ও কল্যাণের জন্য। কুরআন ও হাদিসের আলোচনা দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য। আমাদের দেশে যদিও আধুনিক শিক্ষা সিলেবাসে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব কম দেওয়া হয় তারপরও বলবো- আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত অনেকই ধর্ম-কর্ম ও নামাজ-কালাম পড়েন। তাদের অনেকেই আবার ধর্মীয় বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলেন। অন্যায়কে পরিহার করেন। পাপ পথ এড়িয়ে চলেন। সুদ-ঘুষ থেকে দূরে থাকেন। আর আধুনিক শিক্ষা বা জ্ঞান অর্জন করে সবাই যে সৎপথে চলেন বা শিক্ষার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য বাস্তবজীবনে প্রয়োগ করেন তাও বলছি না।

এবার আসা যাক ধর্মশিক্ষা প্রসঙ্গে। ধর্ম শিক্ষা কী? যে শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষ তার প্রভুকে চিনতে পারে, ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যা এবং হক-বাতিলের মাঝে পার্থক্য করতে পারে, উন্নতি-অগ্রগতি এবং উভয় জাহানের শান্তি-সফলতা ও কামিয়াবির সোপানে আরোহণ করতে পারে- তা হলো ধর্মীয় শিক্ষা।’ অন্যকথায়, যে শিক্ষার মাধ্যমে ধর্মের খুটিনাটি ও যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যায় তাকে ধর্ম শিক্ষা বলে। ধর্ম শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিশু বা মানুষ খাঁটি ইমানের অধিকারী হয়। না দেখে অনেক জিনিসের ওপর ইমান আনতে হয়। আল্লাহ, নবী-রাসুল, পরকাল, কেয়ামত, হাশর-নাশর, জান্নাত-জাহান্নাম এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাসী হতে হয়। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমেই বর্বর মানুষ সোনার মানুষে পরিণত হয়। ধর্মশিক্ষার মাধ্যমেই অর্জন হয় সততা, মহত্ত্ব, ন্যায়পরায়ণতা, আদর্শবাদিতা ও মানবীয় মহৎগুণগুলো। ধর্মশিক্ষার মাধ্যমেই একজন মানুষ ধর্মের বিধি-নিষেধ পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার জ্ঞান লাভ করে। হালাল-হারাম, অন্যায়-অনাচার, জায়েজ-নাজায়েজ জেনে জীবন পরিচালনা করতে পারে। তৈরি করতে পারে মহান আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক। একজন প্রকৃত মুসলমান ধর্মের নির্দেশনা মেনেই জীবন পরিচালনা করে থাকেন। কেননা- ধর্মকে মানুষের জীবন থেকে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। ধর্ম প্রয়োজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। ধর্মই মানুষকে শিক্ষা দেয় দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়। মৃত্যুর পরও রয়েছে অনন্তকালের জীবন। দুনিয়ার ভালো ও মন্দ- সব কাজের প্রতিদান পাওয়া যাবে সে জীবনে। তাই দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনকে কল্যাণময় করার জন্য ধর্মশিক্ষার বিকল্প নেই।

ভারতবর্ষে মুসলিম শাসকদের শাসনামলে শিক্ষাব্যবস্থা ও ধর্ম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল। ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত ইউনেসকোর Studies on Compulsory Education-এ উল্লেখ করা হয়েছে-‘মুসলিম শাসনামলে শিক্ষা ও ধর্মকে অত্যন্ত অঙ্গাঙ্গিভাবে বিবেচনা করা হতো।’ সে আমলে মুসলিম পরিবারের শিশুদের হাতেখড়ি হতো পবিত্র কুরআন শিক্ষার মাধ্যমে। ইতিহাসবিদ এ আর মল্লিক লিখেছেন-‘বাংলার মুসলমানদের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, যখন কোনো সন্তানের বয়স চার বছর চার মাস চার দিন পূর্ণ হতো, তখন তার বিদ্যাশিক্ষার সূচনা হতো। একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের কিছু অংশ শিশুকে পাঠ করে শোনানো হতো। শিশু তা পুনরাবৃত্তি করত। এটা ছিল প্রতিটি মুসলিম পরিবারের অপরিহার্য প্রথা।’ [দৈনিক কালেরকন্ঠ : ৩ জুলাই, ২০১৯]

একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের বিকল্প কিছু হতে পারে না। আর দুনিয়ার জীবনে চলতে গেলে জাগতিক ও পারিপার্শ্বিক জ্ঞানও অর্জন করতে হবে। তাছাড়া পরকালে বিশ্বাসী কোনো মুসলমানের পক্ষে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মানসিকতা ত্যাগ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি জগতের প্রয়োজন ও নিয়মকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সুতরাং যার পক্ষে উল্লিখিত দুটি বিষয় অস্বীকার করা সম্ভব নয়; তার পক্ষে ধর্মীয় ও জাগতিক জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাই কোনো জ্ঞানকেই অবহেলা করা যাবে না। হোক সেটা ধর্মীয় বা জাগতিক। তবে যে জ্ঞান মানুষকে অকল্যাণ বা ক্ষতির দিকে ধাবিত করে, তা শিক্ষাগ্রহণ থেকে দূরে থাকতে হবে। আর জ্ঞানের বিভক্তি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত- যেখানে ধর্মীয় ও জাগতিক জ্ঞানের সুন্দর সমন্বয় ঘটবে। কেননা ধর্ম ছাড়া আধুনিকশিক্ষা কিংবা কর্ম ছাড়া ধর্মশিক্ষা- কোনোটাই একজন মুসলমানের জন্য কল্যাণকর নয়।

 শিশু-কিশোরদের জন্য ইসলামী বইগুলো দেখতে ক্লিক করুন 

আরবি ও কুরআন শিক্ষা বিষয়ক বইগুলো দেখুন 

কারগরি শিক্ষা বিষয়ক বইগুলো দেখুন 

এমদাদুল হক তাসনিম

এমদাদুল হক তাসনিম

নির্বাহী সম্পাদক : মাসিক ইসলামী বার্তা, অর্থ সম্পাদক : বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম ই-মেইল: imdadtasnim@gmail.com

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading