সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের বৈচিত্রময় জীবন এবং লেখনী।

Untitled-1

বাংলা সাহিত্যজগতে সৈয়দ শামসুল হকের পরিচয় ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং নাটকসহ শিল্প-সাহিত্যের নানা অঙ্গনে। সৈয়দ শামসুল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কুড়িগ্রামে। আট ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিলেন সৈয়দ হক। ১৯৫১ সালে ‘অগত্যা’ নামে একটি ম্যাগাজিনে তার প্রথম প্রকাশিত লেখাটি ছিল একটি গল্প। এরপর তার প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন সাহিত্যের নানা ক্ষেত্রে। ১৯৬৬ সালে পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার। গুণী এই লেখকের কিছু জানা-অজানা তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো।

নাটকীয় জন্ম

অত্যন্ত নাটকীয় সময়ে সৈয়দ হক জন্ম নিয়েছিলেন। তাঁর জন্মের পরপরই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ। যখন প্রথম কৈশোর তখন দেশভাগ। আবার কৈশোর থেকে যখন যৌবনে পা রাখছিলেন তখন ভাষা আন্দোলন। যৌবনটা যখন বেশ জমে উঠেছে তখন সামরিক শাসন। তিনি হিন্দুপ্রধান জায়গায় জন্মেছিলেন, মুসলিম ঘরে জন্মেছিলেন, ব্রিটিশ আমলে জন্মেছিলেন।

এজন্য উনার লেখার মাঝে খুঁজে পাবেন অন্য এক আবেশ।  উনার উপন্যাস গুলোর কিছু অংশ পড়তে, এখানে ক্লিক করুন

 

সৈয়দ শামসুল হকের বইয়ের কিছু অংশ পড়তে এবং সংগ্রহ করতে 

 

বাবার শিক্ষা

সৈয়দ শামসুল হকের বাবার একটা অদ্ভুত শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিল। উনি ভোর রাতে মাঝে-মাঝে হককে ঘুম থেকে তুলে দিতেন। তুলে দিয়ে নানারকম গল্প করতেন। মানসিক অংক কষাতেন। যেমন, ‘বাবা ব্ল্যাকবোর্ড দেখতে পাচ্ছো?’ ‘হ্যাঁ পাচ্ছি।’ ‘লেখো দুশো সতের। এর নিচে লেখো একশ তের। এবার গুণ দাও।’ হক সেটি পারতো করতে। বাবা গল্প বলতেন অনেক। ওই সময়ে বাবার কাছে সোহরাব-রুস্তমের গল্প শুনেছেন। শুনেছেন শাহানামা একটা এপিক। ল্যাম্বস টেলসহ শেক্সপীয়ারের প্রত্যেকটা গল্প।

বাবার দেওয়া তাগিদ

হকের বাবা নিজের নামে বই ইসু্য করে তাঁর জন্য নিয়ে আসতেন। বলতেন, ‘পড়ো, পড়ো।’ বাবার পড়ার খুব ঝোঁক ছিল। সেটাই করেছেন। যেমন হক ক্লাস এইটে যখন পড়েন এক বর্ণও প্রায় না বুঝে ‘মেঘনাধ বধ কাব্য’ পুরো পড়ে ফেলেন।

বালক বয়সেই

বালক বয়সেই হক জানতেন যে শেক্সপীয়র নামে একজন নাট্যকার আছেন, যাঁর নাটকগুলো তিনভাগে ভাগ করা যায়। ঐতিহাসিক। এবং ট্র্যাজেডি। এবং কমেডি। দুর্গেশনন্দিনী, শরৎচন্দ্রের বই, শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত, শ্রীকান্তর গল্প।

ছেলেবেলার কথা

সৈয়দ হকের একেবারেই ছেলেবেলার কথা। তাঁদের ওই অঞ্চলে, সেই সময়ে বেশ কয়েকজন উৎসাহী যুবক ছিলেন। যাঁরা নিয়মিতভাবে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন করতো। তারপরে আবার ‘পাকিস্তান আন্দোলন’ যখন কাছাকাছি চলে আসল, তখন স্থানীয় মুসলিম সমপ্রদায়ের যুবকেরা, তারা ওই আবার বলে, একটা প্রতিপক্ষ দাঁড় করানো দরকার। প্রতিপক্ষ কে হবে আর, নজরুল জয়ন্তী শুরু করলো। এবং তাঁরা মাঝখান থেকে ভাবতেন, যে একজনের গালে দাড়ি আছে, একজনের গালে দাড়ি নাই, কিন্ত দুজনেই খুব বড় কবি।

রবীন্দ্রনাথের সাথে পরিচয়

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে হকের শৈশবেই পরিচয়, তাঁর কিছু কবিতা পড়তেন, পাঠ্যপুস্তক ছিল। তখন জানতেন না যে উনি খুব বড় একজন মানুষ। রবীন্দ্রনাথ মারা গেলেন, হকের তখন অল্প বয়স। কত হবে, ছয় সাত। তখন তাঁর বাবা মাকে বলছেন, ‘ওহে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মারা গেছে, বুঝলে?’ হক তখনও মনে করছিলেন, আরে সেই তো, ‘আমাদের ছোট নদী…’

একাকীত্বের উপকারীতা

হক মানুষ হিসেবে একা ছিলেন। এই স্বাতন্ত্র্য থেকে উপকৃত হয়েছেন তিনি, ক্ষতি হয়নি। প্রচুর সময় পেয়েছিলেন পড়বার, জানবার, বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হবার। বাংলাদেশে নিয়মিত যা লেখা বের হত তিনি তা নিয়মিত পাঠ করার চেষ্টা করতেন। এতে তিনি জানতে পারতেন, কারা কী ভাবছেন। তাদের কলম থেকে কী অক্ষর বের হচ্ছে।

দ্বিতীয়বার নিজের লেখা না পড়া

হক তাঁর লেখা দ্বিতীয়বার ফিরে পড়তো না কখনও। লেখা হয়ে গেলে তা মনে পাঠকের সম্পদ মনে করতেন, তাদের হাতেই ছেড়ে দিতেন। ভাবতেন, এতদিন যা তাঁর ছিল আজ তা পাঠকের বা সকলের।

আরোও পড়ুন ভালো থাকুন লেখক, ভালো থাকুন বিজয়ী সৈয়দ শামসুল হক  

 

সখের আঁকিয়ে

জীবনের বিভিন্ন সময় অনেক ছবি এঁকেছিলেন হক, যা নিতান্তই সখে, অবসর সময় কাটানোর জন্য। আড্ডা দিয়েছিলেন তাঁর স্টুডিওর ছবির ক্যানভাসে।

স্ক্রিপ্ট রাইটার

হক প্রচুর সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখেছেন, ৩০টির বেশি হবে। চিত্রনাট্য লেখাটা ছিল তাঁর কাছে কলম থেকে উপার্জনের পথ। একজন পেশাদার লেখক হিসেবে, যেমন সাহিত্যিক সাংবাদিকতাও করে, সাহিত্যিক অধ্যাপনাও করে, ওটাও তাঁর একটা প্রফেশন ছিল।

আমি তো এসেছি চর্যাপদের
অক্ষরগুলো থেকে
আমি তো এসেছি সওদাগরের
ডিঙার বহর থেকে।

-সৈয়স শামসুল হক

জনপ্রিয় গানের জনক

সৈয়দ হকের জনপ্রিয় একটি গান ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস/দম ফুরাইলেই ঠুস/তবু তো ভাই কারুরই নাই/ একটুখানি হুঁশ।’ এটা একটা সিনেমার গান। সিনেমার নাম ‘বড় ভালো লোক ছিল’।


তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট এবং উইকিপিডিয়া

rokomari

rokomari

Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money.

Leave a Comment

You May Also Like This Article


Notice: Undefined offset: 5 in /var/www/html/blog.rokomari.com/wp-includes/class-wp-query.php on line 3300

Notice: Trying to get property 'ID' of non-object in /var/www/html/blog.rokomari.com/wp-content/plugins/new-pc-functionality/views/relatable-posts-views.php on line 30

Notice: Trying to get property 'ID' of non-object in /var/www/html/blog.rokomari.com/wp-content/plugins/new-pc-functionality/views/relatable-posts-views.php on line 31

Notice: Trying to access array offset on value of type bool in /var/www/html/blog.rokomari.com/wp-content/plugins/new-pc-functionality/views/relatable-posts-views.php on line 33
Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading