সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াতটি নিয়ে কখনো ভেবেছেন কি? (দ্বিতীয় পর্ব)

সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াতের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ
first ayat of sura fatiha 2

প্রথম পর্বের পর……

পবিত্র কুরআনের একটি অলৌকিকতা হলো এর সংক্ষিপ্ততা। আগের প্রত্যেকটি আসমানীগ্রন্থ বা ঐশীবানীগুলো দেয়া হয়েছিলো নির্দিষ্ট জাতি ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। ধরুন ইঞ্জিল (বাইবেল) নাজিল করা হয়েছিলো ঈসা(যিশু) ও তার জাতীর জন্য। সেটি কিন্তু পুরো পৃথিবীর জন্য কিংবা সবসময়ের জন্য দেয়া হয়নি। আমরা যদি পবিত্র কুরআন দেখি-

• সূরা ইমরান, অধ্যায়-৩, আয়াত-৪৯
‘আমি তাকে (ঈসাকে) বনী-ঈসরাইলের রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছি।’

অর্থাৎ কুরআন বলছে ঈসরাইলবাসীদের জন্যই কেবল ঈসা (আল্লাহ তাঁর প্রাপ্য সম্মান দিক) কে পাঠানো হয়েছিলো। পবিত্র বাইবেল কী বলে এ ব্যাপারে? যদি আপনি বাইবেল খোলেন তবে দেখবেন-
গসপেল অব ম্যাথিউ, অধ্যায়-১৫, অনুচ্ছেদ-২৪
যিশু বলছেন,

‘আমি এই পৃথিবীতে এসেছি শুধুমাত্র ঈসরাইলবাসীদের পথ দেখানোর জন্য।’

সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াতটি নিয়ে কখনো ভেবেছেন কি? (প্রথম পর্ব) 

এছাড়াও আছে-

• গসপেল অব ম্যাথিউ, অধ্যায়-১০, অনুচ্ছেদ-৫

‘তোমরা জেন্টাইলদের (ইহুদি নয় এমন) পথ অনুসরণ করো না এবং সামারকানদের শহরে প্রবেশ কোরো না। বরং ঈসরাইলবাসীদের পথই অনুসরণ করো।’

আমরা কুরআন ও বাইবেলের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ থেকে বুঝতে পারি ঈসা (যিশু) ও তার উপর প্রেরিত গ্রন্থ ছিলো নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট জাতির জন্য। কিন্তু মুহাম্মদ (তাঁর জন্য দুরুদ ও সালাম) ও তাঁর উপর নাজিলকৃত গ্রন্থ কুরআন সমগ্র সবসময়ের জন্য সমগ্র মানবজাতির জন্য। আর তিনিই ছিলেন ঈশ্বর প্রদত্ত সর্বশেষ নবী। এব্যাপারে উল্লেখ পাবেন পবিত্র কুরআনে-

• সূরা আহযাব, অধ্যায়-৩৩, আয়াত-৪০
‘মুহাম্মদ (সা) তোমাদের মধ্যে কোন ছেলের পিতা নন, তিনি আল্লাহর রাসুল ও শেষ নবী।’

এ ব্যাপারে কিন্তু বাইবেলেও আছে। সেটি এখন অপ্রাসঙ্গিক বিধায় উল্লেখ করছি না। তবুও কেউ আগ্রহী হলে বাইবেল খুলে বুক অব ডিউটারনমির ১৮ নম্বর অধ্যায়ের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ ভালো করে পড়ে দেখতে পারেন।

আমরা বুঝতেই পারছি মুহাম্মদ (সা) ছিলেন শেষ নবী। এবং তিনি যে সমগ্র মানবজাতির জন্য সেটিও দেখেছি। তাও আমরা পবিত্র কুরআনের ২১ নম্বর অধ্যায়ের ১০৬ নম্বর আয়াতটি ভালোভাবে পড়ে দেখলে হয়তো আরো পরিস্কারভাবে বুঝতে পারেন।

আসলে আমি বুঝাতে চাইছি কুরআনের অলৌকিকতা নিয়ে। সমগ্র মানবজাতির জন্য রচিত এই গ্রন্থের সংক্ষিপ্ততা কি আপনাকে ভাবায় না? এটা আদৌ কিভাবে সম্ভব যে মাত্র ৫০০-৬০০ পেজের একটি বইতে কিনা সমগ্র মানবজাতির দৈনন্দিন জীবনবিধান থেকে শুরু করে রয়েছে পরকালের মুক্তি? আসলেই, আল্লাহ কতই না পবিত্র!

সে হিসেবে দুটো শব্দ সানাতুন ও শুকরুন লেখার চেয়ে এমন একটি শব্দ দেয়াই গ্রহণযোগ্য যেটি একই সাথে দুটো শব্দের চেয়ে উত্তম। হ্যাঁ, মহাজ্ঞানী উত্তম শব্দটিই ব্যবহার করেছেন।

যদি আমরা সেই যুক্তি থেকে বেরিয়েও আসি, তবুও আমরা দেখবো, এখানে হামদ শব্দের বিকল্প আসলে কিছুই নেই। কারণ- ধরা যাক, এখানে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দটির বদলে দেয়া হলো ‘সানাতুও ওয়া শুকুরুল্লাহ’। এতে কী হতো আসলে? আসলে আরবীতে ‘ওয়া’ শব্দটির সহজ বাংলা হলো ‘এবং’। কিন্তু আরবীতে ‘ওয়া’ আসলে ইংরেজিতে ‘and’ এর মতো অর্থ প্রকাশ করলেও এটি নিয়ে ভাবার ব্যাপার আছে। যখন আপনি ‘এবং’ শব্দটা ব্যবহার করছেন, তখন আসলে আপনি দুটো বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা প্রকাশ করছেন।

আপনি যখন বলছেন তুমি ভালো লেখক এবং ধৈর্যশীল। এতে কী বোঝাচ্ছে? তুমি লেখার সময় ভালো এবং কিছু সময় ধৈর্য্যেরও পরিচয় দিয়েছো। বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা প্রকাশ করছে। তেমনিভাবেই যদি ‘সানাতুও ওয়া শুকরু’ বলা হয়, তবে অর্থটা কিন্তু বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতায় নিয়ে যায়। যেমন, তাঁর কিছু কাজের জন্য প্রশংসা ও কিছু কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা। মহান আল্লাহ তো সবসময়ের জন্য প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার প্রাপ্য। আর তিনি এমন এক শব্দের ব্যবহারই করেছেন, যার মাধ্যমে এসব শব্দের মত কোনো সন্দেহের অবকাশই রইলো না!

আমরা আগেই দেখেছি শব্দের শুরুতে আলিফ-লাম যোগ করে নির্দিষ্টতা বোঝায়। আপনি যখন কারো প্রশংসা ও ধন্যবাদ দিচ্ছেন তখন ‘কাউকে’ ধন্যবাদ দিতে হবে তা নিয়েও আগে আলোচনা হয়েছে। এবার একবার ভাবুন, সবসময়ের জন্য একই সাথে প্রশংসা ও ধন্যবাদ প্রাপ্যের ব্যাপারে আল্লাহ এক শব্দেই সমাধান করে দিলেন।

এবার ফিরে আসি বিশেষ্যতে। যদি হামদ শব্দটি ইসম তথা বিশেষ্য না হয়ে ক্রিয়াপদ হতো, তবে কী হতো? ভেবে দেখলে বুঝবেন অর্থের তেমন কোন পরিবর্তনই হতো না। সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁর জন্য- এটাকে ক্রিয়ায় নিলে বলতে হবে, সব প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন করছি। একই তো হলো? স্কুলে থাকতে আমরা প্রায় প্রত্যেকটি ভাষার গ্রামারেই একটি অংশ পড়েছি যার নাম ‘কাল’ বা Tense। আরো সহজভাবে বললে একটা সংজ্ঞা সবাই মুখস্থ করে আসছি সেই ক্লাস ফাইভ থেকেই, যে পদের কাল আছে তাকেই ক্রিয়াপদ বলে।

মানে, ক্রিয়াপদের জন্য একটি সময় নির্ধারণ আবশ্যক। আপনি বলতে পারবেন না যে, আমি ভাত। আপনার সময় বা কাল উল্লেখ করে বলতেই হবে- আমি ভাত খাবো/খেয়েছি/খেয়েছিলাম/খেয়ে দেখবো। আপনি কাল ছাড়া কোনভাবেই ক্রিয়াপদের পূর্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারবেন না। অথবা কোন ক্রিয়াকেই অনন্তকালের দিকে ঠেলে দিতে পারবেন না। ক্রিয়া কখনও অনন্তকাল চলতে পারে না। আপনাকে বর্তমান, অতীত কিংবা ভবিষ্যতের মধ্যেই থাকতে হবে।

এখন আপনি যদি বলেন, আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি- এর মানে কি এটা প্রমানিত হয় যে আপনি গতকাল রাতেও আল্লাহর প্রশংসা করেছিলেন? না আপনার কথায় এটাই বোঝা যায় যে, আপনি বর্তমানেই আল্লাহর প্রশংসা করছেন। কিন্তু আল্লাহর প্রশংসা তো সব সময়ের জন্য। আপনি যদি সবসময়ের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করতে চান তবে কী করতে হবে? ক্রিয়াপদের সাথে সময় যুক্ত করে বলতে হবে, আজকে সকালের জন্য প্রশংসা, আজকে দুপুরের জন্য প্রশংসা, আজকে বিকেলের জন্য প্রশংসা।

পৃথিবীর কোনো ভাষাতেই এরচে উত্তম কোনো পন্থা নেই ক্রিয়াপদ ব্যবহার করার। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা শুধুমাত্র একটি শব্দকে বিশেষ্য বানিয়েই এসকল কিছুর শর্ত তুলে ফেললেন। আপনি যখন আলহামদুলিল্লাহ বলছেন, তখন একই সাথে সবসময়ের জন্য তার প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফেলছেন, কোনো সময়কে বাদ না দিয়েই। এতে করে আরো বোঝায় যে, আপনার সকাল কিংবা বিকেলের আলাদা প্রশংসা পাবার জন্য আল্লাহ মুখাপেক্ষী নন। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ কত বড় ব্যাকরণবিদ!

মুখাপেক্ষীর ব্যাপারটা কিন্তু ক্রিয়া দিয়ে আরেকভাবেও দেখানো যায়। আরবী ব্যাকরণ যারা পড়েছেন তারা জানেন, ক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফেল’। এবং যিনি ক্রিয়া সম্পাদন করেন তাকে বলা হয় ‘ফায়েল’। আর আরবী ব্যকরণ অনুযায়ী কখনই ফেল তার ফায়েল ছাড়া কাজ করতে পারে না। অর্থাৎ কর্তা প্রয়োজন। ফায়েল বা কর্তা ছাড়া আপনি কখনই আরবীতে অর্থবহ বাক্য প্রকাশ করতে পারবেন না। আপনি যদি ক্রিয়াপদ ব্যবহার করে প্রশংসা করতে চান, তবে আপনার অবশ্যই বলতে হবে ‘আমি’ প্রশংসা করছি। অর্থাৎ এই বাক্যে প্রশংসার জন্য কর্তা ‘আমি’র মুখাপেক্ষী। কিন্তু আল্লাহ এমন একভাবেই শব্দটি ব্যবহার করলেন যাতে করে কোন মুখাপেক্ষীরই প্রয়োজন পড়লো না। সত্যিই আল্লাহ কোনোভাবেই আমার-আপনার প্রশংসা বা কৃতজ্ঞতার মুখাপেক্ষী নন।

এটুকু আলোচনাই আমার মনে হয় হামদ শব্দের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে যথেষ্ট। কিন্তু আরেকটা ব্যাপার বলা যেতে পারে। সেটি হলো, আপনি কি খেয়াল করেছেন এখানে প্রশংসা করতে আদেশ করা হয়নি। যেহেতু কুরআনের প্রথম আয়াত এটি তাই এখানে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপনের আদেশ বা অনুজ্ঞা করাটা অপ্রাসঙ্গিক হতো বলে আমার মনে হয়না। কিন্তু ধরুন আপনি একজনের হয়ে কাজ করেন। আপনার বস আদেশ দিচ্ছেন কেউ এলে আপনার প্রশংসা করতে। এতে তার সম্মান আরো বাড়বে।

আপনি যদি একটু উল্টো করে ভাবেন যে, আপনার বস আসলে সম্মান বৃদ্ধির জন্য আপনাকে প্রশংসার আদেশ দিচ্ছেন। এর মানে দুটো হতে পারে। এক. বস তার সম্মান বৃদ্ধির ব্যাপারে একটি দিকে আপনার প্রশংসার উপর নির্ভরশীল। দুই. ঠিক ঐ মুহুর্তে তার প্রশংসা আপনি না করলে তার সম্মান প্রকাশ পাবে না। কিন্তু দেখুন, আল্লাহ আদেশ বা অনুজ্ঞাসূচকের এই ফাঁক-ফোকর থেকে বেরিয়ে এমনভাবেই শব্দটি ব্যবহার করলেন, তাতে না আল্লাহ আপনার প্রশংসার মুখাপেক্ষী হচ্ছেন, আর না আপনি প্রশংসা না করলে তাঁর সম্মানের কমতি হচ্ছে। ভাবা যায়!

এখানেই শেষ না করে চলুন আরো গভীরে ভাবার চেষ্টা করি। ধরা যাক, সব মানলাম। ‘হামদ’ শব্দটি থাকলো। কিন্তু হামদ+আল্লাহ অর্থাৎ হামদুলিল্লাহ না বলে যদি শব্দটি আগে পরে করে দেই? অর্থাৎ যদি আল্লাহ+হামদ বা লিল্লাহিল হামদ বলা হতো, তবে কি অর্থের তেমন পরিবর্তন হতো? ইসলাম ধর্মের যারা ঈদের নামায পড়তে গিয়েছেন, তারা একটি বিশেষ (তাকবিরে তাশরিক) দুয়া পড়েছেন, যার একদম শেষ বাক্যে আছে ‘ওয়ালিল্লাহিল হামদ’। একই শব্দ আছে পবিত্র কুরআনের সূরা জাসিয়ার ৪৫ নং অধ্যায়েও।

এখানে অর্থগুলো ভালোভাবে খেয়াল করলে একটা জিনিস আপনার উপলব্ধিতে সহজেই আসার কথা। সেটা হলো, আপনি যখন কাউকে কিছু করতে বলছেন তার মানে তিনি সেটা করেন না অথবা তিনি সে ব্যাপারে একমত নন। ধরুন, আপনি আর আপনার বন্ধু যখন একসাথে বসে ভাত খাচ্ছেন, তখন কিন্তু আপনি তাকে বলবেন না, ‘ভাত খাও’। যখন আপনার বন্ধু খেতে চাইছে না বা খায়নি, তখন আপনি তাকে ভাত খাওয়ার জন্য বলতে পারেন। এটা আদেশ বা অনুজ্ঞা নয়; বরং তথ্য প্রদানও হতে পারে। দ্বিমতে থাকা ব্যক্তিকেই কেবল আপনি বলবেন বা নতুন তথ্য দেবেন।

খেয়াল করুন, পবিত্র কুরআন শুধু আরব বা মুসলিমদের জন্য নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য। আল্লাহর জন্য প্রশংসা করতে সব মুসলিম একমত ধরে নিই। এখন, কুরআন যদি বলে ‘লিল্লাহিল হামদ’, তবে কিন্তু দ্বিমত পোষনকারীদের জন্যই বলছে। কিন্তু যখন আমি একজন মুসলিম হিসেবে ‘লিল্লাহিল হামদ’ বলবো, তখন শুধুমাত্র এই কথার সাথে দ্বিমত পোষনকারীদের জন্যই বলতে পারি, যেটি সূরা জাসিয়ায় মুশরিকদের ব্যাপারে বলতে গিয়ে বলা হয়েছে। একবার ভাবুন, সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশ্যে এমনই এক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে করে কোনো দ্বিমত-একমতের প্রশ্নই থাকলো না। সুবহানাল্লাহ!

‘আলহামদু’ নিয়ে কি আরো কিছু বলার প্রয়োজন? আমি আসলেই জানি না এটুকুই যথেষ্ট কিনা। আর আমি এটাও জানি না, মহাজ্ঞানী না জানি আরও কত তাৎপর্য এই শব্দের মধ্যে রেখেছেন। আমরা তার পরের শব্দে যেতে পারি। ‘আলহামদু’ শব্দের পরেই এসেছে সবচেয়ে প্রচলিত শব্দ ‘আল্লাহ’। বিশ্বাস করুন, এখানে আল্লাহ শব্দটির তাৎপর্য এত বেশি যে, উপরে শুধু আলহামদু নিয়ে কথা বলতে যা যা বলতে হয়েছে, তারচেয়ে অনেকাংশে বেশি বলতে হবে ‘আল্লাহ’ শব্দটির তাৎপর্য নিয়ে। তাই আমরা শুধুমাত্র একটি দিক দেখেই এই পুরো বিষয়টির তথা সূরা ফাতিহার বিষয়টির ইতি টানবো।

একটাই প্রশ্ন। এখানে আল্লাহ শব্দ কেন ব্যবহার করা হলো? তাঁর অন্য নাম কেন ব্যবহার করলেন না? আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, আল্লাহর ৯৯টি প্রচলিত নামগুলো কিন্তু তাঁর ‘গুণবাচক’ নাম। অর্থাৎ প্রত্যেকটি নামেই তাঁর কোনো না কোনো গুণ  প্রকাশ করে। কিন্তু প্রথম আয়াতে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার জন্য এমন মাহাত্ম্যপূর্ণ শব্দগুলো যার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, তাঁর গুণাবলী প্রকাশ করা প্রয়োজন, নাকি তাঁর পরিচয়? কোনটা প্রাধান্য পাবে? আমি যদি আপনার সাথে পরিচিত হতে যাই, তবে কি গিয়ে বলবো, ‘আমি লম্বা ও বেশ সুন্দর হওয়ায় আমাকে মেয়েরা পছন্দ করে? আশা করি আমার সাথে আপনার পরিচয়টা ভালো লেগেছে?’ কখনও কি এমন সম্ভব? আপনি তো বলবেন আমি আমার গুণ (?) বললাম মাত্র। পরিচয়টা কোথায়?

আমি কী করি, কোথায় থাকি, এটাই হলো পরিচয়। তো, এখন যদি আমি বলি, ‘হ্যাঁ ভাই, আমি শনির আখড়া থাকি, মাঝে মাঝে টিএসসি যাই বান্ধবীদের সাথে দেখা করতে। এটাই আমার কাজ।’ আপনি কি এটাকে আমার পরিচয় বলবেন? আমি তো আপনার কথামতো কোথায় থাকি, কী করি, সবই বললাম। কিন্ত তাও পরিচয় হলো না!

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াতে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার জন্য একজনের ব্যাপারে বলছেন, যিনি আমাদের প্রভু। তাকে কিভাবে খুশি করতে হবে বা তাঁর কথাগুলো কিংবা গুণগুলো কী কী, সবই আপনার জানা প্রয়োজন। কিন্তু তারও আগে তাঁর পরিচয় জানা প্রয়োজন। আল্লাহ কতই না জ্ঞানী, তিনি এমন এক শব্দ ব্যবহার করলেন, যা দিয়ে শুধু আল্লাহকেই পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়। এমন কিছু বললেন না, যার অংশীদার অন্য কেউ হতে পারে। এমন কোনো নাম বললেন না, যা অন্য কারো নাম হতে পারে!

এখানে তো মাত্র দুটি শব্দ নিয়ে  আলোচনা করা হলো। আপনি যখন কোরআন পড়বেন, তখন প্রত্যেকটি শব্দে এরকম অসংখ্য তাৎপর্য দেখতে পাবেন। সহস্র আয়াতজুড়ে ছড়িয়ে আছে অলংকারিক বৈচিত্র্য। আপনার শুধু উচিত তা ভেবে বের করা। আমরা কত সৌভাগ্যবান যে, এই পবিত্র ও আশ্চর্য এক গ্রন্থ কোরআন আমাদের দেয়া হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌!

আরও পড়ুন: 

সুরা ফাতিহার প্রথম আয়াতটি নিয়ে কখনো ভেবেছেন কি? (প্রথম পর্ব)

কোরআনেও কি বৈপরীত্য আছে ?

পবিত্র কোরআন-এর তাফসির গ্রন্থগুলো দেখুন

জনপ্রিয় ইসলামি বইগুলো দেখুন 

 

Zubayer Ibn Kamal

Zubayer Ibn Kamal

For the last half a decade, I have been writing stories, articles, features, and other content in various national level magazines. I am most interested in creative writing. I have read thousands of fiction books in the last few years. I have memorized the book of the last revelation of God. My day goes by reading books and thinking.

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading