কোয়ারেন্টাইনের বৈশাখ আনন্দময় করতে আপনার জন্য ৭ টি পরামর্শ

Untitled-1

পরিবেশ পরিস্থিতি যেমনই হোক বছর ঘুরে ঠিকই আবার বাংলা নববর্ষের আগমন। কে জানত আর সব বছরের মত মঙ্গল শোভাযাত্রা দিয়ে শুরু হবে না এবারের নববর্ষ। রমনা জুড়ে থাকবেনা সেই কোলাহলপূর্ণ রঙেল মেলা। বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের পরিবার নিয়ে পহেলা বৈশাখ কাটাতে হবে বাড়িতে থেকে। নিজের এবং দেশের ভালোর জন্য এটুকুতো করাই যায়। তবুও পরিবারের ছোটদের ইচ্ছে হতেই পারে নববর্ষ উদযাপনের। চলুন জেনে নেই কিভাবে পরিবার নিয়ে ঘরে বসে উৎযাপন করবেন বাঙালির বড় উৎসব নববর্ষ।

৭. ভোরের আকাশ দেখুন
নববর্ষের দিনটা শুরু করতে পারেন একদম ভোরে ঘুম থেকে উঠে। সুন্দর একটি সকাল আপনাকে সব ভুলিয়ে মন ভালো করে দিতে পারে। প্রার্থনা বা মেডিটেশন দিয়ে শুরু হতে পারে সকালটি। সুন্দর একটি দিন কাটাতে এ সময় মানসিক সুস্থতা খুব জরুরী।

শহরে ভোরের আকাশ
শহরে ভোরের আকাশ, ছবিঃ অন্তর্জাল

৬. খাওয়া দাওয়া
পহেলা বৈশাখ অথচ পান্তা ইলিশ হবেনা তাই কী হয়? আসলে এ দিনটিতে যতটা না পান্তা ইলিশ খাওয়া তারচে বেশি আয়োজনটা মুখ্য হয়ে ওঠে। তাই বাড়িতে যদি আগে থেকে ইলিশ সংরক্ষণ করা না থাকে তবে বাইরে গিয়ে কিনতে হবে না। ঘরে থাকা যে কোন মাছ দিয়ে এবার চালিয়ে নিন। প্রয়োজনে ঘরে থাকা খাবারগুলো দিয়ে কয়েক পদের ভর্তা তৈরি করে নিতে পারেন। পুরোপুরি না হলেও পরিবারকে নিয়ে পান্তা খাওয়ার আমেজটা ঠিক পেয়ে যাবেন।

পান্তা ইলিশ
বৈশাখে খাওয়া দাওয়া

৫. ছোটখাট চড়ুইভাতি
দিনটাকে বাচ্চাদের সহ সবার জন্যে স্পেশাল করতে চাইলে সবাই মিলে একসাথে ঘরটা সাজিয়ে গুছিয়ে ফেলতে পারেন। ঘর গুছিয়ে কাগজ কেটে সুন্দর করে বৈশাখী থিমে সাজালেন। দুপুরের রান্নাটা পরিবারের সবাই একসাথে করা যেতে পারে। স্পেশাল কোন ডিশ তৈরি করা যায় সবাই মিলে। কেউ কাটাকুটি করবে, কেউ রান্না আর ছোটরা পরিবেশন করতে পারে। নিয়মিত কাজটাই সবাই মিলে করলে দেখবেন একটা চড়ুইভাতির আমেজ আসবে।

চড়ুইভাতি
ঘরোয়া পিকনিক

৪. সাজগোজ আর বেড়ানো
ঘরে বসে সেজে কী করবেন? কিন্তু বাচ্চারা নিশ্চয়ই প্রতি পহেলা বৈশাখে বাবা মা কে পাঞ্জাবী আর শাড়ি পরে সাজতে দেখেছে। তারা নিজেরাও নতুন পোশাক পরে সেজেগুজে বেড়াতে গেছে? তবে এবার যখন তা হবেনা নিশ্চয়ই মন খারাপ লাগবে। তাই নতুন পোশাক না হলেও আগের বছরের বৈশাখী পোশাক পরে সবাই মিলে সেজেগুজে তৈরি হয়ে নিন। বাড়ীর ছাদে গিয়ে কিছুটা সময় কাটান। ছবি তুলুন, গল্প করুন, হইহুল্লোর করুন অথবা সবাই মিলে ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও করতে পারেন।

সাজগোজ
সাজগোজ

৩. অনলাইন থেকে দূরে থাকুন
এ দিনটি টেলিভিশন, পত্রিকা ও সোস্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন। কারণ এরকম পরিস্থিতিতে নিউজ দেখে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা খুব কঠিন। আপনার আমার মানসিক চাপ, মন খারাপের প্রভাব পরবে পরিবারের ওপর বিশেষ করে শিশুদের ওপর। তাই অন্তত এ দিনটি অনলাইন থেকে দূরে থেকে সবাই মিলে আনন্দে কাটান।

অনলাইন থেকে দূরে থাকতে লুডু খেলা

২. সৃজনশীল কিছু করুন
পরিবারকে সাথে নিয়ে সৃজনশীলতা আসলে যে কোন কাজের মধ্যেই নিয়ে আসতে পারেন। ঘর সাজাতে বাচ্চাদের বলতে পারেন কাগজ কেটে ফুল বানাতে, বৈশাখী ছবি আঁকা যেতে পারে। নিজেরাও বাসায় থাকা পত্রিকা আর কাগজ কেটে মুখোশ বা ঘুড়ি বানাতে পারেন। আরো ভালো হয় যদি নববর্ষ ১৪২৭ সামনে রেখে সবাই মিলে আগে থেকে একটি দেয়াল পত্রিকা তৈরি শুরু করতে পারেন। পরিবারের একেকজন একেকভাবে কবিতা, ছড়া, গল্প আর ছবি এঁকে পত্রিকা সাজাবে আর সে পত্রিকা প্রকাশ হবে নববর্ষের দিন। দেখবেন সবার মধ্যে এ নিয়ে বেশ উত্তেজনা কাজ করবে। আর উদযাপন ও হবে বেশ।

 ক্রিয়েটিভ কাজ
ঘরে বসে ক্রিয়েটিভ কাজ

১. সন্ধ্যারাতে বইপড়া
সন্ধ্যার সময়টা বই পড়ে কাটাতে পারেন। এ সময়টা যে যার ইচ্ছেমত বই পড়ে পড়লেন। আবার সবাই মিলে ছোট বুক সেশন ও করে ফেলতে পারেন। যে যার পড়া বই নিয়ে কিছু বলতে পারে। দেখবেন বই পড়া দিয়ে সময়টা খুব ভালো কেটে যাবে। আর যদি বই পড়তে ভালো না লাগে আর টুকটাক লেখার অভ্যাস থাকলে লিখতে পারেন বইয়ের রিভিউ। রকমারি ডট কম-এ যে কোন বইয়ের রিভিউ লিখতে পারেন। কিভাবে রিভিউ লিখবেন দেখে নিন এখানে।

বই পড়া
বই পড়া

মোটকথা পহেলা বৈশাখের এই বিশেষ দিনটি এবার ঘরে একটু অন্যভাবে উদযাপন করুন। এবং ভালো থাকুন। নববর্ষে আক্ষরিক অর্থেই প্রত্যাশা থাকলো –
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা
অগ্নিস্নানে সুচি হোক ধরা…

 

পছন্দের যেকোনো বই ঘরে বসে পেতে

 

rokomari

rokomari

Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money.

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading