লাইফ কোচিং কী? সবকিছুর আগে কেন লাইফ কোচিং জরুরি?

জীবন গঠনের গুরুত্বপূর্ণ টিপস
life coaching feature image

স্কুলে ভাল ফলাফল করার জন্য আমরা কোচিং করি, ভাল কলেজে ভর্তি হতে কোচিং করতে হয়। কলেজ শেষে পরবর্তী জীবনের জন্য ভাল কোথাও ভর্তি হতে অ্যাডমিশন কোচিং এর কথা তো বলাই বাহুল্য। এরপরে আসে কর্মক্ষেত্র। ফার্স্টক্লাস জব পেতে কতশত খরচা করে কোচিং করি। অর্থাৎ, প্রতিটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ মঞ্চের ধাপ পেরোতে আমরা কোচিং করি। কিন্তু একজন ব্যক্তির সবচেয়ে বড় যে ক্ষেত্র, তাতে টিকে থাকতে, তা সুন্দররূপে সাজিয়ে তুলতে আমরা খুব বেশি মনোযোগ দেই না। নিশ্চয় ভাবছেন, কোন সেই ক্ষেত্র? সেই ক্ষেত্রটি স্বয়ং আমাদের জীবন। হ্যাঁ; স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি এ সবকিছুর চেয়ে বড় হল মানবজীবন। তাই তো কবি বলেছেন-

মন রে কৃষি কাজ জান না।
এমন মানব-জমিন রইলো পতিত, আবাদ করলে ফলতো সোনা।

কাজেই বোঝা যাচ্ছে ভাল ফলাফল, বড় চাকরি এইসব অনুষঙ্গ মাত্র। আসল দামী জিনিস হল আমাদের জীবন। এত দামী যে জীবন, সে জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে, সাফল্যমন্ডিত করতে লেখক মুহসিন আল জাবির লিখেছেন ‘লাইফ কোচিং’। দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ আমাদের ছাত্রসমাজ তথা তরূণ প্রজন্ম। সেই তরুণ প্রজন্মের জন্য নিবেদন করেছেন তাঁর এ চমৎকার বইটি।

লাইফ কোচিং
BUY NOW

লাইফ কোচিং বইটি প্রকাশিত হয়েছে আল-হাদী প্রকাশন থেকে। বইতে ৩৪টি টপিকের ওপর ভিত্তি করে ছাত্র-ছাত্রীদের সুন্দর ও সাফল্যমন্ডিত জীবন গড়ার দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ নির্দেশনার মূল ভিত্তি হিসেবে লেখক পবিত্র আল-কুরআন, হাদীসের রেফারেন্সসহ বিভিন্ন বিদ্বান আলেম-ওলামা, ইসলামি সাহিত্যিক, স্কলার, বিখ্যাত বিজ্ঞানী, ব্যক্তিত্বদের উক্তি, মতামত যুক্ত করেছেন।

শুরু করেছেন জ্ঞানার্জনের প্রথম সোপান ‘পড়া’র প্রতি আহ্বান দিয়ে। পবিত্র আল-কুরআনের প্রথম নাযিলকৃত আয়াত ছিল ‘পড়’। জীবনে সফল হতে হলে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। লেখক মুহসিন আল জাবির তাঁর বইতে উদ্ধৃত করেছেন অধ্যাপক গালিব মুন্সির উক্তি-

“পড়ো। না পড়লে আত্মার মৃত্যু ঘটবে। যে পড়ে না, তার আত্মা মৃত। তুমি যখন পড়বে-আত্মার আবার জন্ম হবে।”

বই পড়ার গুরুত্ব নিয়ে লেখক সুন্দর আলোচনা করেছেন। ছাত্রসমাজ কীভাবে পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন তথা জীবন গড়ার প্রথম সোপানটি মজবুতভাবে তৈরি করতে পারবে তার বর্ণনা করেছেন। পড়াকে গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে শুধু জ্ঞানগর্ভ আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। যে ছাত্রটির পড়তে ভালো লাগে না, সে কীভাবে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবে, সেই উপায়ও বাৎলে দিয়েছেন। কীভাবে পড়লে পড়ার প্রতি ভালোলাগা তৈরি হবে, মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করে ভালো ফলাফল করা যাবে, সেই দিকগুলোও তুলে ধরেছেন।

একজন মুসলিম হিসেবে ছাত্রজীবন থেকেই ইলমে দ্বিন হৃদয়ে ধারণ করা কর্তব্য। ইলমে দ্বিন শিক্ষার গুরুত্ব, উপায়, প্রয়োজনীয়তা সবকিছু বর্ণিত হয়েছে ‘হৃদয়ে- ইলমে দ্বিনের আলো’ অধ্যায়ে। ইলমে দ্বিন শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করতে এ অধ্যায়ে লেখক পবিত্র আল কুরআনের বাণী, হাদিসের উক্তি, ইমাম বুখারি রহমতুল্লাহি আলাইহির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতির সমাবেশ ঘটিয়েছেন। সেই সাথে লেখক নিজের দিক-নির্দেশনামূলক আলোচনাও এনেছেন।

জীবন সুন্দর করে গঠনের জন্য মেনে চলতে হবে এমন সকল বিষয় নিয়ে লেখকের অনুপম দিক-নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারলে জীবনটাকে সুন্দর, সাফল্যমন্ডিত করে গড়ে তোলা যাবে। লেখক লাইফের কোচিং দিতে গিয়ে বলেছেন স্বপ্নের কথা। মানুষ তাঁর স্বপ্নের সমান বড়। যে যত বড় স্বপ্ন দেখবে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাবে, সে ততো বেশি সাফল্যের মুখ দেখবে। একজন সফল মানুষের অন্যতম গুণ ভালো শ্রোতা হওয়া। বেশি কথা বললে বেশি শেখা যায় না। শিখতে হলে শুনতে হয়। ছাত্রজীবনই শেখার উপযুক্ত সময়।

ছাত্রাবস্থাতেই জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক করতে হবে। এ বইটিতে লেখক একজন ছাত্রের জীবনের লক্ষ্য নির্বাচন করবে, কীভাবে তার জীবনের উদ্দেশ্য নিরুপণ করবে এবং সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করার জন্য কীভাবে কর্মপদ্ধতি নির্বাচন করবে সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। কীভাবে জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ভয় ও জড়তাকে কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস অর্জনের জন্য ছোট ছোট অনুপ্রেরণামূলক কথা প্রতিটি ছাত্রের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলবে। ছাত্র জীবনে কীভাবে সময়ের সঠিক ব্যবহার করবে তার উদাহরণ দিয়েছেন লেখক বইটিতে। ভুল ও ব্যর্থতা জীবনে আসবেই। সেই কঠিন সময়ের মোকাবেলা করে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যে ঘুরে দাঁড়ায় সেই সফল হয়। আর এজন্য প্রতিনিয়ত আমাদের আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে যেন আমরা ব্যর্থতার সময়ে হতাশ না হয়ে পড়ি। আর এ জন্য আমাদের মনোবল বৃদ্ধি করতে হবে। নতুন উদ্যমে সামনে কদম ফেলতে হবে। অলসতাকে কাটিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে হবে।

বর্তমান কালে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের মূল্যবান সময় ডিজিটাল ডিভাইস, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গ্যাজেটেই পার করে দিচ্ছে। এতে মূল্যবান সময় যেমন অপচয় হচ্ছে তেমনি প্রোডাক্টিভিটি কমে যাচ্ছে। অলসতা সাফল্য লাভের প্রধান অন্তরায়। ‘অলসতা-জীবনের অভিশাপ’ অধ্যায়ে লেখক বলেছেন-

“অলসতা হলো- সেই মৃত সাগর যে একজন মানুষের সকল গুণকে গিলে ফেলে। অলসতা মানুষকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। অলসতা দেখতে আকর্ষণীয় হলেও-সফলতা ও তৃপ্তি শুধু কাজের মাধ্যমেই মেলে।”

ছাত্রজীবন জীবন ও সংগ্রামের প্রস্তুতির সময়। যৌবনের সঠিক প্রস্তুতির ওপরই নির্ভর করে একজন ছাত্রের সাফল্য, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ছাত্রজীবন উদ্যমতায় পরিপূর্ণ। নিয়মিত জ্ঞানানুশীলনে ভবিষ্যত জীবন সুন্দর ও সুখময় গড়ে উঠবে। তবে শুধু পুঁথিগত বিদ্যাতে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না, ধর্মীয়, আত্মিক, বাস্তবমুখী শিক্ষা অর্জন করতে হবে। এ জীবনে ক্লান্তি, হতাশা আসবেই। জীবনের সব ক্লান্তি, হতাশা, অবিশ্বাস দূরে রেখে দৃঢ় প্রত্যয় ও সৎ সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। একজন ছাত্রের হাতেই দেশের, দশের, ধর্মের ও মানবতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে পারে। তাই ছাত্রজীবন থেকেই নিজেকে তৈরি করে নিতে হবে। ‘লাইফ কোচিং’ বইটি সেই পথই দেখাবে। এই বইয়ের প্রতিটি কথা একজন ছাত্রের জীবনকে অনুপ্রাণিত করবে। নতুন করে বাঁচতে শেখাবে।

আরও পড়ুন- করপোরেট কমিউনিকেশন কী? কেন শেখা প্রয়োজন?

মুহসিন আল জাবির এর বই সমূহ

জনপ্রিয় মোটিভেশনাল বইগুলো দেখুন 

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png
Join our mailing list and get the latest updates
Loading