আয়কর রিটার্ন নিয়ে প্রচলিত ৫ টি ভুল ধারণা

আয়কর রিটার্ন নিয়ে বিভ্রান্তির যথাযথ উত্তর
aykor return

আয়কর কী? সাধারণ অর্থে আয়কর হলো আয়ের উপর কর। সরকারি, বেসরকারি এবং নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জন্য আয়কর প্রযোজ্য। আয়কর যাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তাদের সবাইকেই এটি পরিশোধ করতে হবে দেশ ও দশের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে। কিন্তু আয়কর নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি এবং ভুল ধারণা থাকায় বেশিরভাগ মানুষের কাছে এটি একটি ঝামেলা হিশেবে আবির্ভুত হয়। সাধারণত ৫ টি ভুল বা বিভ্রান্তি খুব বেশি দেখা যায়।  চলুন, দেখে নিই কী সেই ভুলগুলো-

  • টিন থাকলেই রিটার্ন সাবমিট করতে হবে

রিটার্ন সাবমিট করতে গেলেই প্রথম যে কথাটা আসে সেটা হলো, টিন থাকলেই অবশ্যই রিটার্ন সাবমিট করতে হবে। আসলে টিন থাকলেই বাধ্যতামূলকভাবে রিটার্ন সাবমিট করতে হবে না। কারণ- আয়কর আইনে বলা আছে, আপনি টিন নিয়েছেন, বাধ্যতামূলক রিটার্নও সাবমিট করতে হবে, কিন্তু এর দুটো ব্যতিক্রম আছে। আপনি যদি জমি বিক্রি করার জন্য এবং ক্রেডিট কার্ড নেয়ার জন্য টিন নিয়ে থাকেন, কিন্তু আপনার আয় যদি করমুক্ত সীমা অতিক্রম না করে তাহলে আপনাকে রিটার্ন সাবমিট করতে হবে না। এ দুটি ব্যক্তিক্রম ছাড়া আপনাকে অন্য সব ক্ষেত্রে টিন নিলে বাধ্যতামূলক রিটার্ন সাবমিট করতে হবে।

  • রিটার্ন সাবমিট করলেই কর দিতে হবে

এটাও একটা ভুল ধারণা। রিটার্ন সাবমিট করলেই কর দিতে হবে না। আপনি তখনই কর দেবেন, যখন আপনার আয় নির্দিষ্ট করমুক্ত সীমা অতিক্রম করবে।

  • আয় করলেই কর দিতে হবে

আপনি যখনই আপনার করমুক্ত সীমা হিসেব করবেন, একটা বিষয় আপনাকে মনে রাখতে হবে, আপনি বিভিন্ন খাত থেকে সারাবছর যে আয় পেয়েছেন, সেখান থেকে অব্যাহতি খাত বাদ দেবেন। আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন চাকরিজীবী কোন কোন খাতে কত অব্যাহতি পাবেন, সেটা হিসেব করে করযোগ্য আয় বের করবেন। এই করযোগ্য আয় যদি করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তাহলেই কেবল আপনি আয়কর দেবেন। এটাকে বলা হয় ন্যূনতম কর। কিন্তু করমুক্ত সীমা কত? একজন পুরুষ করদাতার ক্ষেত্রে এই সীমা তিন লক্ষ টাকা এবং একজন মহিলা করদাতার ক্ষেত্রে তা তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। তাহলে দাঁড়ালো, আয় করলেই কর দিতে হবে না। বরং করযোগ্য আয়ের ওপর করারোপ হবে।

  • সম্পদের পরিমাণ বেশি দেখালে ভবিষ্যতে লাভ আছে

সম্পদের পরিমাণ বেশি দেখালে ভবিষ্যতে লাভ আছে। এটি আরেকটি ভুল ধারণা। এটি বরং আরও কিছু জটিলতা তৈরি করবে। যে সম্পদ আপনার আছে, তার চেয়ে বেশি দেখালে আপনি আসলে তা ভুল দেখাচ্ছেন। এই সম্পদ আপনার সত্যিকার অর্থে নেই। ভবিষ্যতে ট্যাক্স অথরিটি আপনার ফাইলটি অডিটে ফেললে আপনার কাছে সম্পদের হিসেব জানতে চাওয়া হবে। তখন আপনি আপনার দেখানো অতিরিক্ত সম্পদের প্রমাণ দেখাতে পারবেন না এবং সেই সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যেসব ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে, সেগুলোও দেখাতে পারবেন না। এই জটিলতার কারণে আপনি আইনগতভাবে সমস্যায় পড়বেন। তাই সম্পদের এবং অন্য অর্থনৈতিক তথ্যগুলো সঠিক দেয়ার চেষ্টা করুন।

  • ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেয়া জরুরি

আমাদের মধ্যে একটা ধারণা আছে যে, রিটার্ন সাবমিট করেছি, এখন ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিতে হবে। আসলে এটাও আমাদের প্রয়োজন নেই। কারণ- আপনি ট্যাক্স সাবমিট করার পর কর্মকর্তা আপনাকে তার সিল সংবলিত একটি রিসিট দেন। অর্থাৎ আপনাকে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটা আপনি সংরক্ষণ করলে আর কোনো ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। আপনি যে আপনার রিটার্ন সাবমিট করেছেন, এটাই তার প্রমাণ।

এই ভুল ধারণাগুলো এড়িয়ে চললে আশা করা যায় রিটার্ন সাবমিট সংক্রান্ত জটিলতা আপনি অনেকাংশেই এড়াতে পারবেন।

ট্যাক্স রিটার্ন প্রিপারেশন কমপ্লিট গাইড বইটি দেখুন 

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading