ওয়ার্ক ওভারলোড কমানোর ৫টি কার্যকর পদ্ধতি

ওয়ার্ক লোড

আর কত কাজ করবেন? এত কাজের চাপ কেন নিচ্ছেন?  আপনার একটু বিশ্রাম নেয়া উচিত। আপনার পরিবারের সাথে আরও বেশি সময় কাটানো উচিত।

উপরের কথাগুলো যখন কেউ আপনাকে বলে তখন আপনি হয়ত একটু ইতস্তত বোধ করেন এবং ভাবেন দিনশেষে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, এটা শুধুমাত্র ব্যস্ত একটা দিন। আপনি হয়ত ভাবেন যে আপনি সব সামলে নিবেন এবং সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু, দিনশেষে আপনি দেখতে পান যে কিছুই ঠিক হয় বরং আপনি নিজেকে দিনের পর দিন অত্যধিক কাজের চাপের মাঝে আবিষ্কার করেন এবং আপনার সাথে আপনার পরিবারের দূরত্ব বেড়ে চলছে।  একটার  পর একটা কাজের ডেডলাইন আপনার জীবনের সকল শান্তি কেড়ে নিচ্ছে এর ফলে আপনি আপনার কাজ কিংবা পরিবার কোনোটা ই সঠিকভাবে সামলাতে পারছেন না।

তাহলে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন আজকে আমাদের আয়োজন কি নিয়ে! আমাদের আজকের বিষয় হল ওয়ার্ক ওভারলোড এবং এটা কমানোর কিছু উপায় নিয়ে। চলুন দেখে নেয়া যাক ওয়ার্ক ওভারলোড বা অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোর ৫টি ধাপ:

 

৫. একটি টাইম বাজেট তৈরী করুন:

 

সচেতন মানুষেরা নিজেদের অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রে খুবই চৌকসতার পরিচয় দিয়ে থাকেন। তারা ঐ পরিমাণ অর্থ খরচ করার জন্য তৈরী থাকেন যে পরিমাণ অর্থ তাদের কাছে রয়েছে অর্থাৎ সামর্থ্যের মধ্যে।  প্রথমত, তারা একটি আর্থিক বাজেট তৈরী করেন অর্থাৎ কোনো খাতে কতটুকু অর্থ ব্যয় করা হবে। দ্বিতয়ত, যে খাত খরচ কমানো সম্ভব সেখানে তারা ব্যয় কম করেন। এতে করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের সর্বোচ্চ উপযোগ ভোগ করতে তারা সফল হন ও অযথা খরচ এবং সংশ্লিষ্ট দুশ্চিন্তা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে সক্ষম হন।

Time Budget

টাইম বাজেট করার ক্ষেত্রেও আপনার এই মডেলটি মাথায় রাখা উচিত। একটা দিনের মধ্যে আপনি ২৪ ঘন্টা সময় পাবেন, এই ২৪ ঘন্টাকে ২৫ ঘন্টা কিংবা ৩০ ঘন্টা বানানোর ক্ষমতা আপনার হাতে নেই কিন্তু আপনি কোন খাতে কতটুকু সময় দিবেন তা কিন্তু অধিকাংশক্ষেত্রে আপনার উপর নির্ভর করে,  উদাহরণস্বরূপ:- ঘুমের সময়, কাজ করার সময়, ব্যক্তিগত আলাপচারিতার/ আড্ডার  সময়, শরীরচর্চার সময় ইত্যাদি। এখন কোনো খাতে আপনি কতটুকু সময় ব্যয় করবেন তা আগে থেকে ঠিক করে নিন এবং এতে করে কিছুটা হলেও আপনার জীবনে ভারসাম্য ফিরে আসবে। মনে রাখবেন, প্রতিটা খাতের সময় বরাদ্দের পরিমাণ ব্যক্তি, স্থান, কাল ভেদে আলাদা আলাদা হয়ে থাকে।

টাইম ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত বই পড়তে 

 

৪. যেখানে সম্ভব কম সময় বরাদ্দ করুন:

 

আপনার টাইম বাজেট তৈরী হওয়ার পর ২য় যে ধাপটি অনুসরণ করতে হবে তা হল সময়ের যথাপোযুক্ত ব্যবহার বা সময় বাচানো। আপনার টাইম বাজেটটি তৈরী হওয়ার পর হয়ত আপনি দেখতে পারেন আপনি যে পরিমাণ প্রতাশ্যা করেছিলেন নিজের উপর সে পরিমাণে আপনি সব জায়গায় সময় দিতে পারবেন না। এইক্ষেত্রে আপানাকে কৌশলী হতে হবে, ধরুন আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার জন্য প্রতি সপ্তাহে ৩ ঘন্টা সময় বরাদ্দ রাখলেন কিন্তু আপনি দেখলেন এই খাতের সময় আপনার জন্য আলাদা কোনো সুফল বয়ে আনে না। আপনি যদি এই ৩ ঘন্টা সময় থেকে কিছুটা সময় বাঁচিয়ে অন্য কোনো প্রোডাক্টিভ খাতে বরাদ্দ করেন তাহলে আপনার লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তাই প্রথমে এইরকম খাতগুলো খুঁজে বের করুন এবং যতটা সম্ভব সময় বাঁচানোর চেষ্টা করুন এই খাতগুলো থেকে আপনার যে সময়গুলো বাঁচবে তা ঐ খাতসমূহকে বরাদ্দ করুন যেখান থেকে আপনি অধিক পরিমাণে লাভবান হতে পারেন।

 

৩. প্রত্যাশা এবং বাস্তবতার মাঝে পার্থক্য অনুধাবন করুন:

 

উপরের ২টি ধাপ অনুসরণ করার পর আপনি এখন বাস্তবতার সম্মুখীন হবেন। আপনি দেখতে পাবেন আপনি যে খাতে যতটুকু সময় বরাদ্দ রেখেছিলেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেই কাজ সম্পন্ন করতে আপনার আরও অধিক পরিমাণ সময় ব্যয় হচ্ছে, উদাহরুস্বরূপ: আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রের ই-মেইল চেক করা অথবা প্রয়োজনীয় ফাইল পাঠানোর জন্য প্রতিদিন  ১ ঘন্টা সময় বরাদ্দ রেখেছিলেন কিন্তু তা সম্পন্ন করতে আপনার ১.৩০ থেকে ২ ঘন্টা সময় লেগে যাচ্ছে।

reality and expectation

এইক্ষেত্রে আপনি ২টা কাজ করতে পারেন। প্রথমত,  অপ্রয়োজনীয় ই-মেইল পপ আপ করা বন্ধ করে দিতে পারেন। দ্বিতীয়ত, যদি সত্যিই অধিক পরিমাণে সময় প্রয়োজন হয় তাহলে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এই খাতে আপনি অধিক পরিমাণে সময় বরাদ্দ করতে পারেন। এইভাবে প্রতিটা খাত বাস্তবতার নিরিখে পর্যালোচনা করে আপনি অধিক পরিমাণে সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন যা আপনার কাজের অত্যধিক চাপ হ্রাস করবে।

 

২. সাহায্য নিতে পিছপা হবেন না:

 

উপরের ৩টি ধাপ অনুসরণ করার পরও যদি দেখতে পান যে আপনি সঠিকভাবে টাইম বাজেট অনুসরণ করতে পারছেন না বা সুফল পাচ্ছেন না তাহলে সাহায্য চান। মনে রাখবেন, সাহায্য নেয়া মানে যে আপনি ব্যর্থ ব্যাপারটা কিন্তু তা না। এইক্ষেত্রে আপনি সিস্টেমিক কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। প্রথমত, আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি: কাজের বিবরণ, কাজের ধরণ, সময়ের পরিমাণ ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করুন। দ্বিতীয়ত, একটা ভিজুয়াল তৈরী করুন। তৃতীয়ত, আপনার তথ্যগুলো আপনার সংস্থা বা যারা আপনার উপর আরও কাজ দিতে চাপাতে চায় তাদের সামনে উপস্থাপন করুন এতে করে আপনার অবস্থান সম্পর্কে সবার ধারণা সুস্পষ্ট হবে। আপনার সংস্থা বা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ আপনার উপর কাজের চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দিবে।

help

 

১. সময়ের সাথে টাইম বাজেট পরিবর্তন করুন:

 

আপনি যে টাইম বাজেটটি গত সপ্তাহে অনুসরণ করে সুফল পেয়েছিলেন, এই সপ্তাহে ঐ একই টাইম বাজেট অনুসরণ করে আপনি যে সুফল পাবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ, সময়ের সাথে সাথে আপনার কাজের ধরণ এবং মাত্রা বা বিভিন্নখাতে আপনার সময়ের চাহিদা পরিবর্তনশীল। তাই এই ব্যাপারটি মাথায় রেখে সময় পরিবর্তনের সাথে টাইম বাজেট পরিবর্তনের ভারসাম্য বজায় রাখা অতীব জরুরী।

plan improvisation

 

পরিশেষে, একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন ১০০ ঘন্টার কাজ কেউ ৪০ ঘন্টা কিংবা ৫০ ঘন্টায় আপনি করতে পারবেন না, প্রকৃতপক্ষে কেউ-ই  পারবে না। কিন্তু, আপনি যা করতে পারেন তা হল উপরের ৫ টি ধাপের অনুসরণ এবং ওয়ার্ক ওভারলোডের  হ্রাস সাধন।

 

পছন্দের বইগুলো ঘরে বসে পেতে 

 

Rokomari Editor

Rokomari Editor

Published 05 Dec 2018
Rokomari is one of the leading E-commerce book sites in bangladesh
  0      0
 

comments (0)

Leave a Comment

You May Also Like This Article

Rokomari-blog-Logo.png