লক্ষ্য যখন বিসিএস: গুরুত্ব গণিত ও ইংরেজিতে

bcs math and english preparation

বিসিএস এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, যার প্রস্তুতি নিলে বাকি সব চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ে যায়। দৈনন্দিন জীবনযাপন, পড়াশোনা, সময় ব্যবস্থাপনা — সব কিছু প্রস্তুতির শুরু থেকেই করতে পারলে পরে পরীক্ষার আগ মুহূর্তে আর ঝামেলা পোহাতে হবে না। বেসিক ভাল থাকলে এ কোচিং – ও কোচিং দৌড়াদৌড়ি না করে মোটামুটি চলনসই পড়াশুনা দিয়েই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যেতে পারে, পক্ষান্তরে বেসিক দুর্বল থাকলে দিনরাত নির্ঘুম অধ্যবসায়ও রূপ নিতে পারে ব্যর্থতায়। উঠতে বসতে সবাই বলে থাকেন, এমনই প্রচলিত একটি ধারণা এটি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বেসিক বা ফাউন্ডেশনের স্বরূপটি ঠিক কী!

এ সম্পর্কে অনেকেরই ধারণাগত অস্পষ্টতা আছে। এটি কি এমন কিছু, যা মায়ের পেট থেকে নিয়ে আসতে না পারলে অর্জন করে নেবার কোন পথ নেই? বহুল আলোচিত, সেই তুলনায় সামান্যই ব্যাখ্যাকৃত এই বেসিক বিল্ডআপ করার প্রয়োজনীয় আঙ্গিকসমূহ ব্যাখ্যা করে আজকের এই লেখাটি সাজানো। আশা করি আপনাদের কাজে আসবে।

বেসিক তৈরি করার মূল প্রতিপাদ্য হলো — সঠিক প্রস্তুতি কৌশল নির্ধারণ, নির্ভুল উপকরণ বাছাই ও তার যথাযথ ব্যবহার এবং জীবনাচরণের প্রতিটি পদক্ষেপকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যাভিমুখী করার সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ, বেসিক বিল্ডিং হলো — সঠিক প্রক্রিয়া অবলম্বন ও সে অনুযায়ী নিজেকে উপর্যুপরি শাণিত করার লক্ষ্যে অব্যাহত প্রচেষ্টা।

আমরা দেখে নেওয়ার চেষ্টা করবো, বিসিএসসহ অন্যান্য চাকরি পরীক্ষার তীব্র প্রতিযোগিতায় নিজেকে এগিয়ে রাখা ও সে লড়াইয়ের রসদ সংগ্রহকে যারা পাখির চোখ করেছেন, কেমন হতে পারে তাদের সেই বেসিক তৈরির আঙ্গিক।

এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম এবং সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে ইংরেজি এবং গণিত।

ইংরেজি
প্রয়োজনীয় বই

(১) অ্যাসিউরেন্স (ইংরেজি)

(২) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইংরেজি প্রথম পত্র বই

(৩) Saifur’s হাতে-কলমে Composition Writing & Translation (ঐচ্ছিক)

২০০ নম্বরের ইংরেজি পরীক্ষায় আপনার টার্গেট মার্কস হতে পারে এমন- 

Thematic questions: ১৮-২২ (৩০)

Grammar & Usage: ২০-২৫ (৩০)

Summary: ১২-১৪ (২০)

Letter to the Editor: ১২-১৪ (২০)

Essay: ২৮-৩৫ (৫০)

Translation (Bangla): ১৫-১৮ (২৫)

Translation (English): ১৫-১৮ (২৫)

—– Total: ১১৭-১৪৩

এখানে দুই ধরনের টার্গেট মার্কস দেওয়া হয়েছে। কারো জন্য ১১৭, আবার কারো কারো জন্য ১৪৩। ইংরেজিতে যাদের খুব দুর্বলতা থাকে তাদের ১০০ নম্বরেরও নিচে পেতে দেখা যায়। আবার পরীক্ষায় ১৪৫ নম্বর পেয়েছেন এমনও আছে।

অর্থাৎ, বুঝতেই পারছেন বিসিএস রিটেন পরীক্ষায় নম্বর পাবার সবচেয়ে বেশি বৈষম্য তৈরি হয় এই ইংরেজি পরীক্ষায়। তাই ইংরেজিকে অনেকেই বলেন ক্যাডার নির্ধারণী পরীক্ষা। ইংরেজি পরীক্ষা খারাপ দিয়ে লিখিত পরীক্ষা ছেড়ে দেওয়ারও বহু নজির আছে। তাই ব্যাকগ্রাউন্ড যাই থাকুক না কেনো, নবীনদের শুরু থেকেই ইংরেজি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

যাদের ইংরেজিতে দুর্বলতা রয়েছে, শুরুতেই তাদের যা করা উচিত নয়- 
  • vocabulary, synonym, idioms মুখস্থ করা।
  • পত্রিকার আর্টিকেল ট্রান্সলেশন করা।
  • অতিরিক্ত গ্রামার চর্চা করা।

এতে প্রচুর সময় অপচয় হবে। কাজের কাজ কিছুই হবে না। কারণ, একটি ভাষা শিখতে হলে সে ভাষাটি আগে পড়তে হবে এবং ফ্রি হ্যান্ড প্রাকটিস করতে হবে।

কয়েকটি ধাপে আপনাদের করণীয় কী হতে পারে তার একটা খসড়া নিচে উল্লেখ করা হলো- 
[ধাপ-০১ (প্রথম মাস)]
  • সপ্তাহে ৩-৪ দিন আপনার পড়ার রুটিনে ইংরেজির জন্য অতিরিক্ত ২ ঘণ্টা সময় রাখা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী এই তিন চার মাস সময়ের ভেতর কম-বেশি ২০ দিন সময় রাখতে পারেন শুধুই ইংরেজির জন্য।
  • শুরুতেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ‘English for Today’ বইটি পড়ে ফেলুন। বইটি বেশ কার্যকরী। অজানা শব্দগুলোর অর্থ ডিকশনারি হতে বের করুন এবং বইটিতেই আন্ডারলাইন করে অর্থ লিখে রাখুন। কিছুদিন পর বইটি আবার রিভাইস দিন। যত বেশি রিভাইস দিবেন অটোমেটিকলি আপনার ভোকাবলারি সমৃদ্ধ হবে।
  • অ্যাসিউরেন্স গাইডের ট্রান্সলেশন অংশ হতে চর্চা করুন। বাংলা থেকে ইংরেজি এবং ইংরেজি হতে বাংলা দু’টোই করবেন এবং বইয়ের উত্তরের সাথে মেলাবেন। একইসাথে সেখান হতে নতুন নতুন word, phrase, preposition এর ব্যবহার ইত্যাদি দাগিয়ে দাগিয়ে শেখার চেষ্টা করবেন।
  • Translation করার সময় Smart Sentence লেখার চেষ্টা করবেন। কোন গ্রামার বই (নবম-দশম শ্রেণীর অ্যাডভান্স গাইড) থেকে বাক্য গঠনের নিয়ম (Syntax) এবং Simple—Complex—Compound Sentence লেখার structure গুলো একবার দেখে নিতে পারেন।
  • অ্যাসিউরেন্স গাইড হতে Noun—Verb—Adjective—Adverb অংশটি অর্থ সহকারে মুখস্থের মতো পড়ুন। কঠিনগুলো হাইলাইটার দিয়ে মার্ক করে রাখবেন। পরে রিভিশন দিতে সহজ হবে। পাশাপাশি এ সকল শব্দের বানান প্রাকটিস করুন।
[ধাপ-০২ (দ্বিতীয় মাস)]
  • রিপোর্ট রাইটিং এর ফরমেট’টি ঝালিয়ে নিন। পরীক্ষায় ২ ধরনের ফরমেটে রিপোর্ট আসতে দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপঃ ৩৫তম ও ৩৬তম বিসিএসের রিপোর্ট রাইটিং ফরমেট দেখুন।
  • রিপোর্টের ভাষা সাধারণ ভাষার চেয়ে একটু টেকনিক্যাল হয় এবং তথ্যসমৃদ্ধ হয়। এদিকে একটু সজাগ থাকবেন। পাশাপাশি একঘেয়ে রিপোর্ট না লিখে বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করে ঐ বিষয়ে আপনার কোনো সুপারিশ বা জানা থাকা কোন ডাটা উপস্থাপন করতে পারেন।
  • Joining Sentence ও Punctuation এর নিয়মগুলো গাইড থেকে দেখে নিন বা কোনো শিক্ষকের কাছ হতে শিখে নিন। এগুলো প্রাকটিসের মাধ্যমে ক্লিয়ার করতে হবে। কারণ এখানে ফুল মার্কস পাওয়া সহজ।
  • এবার অ্যাসিউরেন্স গাইডের শুরুতে যে মডেল কোয়েশ্চেন আছে এবং ৩৫তম বিসিএস হতে ৩৮তম বিসিএস পর্যন্ত রিটেন কোয়েশ্চেনের passage(part-A) অংশগুলো ঘরে বসে বসে পরীক্ষা দিন। এরপর উত্তরের সাথে মিলিয়ে নিজেকে ইমপ্রুভ করুন। কারণ এখানেই ১০০ মার্কস। পাশাপাশি ভোকাবুলারি শেখার চেষ্টা করবেন। সম্ভব হলে এ চর্চায় সপ্তাহে অন্তত একদিন ২-৩ ঘণ্টা করে সময় দিবেন। এতে ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং প্রাকটিসটাও হবে।
  • মডেল কোয়েশ্চেন সলভ করার সময় Words, phrases বা synonym দিয়ে making Sentence এর ক্ষেত্রে বিশেষ নজর রাখবেন। এখানে সচরাচর ১৫ নম্বর আসে। ১২-১৩ অনায়াসে পাওয়া যায়।
আরো যা করা প্রয়োজন- 
  • এখন synonym/antonym পড়তে পারেন। তবে এখানে ফুল নম্বর আশা করবেন না। অনেক ইংরেজ বিশারদও এখানে ফুল মার্কস পান না।
  • শুদ্ধ বানান ও সঠিক বাক্য গঠন করা ইংরেজি পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দু’টো বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন, না হলে অনেক লিখেও নম্বর কম পাবেন।
  • খুব বেশি কমপ্লেক্স বাক্য বা বোম্বাস্টিক ওয়ার্ডস ব্যবহার করতেই হবে এমন টেনডেন্সি অনেকের থাকে। এতে বেশি নম্বর পাবেন বলে তারা ভাবতে পারেন। কিন্তু এটি মোটেও ঠিক নয়। সহজ, প্রচলিত ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপনা করাটাই উত্তম।
যারা খুব ভালো নম্বর পেতে চান-
  • Thematic questions গুলোতে ৩ নম্বর থাকে। এগুলোর স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড উত্তর দিবেন। আর উত্তরগুলো করার সময় টেকনিক্যাল ওয়ার্ড ছাড়া passage হতে পারত পক্ষে কোনো একটি শব্দও ধার করবেন না। নিজের ভাষায় লিখুন। সম্ভব হলে বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করে উপস্থাপনা করুন। উপস্থাপনায় বৈচিত্র্য আনতে সর্বদা চেষ্টা করবেন।
  • Grammar & Usage অংশটি বিশেষ চর্চা করবেন। চেষ্টা থাকলে এখানে ৩০ নম্বরে ২৫+ পাওয়া যাবে।
  • বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদকীয় আর্টিকেল ট্রান্সলেশন করলে আপনার ভাষাগত সমৃদ্ধি আসবে। এক্ষেত্রে গ্রুপ ওয়ার্ক করলে উপকার পাবেন।
★ গণিত ★
প্রয়োজনীয় বই / গাইড- 

(১) ওরাকল/ অ্যাসিউরেন্স গণিত গাইড

(২) নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত বই + গাইড

(৩) সম্ভাব্যতা+বিন্যাস+সমাবেশের জন্য এইচ.এস.সি উচ্চতর গণিত প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (ঐচ্ছিক)

যাদের গণিতে ভালো দখল নেই, তাদের জন্য মাত্র ৫০ নম্বরের এই গণিত পরীক্ষার সিলেবাস অনেক বড় মনে হবে। তারা চাইলে এই গণিত চর্চা করেই দুই-তিন মাস কাটিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আপনি হয়তো সময় পাবেন সর্বোচ্চ ১২-১৪ দিন। তাই অন্যান্য প্রিপারেশনের ফাঁকে ফাঁকে সপ্তাহে ৪-৫ দিন দুই-এক ঘণ্টা করে গণিতের জন্য বরাদ্দ রাখতেই হবে।

আপনার গণিতে টার্গেট মার্ক কতো হবে তা নিয়ে প্রথমেই ভাববার দরকার নেই। বরং বিগত বছরের প্রশ্ন ঘেঁটে বারবার আসা টপিকগুলো একটা একটা করে শেষ করুন।

আপনার প্রথম টপিক হতে পারে 

মান নির্ণয় ও উৎপাদক। এ টপিকে কমপক্ষে ০৫ নম্বর থাকবেই। এই টপিকটি প্রথম চর্চা করুন নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ গণিত বই হতে। তারপর বিসিএস গাইড হতে। সবশেষে নবম-দশম উচ্চতর গণিত বই হতে। অন্য পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ৪-৫ দিন সময় নিয়ে এই একটি টপিক আপনি শেষ করতে পারেন।

আপনার পরের টপিক হতে পারে

একঘাত ও দ্বিঘাত সমীকরণ। ৫ নম্বর আশা করা যায় এখান হতে। আগের টপিকের স্টাইলেই পড়ুন। এখানেও অন্য পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ৪-৫ দিন সময় দিতে পারেন।

তারপর চর্চা করতে পারেন —

সেট ও ভেনচিত্র (০৫)

সূচক ও লগারিদম (০৫)

ত্রিকোণমিতি (০৫)

পরিমিতি [ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ] (০৫)

উপর্যুক্ত এ ছয়টি টপিক থেকে ৫টি টপিকে গণিত আসবেই এবং এগুলো সবচেয়ে সহজ টপিক। তো এগুলো চর্চা করেই আপনি গণিতে ২৫ পেয়ে যেতে পারেন।

এরপর লাভ-ক্ষতি, ঐকিক, সুদকষা — এ তিনটি টপিক চর্চা করলে আরো ০৫ নম্বর পাচ্ছেন। এখানে কারো কারো একটু বেশি চর্চা প্রয়োজন হতে পারে।

কার্তেসিয় জ্যামিতি (০৫)

সম্ভাব্যতা/বিন্যাস-সমাবেশ (০৫)

উপপাদ্য অনুসরণে প্রমাণ (০৫)

উপর্যুক্ত টপিকগুলো সঠিকভাবে চর্চা করলেই আপনার ৪০-৪৫ নম্বরের নিচে কমন পড়ার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়গুলোর মাঝে কয়েকটি টপিক আছে কিছুটা জটিল, শ্রমসাধ্য ও সময়সাধ্য। ধৈর্য ধরে প্রস্তুতি নিন।

-ফারহানা ইয়াসমিন

বিসিএস প্রিলিমিনারির প্রস্তুতিমূলক বইগুলো দেখুন 

গণিতের প্রস্তুতিতে কাজে লাগতে পারে যেসব বই 

ইংরেজি প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় বইসমূহ 

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading