ই-বুক: বই যখন ইলেকট্রনিক, জ্ঞান যেখানে ডিজিটালাইজড

ই-বুক

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চিরকালই মানবজীবনের উন্নতি সাধন এবং জীবনকে আরেকটু আরামদায়ক করার লক্ষ্যে কাজ করেছে। বাষ্পীয় ইঞ্জিন দিয়ে যে শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল, তা বিদ্যুৎ তৈরি এবং কম্পিউটার ও প্রাযুক্তিক বিপ্লবের মাধ্যমে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পেরিয়ে বর্তমানে চতুর্থ ধাপে এসে পৌঁছেছে। আর এ পর্যায়ের শিল্প বিপ্লবকে বলা হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি বিপ্লব। বলা হচ্ছে, আগামীর পৃথিবীটা তাদেরই হবে যাদের কাছে থাকবে প্রচুর পরিমাণ তথ্য।

গত শতাব্দীর মতো কামান দেগে আর আকাশ থেকে বোমা ফেলে যুদ্ধ করবে না মানুষ। এখন যুদ্ধ হবে সাইবার জগতে, তথ্য নিয়ে। সমগ্র পৃথিবীটা এখন কেবল অদৃশ্য বায়ুর স্তরেই ডুবে নেই, ডুবে আছে অদৃশ্য সাইবার জগতের মাঝেও। এই সাইবার জগতের একটা অংশের নাম ই-বুক। প্রযুক্তির কল্যাণে কাগজের পৃষ্ঠার পাশাপাশি বই এখন ইন্টারনেটেও বিরাজমান ই-বুক আকারে, বইয়ের হরফ এখন অনলাইন ভাণ্ডারে বিদ্যমান হাইপারটেক্সট হিসেবে। তথ্য জানা কিংবা জ্ঞানার্জনের আদিমতম উপাদান বই এখন ডিজিটাল জগতেরও অংশ।

বুক কী

ই-বুক কিংবা ইলেকট্রনিক বই হলো একপ্রকার ডিজিটাল ফাইল, যা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ব্যবহারোপযোগী এবং লেখা, ছবি, চার্ট ইত্যাদি ধারণ করে। এককথায়, লেখা বা টেক্সটের ডিজিটাল রূপই হলো ই-বুক। এটি কম্পিউটার বা মোবাইল সফটওয়্যারের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সাথে কম্প্যাটিবল করে তৈরি করা হয়। ছাপার জন্য তৈরি করা কোনো বই বা আনুষাঙ্গিক কোনো লেখার উৎসকে ডিজিটাল ফরম্যাটে পরিবর্তন করে ই-বুক তৈরি করা হয়।

স্মার্টফোনে বা কম্পিউটারে ই-বুক পড়া গেলেও কেবল ই-বুক পড়ার জন্য একপ্রকার বিশেষায়িত ডিভাইসও তৈরি করেছে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো, যেগুলোকে বলা হয় ‘ই-রিডার’ বা ‘ই-বুক রিডার’। ডিজিটাল ফরম্যাটের এই বই কিংবা ডকুমেন্টের আকার হয় অত্যন্ত ছোট। ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সহজেই সংরক্ষণ করা যায় এগুলো। স্মার্টফোনের অল্প পরিসর মেমোরি কার্ডে কিংবা কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে ই-বুকের একটি গ্রন্থাগারই সংগ্রহ করা যাবে অনায়াসে। কারণ, মাত্র ১ গিগাবাইট পরিমাণ ডিজিটাল স্টোরেজে গড়ে ৩০০ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট ৩ হাজারের অধিক বই সংরক্ষণ করা সম্ভব!

বুকের ইতিহাস

এঞ্জেলা রুইজ রোবেলস ছিলেন একজন স্প্যানিশ শিক্ষক। অন্যান্য শিক্ষকদের চেয়ে তিনি একটি বিষয়ে একেবারেই অন্যরকম ছিলেন। সেটি হলো শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা। শিক্ষার্থীদের তিনি নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। তাদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে স্কুলের আগে নিজেই ব্যক্তিগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করতেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি তার এরূপ মাতৃসুলভ দৃষ্টিভঙ্গিই ইতিহাসের পাতায় তার নাম লিখিয়েছে, বইপ্রেমীদের জ্ঞানচর্চার পথ প্রযুক্তির প্রসারের পথের সাথে মিলিয়ে দিয়েছে, কাগজের ছাপার হরফকে ডিজিটালাইজড করেছে।

এঞ্জেলা রুইজ রোবেলস
এঞ্জেলা রুইজ রোবেলস ও তার তৈরি পৃথিবীর প্রথম ‘অটোমেটেড বুক’ বা স্বয়ংক্রিয় বইয়ের প্রোটোটাইপ যন্ত্র ।

আজকের ই-বুকের শুরুটা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারী ফ্রাঙ্কোর স্পেনে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপর অযাচিতভাবে গণ্ডায় গণ্ডায় বই বহনের বোঝা চাপিয়ে দেয়া ছিল তখন স্পেনের প্রতিটি স্কুলের সাধারণ চিত্র। প্রতিদিন প্রত্যেকটি বিষয়ের বই বহন করে স্কুলে আসতে ভীষণ কষ্ট হতো শিক্ষার্থীদের। সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের এ সমস্যা থেকে কীভাবে মুক্তি দেয়া যায়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চিন্তাভাবনা করছিলেন রোবেলস। অবশেষে ১৯৪৯ সালে একটি যুতসই সমাধান খুঁজে পান তিনি।

সেবছর পৃথিবীর প্রথম ‘অটোমেটেড বুক’ বা স্বয়ংক্রিয় বইয়ের প্রোটোটাইপ তৈরি করেন এঞ্জেলা রুইজ রোবেলস। একটি বাক্সের মধ্যে নাটাই স্থাপন করে তা কম্প্রেসড বায়ুর সাহায্যে পরিচালনা করে যন্ত্রটি তৈরি করেন রোবেলস। যন্ত্রটি পুরোপুরি অ্যানালগ হলেও আধুনিককালের ইলেকট্রনিক রিডারের ধারণা মূলত এটি থেকেই এসেছে। দুর্ভাগ্যক্রমে, স্বৈরশাসক ফ্রাংকোর স্পেনে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় রোবেলসের এই দুর্দান্ত প্রয়াস কখনোই স্বীকৃতি পায়নি। তার তৈরি যন্ত্রটি কোনো প্রতিষ্ঠানই ব্যাপকভাবে তৈরি করার উদ্যোগ নেয়নি।

এরপর দীর্ঘদিন ই-বুকের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ১৯৬০ এর দশকের শেষভাগে আরপানেট উদ্ভাবন ছিল ই-বুকের ইতিহাসে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আরপানেট তথা ইন্টারনেট তখনও একেবারেই নতুন ধারণা, সবেমাত্র আমেরিকার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে। আরপানেটে তখন বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করা হতো, যা এর সাথে যুক্ত সকল ব্যবহারকারী দেখতে পাবেন। এই তথ্য শেয়ারিং থেকেই ই-বুকের যুগান্তকারী ধারণাটি আসে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইকেল হার্টের মাথায়।

মাইকেল হার্ট
মাইকেল হার্ট, পৃথিবীর প্রথম ইলেক্ট্রনিক বই বা ই-বুক তৈরি করেন ।

১৯৭১ সালে হার্ট তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল রিসার্চ ল্যাবের দৈত্যাকার জেরক্স মেইনফ্রেম কম্পিউটারটি ব্যবহারের সুযোগ পান। হার্টের বড় ভাইয়ের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যিনি কি না ঐ ল্যাবের অপারেটর ছিলেন, হার্টকে নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ করে দেন। আর এ সুযোগের পুরো সদ্ব্যবহার করেছিলেন হার্ট। এখনকার মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা গুগলের নিমিষেই অসীম তথ্যের ভাণ্ডার খুলে দেয়ার ক্ষমতা ছিল না তখনকার সেই আরপানেটের। একগুঁয়ে সেই ইন্টারনেটেই দিন-রাত কাজ করেন হার্ট।

১৯৭১ সালের ৪ জুলাই হার্ট সেই মেইনফ্রেম কম্পিউটার থেকে আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি টাইপ করে আরপানেটে প্রকাশ করেন। ঘোষণাপত্রটির সাথে ছিল একটি ছোট্ট বার্তা, “এই ঘোষণাপত্রটি ডাউনলোড করা যাবে।” ৬ জন মানুষ হার্টের এই বার্তাটিতে সাড়া দিয়ে ঘোষণাপত্রটি ডাউনলোড করেছিলেন। অনেকের মতে, এটিই ছিল পৃথিবীর প্রথম ই-বুক। রোবেলসের পৃথিবীর প্রথম অ্যানালগ রিডার তৈরির পর ই-বুকের উন্নয়নে এটিই ছিল প্রথম বড় অগ্রগতি।

মাইকেল হার্টের এই কাজটির গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তিনি কেবল কিছু বাক্যকে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে লিখিত করে সংরক্ষণ করেননি, তিনি আদতে একটি বৈপ্লবিক ধারণারই জন্ম দিয়েছিলেন। তার টাইপ করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ডাউনলোডযোগ্য ফরম্যাটে লভ্য হবার পর যেন কম্পিউটার ব্যবহারের নতুন একটি দ্বার উন্মোচিত হয়। মানুষ বুঝতে পারে যে, কম্পিউটার কেবল অংক করা, হিসাব-নিকাশ কিংবা কিছু তথ্য শেয়ারের জন্য নয়, বরং কম্পিউটার অবদান রাখতে পারে জ্ঞানচর্চার সবচেয়ে মৌলিক উপাদান বই সংরক্ষণেও। খুব বেশি মানুষ হার্টের ডিজিটাল ঘোষণাপত্রটি ডাউনলোড না করলেও তিনি দমে যাননি। তিনি একে একে ‘বিল অব রাইটস’, আমেরিকার সংবিধান এবং বাইবেলকে ডিজিটাল টেক্সট ফরম্যাটে রূপান্তরিত করে আরপানেটে ডাউনলোডের জন্য লভ্য করেন।

জেরক্স মেইনফ্রেম কম্পিউটার
জেরক্স মেইনফ্রেম কম্পিউটার

মাইকেল হার্টের পর ই-বুকের অগ্রগতিতে আবারও অনেকদিনের জন্য ভাটা পড়ে যায়। হার্টের ডাউনলোডযোগ্য টেক্সট ফরম্যাট তৈরির ১৬ বছর পর ১৯৮৭ সালে ‘ইস্ট গেট সিস্টেমস’ নামক একটি ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাজারে ছাড়ে ‘স্টোরি স্পেস’। এটি এমন একটি সফটওয়্যার যা দিয়ে কম্পিউটারে হাইপারটেক্সট আকারে বই পড়া, লেখা কিংবা এডিট করা সম্ভব। এই হাইপারটেক্সটে লেখার উৎস হাইপারলিংক করে সংযুক্ত থাকে এবং পাঠক তাৎক্ষণিকভাবে তা দেখতে পায়। মাইকেল জয়েসের লেখা ফিকশনধর্মী বই ‘আফটারনুন’ ছিল ইন্টারনেটে প্রকাশিত প্রথম হাইপারটেক্সট বই।

হাইপারটেক্সটের পর ই-বুকের অগ্রগতি খুব দ্রুত ঘটতে থাকে। পুরো ‘৯০ এর দশক জুড়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় আলোর বেগে প্রসারিত হতে থাকে ইন্টারনেট, উন্নত হতে থাকে প্রযুক্তি। আর ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির যুগপৎ বিকাশে জনপ্রিয়তা পেতে থাকে ই-বুক, দ্রুত বাড়তে থাকে ইলেকট্রনিক মাধ্যমের পাঠক। এই বাড়ন্ত পাঠকের বাজার ধরতে ১৯৯৩ সালে ই-বুক বেচাকেনার একটি ওয়েবসাইট লঞ্চ করে বিবলিওবাইটস। এর কিছুকাল পরই আমেরিকায় আসে ‘আইবুকস’, যা একইসাথে ছাপা এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমে বই প্রকাশ করতে থাকে। ই-বুকের গুরুত্ব অনুধাবন করে ‘অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস’ তাদের প্রকাশনীর অনেকগুলো বই ই-বুক আকারে প্রকাশ করে এবং নিয়মিত ই-বুক প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়।

হাইপারটেক্সট আকারে বই
ইস্ট গেট সিস্টেমস এর ‘স্টোরি স্পেস’ সফটওয়্যার, যা দিয়ে কম্পিউটারে হাইপারটেক্সট আকারে বই পড়া, লেখা কিংবা এডিট করা যেত ।

এরপর দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করতে থাকা ই-বুকের জগতে ২০০৭ সালে যুক্ত হয় অ্যামাজন, বাজারে আসে কিন্ডলসহ অসংখ্য কোম্পানির ই-রিডার। অ্যামাজনের ই-বুক আগমনের পর পৃথিবী জুড়ে ই-বুকের একটা বড়সড় বিপ্লবই ঘটে গেছে। প্রতিবছর ই-বুকের পাঠক সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে এ প্রজন্মের বইপ্রেমীরা শৈশব থেকে ই-বুক পড়েই অভ্যস্ত হচ্ছে। প্রতিবছর কোটি কোটি ই-বুক বিক্রয়ের তথ্যই এর প্রমাণ। ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে ই-বুক বিক্রয় হয়েছিল ২৬৬ মিলিয়ন ইউনিট। এই সংখ্যাটা মাত্র ১ বছরের ব্যবধানে ২০১৮ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮৭ মিলিয়নে! অনাগত দিনেও ই-বুকের পাঠক এবং ই-বুকের বাজার, দুটোই সমানতালে বাড়তে থাকবে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

বুক যেভাবে বদলে দিয়েছে পড়ার ধরন

সাধারণ বইয়ের সাথে ই-বুক পড়ার ধরনে বিস্তর পার্থক্য আছে। একজন পাঠক ই-বুক পড়তে পারেন যেকোনো উপায়ে, যেকোনো স্থিতিতে। কেননা ছাপা বইয়ের মতো ই-বুকের অক্ষরগুলো অপরিবর্তনীয় নয়। পাঠক তার মনোযোগ, চোখের দূরত্ব এবং আলোর তীব্রতা অনুযায়ী ই-বুকের অক্ষরগুলোর আকৃতি ছোট-বড় করে নিতে পারেন। নির্দিষ্ট অধ্যায় পর্যন্ত পড়ার পর বিরতি নিতে চাইলে ই-বুকে রয়েছে বুকমার্ক ব্যবস্থাও। অন্যদিকে ই-বুক রিডার, স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটার স্ক্রিনে ই-বুক পড়বার সময় স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়েও পাঠক নিজের চাহিদার সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন।

শুয়ে, বসে, হেলান দিয়ে কিংবা যেকোনো ভঙ্গিতে স্থির হয়ে হাতে ইলেকট্রনিক কোনো ডিভাইস নিয়ে তাতে ই-বুক পড়তে পারা যায়। এতে বই পড়া হয়েছে আরো সহজ এবং আরামদায়ক। তবে এর সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, কাগজের বই হাতে নিয়ে পড়বার সময় পাঠকের মনোযোগ ই-বুক পড়ার তুলনায় বেশি থাকে। কিন্তু আধুনিক প্রজন্ম, যারা কি না দিবা-রাত্রি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের স্ক্রিনেই ডুবে থাকে, তাদের জন্য ইলেকট্রনিক স্ক্রিনে মনোযোগ দেয়া কোনো সমস্যা নয়। প্রতিনিয়ত ই-বুকের পাঠক সংখ্যা বাড়তে থাকাটাই এর প্রমাণ।

প্রকাশনীগুলোয় বুকের প্রভাব

ডিজিটাল বইয়ের জন্য কাগুজে বইয়ের আবেদন কমে না গেলেও ডিজিটাল তথা ই-বুকের প্রসার প্রকাশনী ব্যবসা এবং ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। কাগুজে বইয়ের ক্ষেত্রে বইয়ের মূল্য নির্ধারণ করা বেশ সহজ। প্রকাশনীতে বইয়ের ছাপার খরচ, লেখকের পারিশ্রমিক এবং রয়্যালটি, সরবরাহকারদের লাভ- সবকিছু হিসাব করে একটি বইয়ের মূল্য নির্ধারিত হতো। কিন্তু ই-বুকের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা বদলে গেছে। পাঠকরা কাগুজে বইয়ের চেয়ে কম মূল্যে ই-বুক চান। আবার লেখকেরা কাগুজে বইয়ের চেয়ে অধিক পারিশ্রমিক আশা করেন এই ডিজিটাল ফরম্যাটে। ফলে প্রকাশনীগুলোকে সার্বিকভাবে বইয়ের মূল্য নির্ধারণ, রয়্যালটি নির্ধারণ, গ্রন্থস্বত্ব ঠিক রাখা সহ বই বিপণনের পুরো মডেলটা নিয়েই নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

ই-বুক কী কাগুজে বইয়ের আবেদন কমিয়ে দিচ্ছে

বুক কী কাগুজে বইয়ের আবেদন কমিয়ে দিচ্ছে?

ই-বুকের প্রসার বৃদ্ধির সাথে সাথে কাগুজে বইয়ের প্রচলন কমে যাবে, এরকম একটা ধারণা একেবারে শুরু থেকেই ছিল। অনেকেই মনে করতেন, ই-বুক যত সহজলভ্য হবে, কাগুজে বইয়ের পাঠক তত কমতে থাকবে। কারণ, প্রযুক্তির বিস্ময়কর উন্নয়নে মানুষ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে। বই পড়ার বেলাতেও তা-ই। ঘরে বসে বই ডাউনলোড করে যখন যেখানে খুশি হাতে নিয়ে স্বচ্ছন্দে পড়তে পারা যায় ডিজিটাল ফরম্যাটের এই বই। তাই এর প্রসার বৃদ্ধি পাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ই-বুক কখনোই কাগুজে বইয়ের বিকল্প হবে না। কেননা, বছর বছর ই-বুকের কাটতি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে কাগুজে বইয়ের চাহিদাও। জন্মদিনে, নতুন বছর উপলক্ষে কিংবা কোনো বিশেষ দিনে প্রিয় মানুষকে উপহার দেয়ার জন্য এখনো পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে কাগুজে বাধাই করা বই। ই-বুক যেহেতু গিফট করা যায় না, তাই কাগুজে বই এখনও অনেকের প্রথম পছন্দ।

সব মিলিয়ে ই-বুক বা ইলেকট্রনিক বুক আধুনিক প্রযুক্তির এক অবিস্মরণীয় অবদান। ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সহজলভ্য বইয়ের এ ফরম্যাট বইয়ের দামকে নিয়ে এসেছে সকল শ্রেণীর মানুষের নাগালের মধ্যে। আর বইপ্রেমীদের জন্য বই পড়াকে করেছে আরো সহজ, সুবিধাজনক এবং আরামদায়ক। ঘরে-বাইরে, ভ্রমণরত অবস্থায় বাসে, ট্রেনে, রেস্টুরেন্টে, অফিসে কাজের ফাঁকে- যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে স্মার্টফোন কিংবা ই-রিডারটি হাতে নিয়ে বই পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে ইবুক। পড়ুয়াদের নিকট তাই ই-বুক আশীর্বাদ স্বরূপ। আগামীর পৃথিবীটা যে পুরোপুরি প্রযুক্তি নির্ভর হবে, তা তো নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

muthoboi
রকমারি ডট কম এর নিজস্ব ই-বুক ‘মুঠোবই’

সেক্ষেত্রে, ই-বুকই হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চার প্রধান উপকরণ। আর এই উপকরন কে আরও সহজতর করতে বাংলাদেশের বইয়ের বাজারে সবচেয়ে বিশ্বস্ত নাম রকমারি ডট কম নিয়ে আসছে ‘মুঠোবই’ নামে ই-বুক ! ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা ই-কমার্স ভিত্তিক বই বেচাকেনার প্রতিষ্ঠান রকমারি ডট কম ইতোমধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় বই বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর পাঠকের হাতে ১০ লক্ষাধিক বই পৌঁছে দেয়া এ প্রতিষ্ঠান এবার বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে নিজস্ব ই-বুক ‘মুঠোবই’। ই-বুকের নানান ফরম্যাটের মাঝে রকমারি ডট কম দেশে প্রস্তুত করেছে ডট রক (.rok) নামক একটি ফরম্যাট, যে ফরম্যাটে মুঠোবই পাঠকের নিকট সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি। বুকমার্ক করা, নির্দিষ্ঠ শব্দ বা বাক্য কিংবা কোনো কিছুর নাম সার্চ করার সুবিধা সম্বলিত এই ডিজিটাল বই শীঘ্রই বাজারে ছাড়বে রকমারি। ফলে বাংলাদেশের ই-বুক পাঠকদের মাঝে ডিজিটাল বইয়ের এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

rokomari

rokomari

Published 29 Jan 2018
Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money.
  4      2
 

comments (2) view All

Leave a Comment

  1. Shakhawath mohim
    Shakhawath mohim

    mutho boi এর বই এর কালেকসন খুব কম এবং যে কয়টা বই আছে দাম অনেক বেশি।এর থকে সেই বই এপ জোশ।প্রতি সাপ্তাহিক নতুন বই আপডেট হই ,দামও হাতের নাগালে।

  2. Pingback: কি করবেন আর কিভাবে করবেন !! কমিউনিকেশন হ্যাকস - রকমারি ব্লগ

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png