নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে লিখতে চাই, যাতে কেউ বলে ওয়াও! অসাধারণ লিখেছে ! উড়ন্ত ডায়নোসর অথবা ডানাযুক্ত নৌকার মতো ! কাজুও ইশিগুরো

নোবেল বিজয়ী কাজো ইশিগুরো

বিখ্যাত সাহিত্যিক। ঔপন্যাসিক হিসেবে বিশ্বজুড়ে তার খ্যাতি রয়েছে। সমসাময়িক ইংরেজি সাহিত্যে তিনি খুবই প্রভাবশালী জায়গা করে নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। তার দুটি বই নিয়ে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। একজন গীতিকার হিসেবেও তিনি বেশ সমাদৃত।

২০১৭ সালে কাজুও ইশিগুরো সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও উইনিফ্রেড হোল্টবি মেমোরিয়াল প্রাইজ (১৯৮২), হুয়াইটব্রেড প্রাইজ (১৯৮৫), বোকার প্রাইজ (১৯৮৯), অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (১৯৯৫), শেভেলিয়ার ডে (অর্ডার ডেস আর্টস এট ডেজ লেটারস (১৯৯৮), অর্ডার অব দ্য রাইসিং সান (২০১৮), নাইট ব্যাচেলর (২০১৮) লাভ করেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে এ পেল ভিউ অব হিলস (১৯৮২), এন আর্টিস্ট অব দ্য ফ্লোটিং ওয়ার্ল্ড (১৯৮৬), দ্য রিমেইন্স অব দ্য ডে (১৯৮৯), দ্য আনকনসোল্ড (১৯৯৫), হুয়েন উই ওয়ার অরফান (২০০০), নেভার নেট গু (২০০৫)দ্য বারিড জায়ান্ট (২০১৫)

আমি নিজেকে একজন উদ্ভাবক মনে করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। উড়োজাহাজ নির্মাণের আগে উড়ার যন্ত্র আবিষ্কারের চেষ্টা করছি, যার সঙ্গে লেখার তুলনা করা যায়। সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে আমি লিখি। লেখার ক্ষেত্রে আমার কোনো প্রোটোটাইপ থাকে না। সুতরাং আমি নিজের সর্বশ্রেষ্ট শক্তি দিয়ে লিখতে চাই যাতে কেউ পড়ে বলে যে, ওয়াও, অসাধারণ লিখেছে ! উড়ন্ত ডায়নোসরের মতো ! অথবা ডানাযুক্ত নৌকার মতো ! লেখার ক্ষেত্রে আমি খুব বেশি বেপরোয়া।

কাজুও ইশিগুরো ১৯৫৪ সালের ৮ নভেম্বর জাপানের নাগাসাকিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে পরিবারের সঙ্গে তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান। এসময় তার বয়স ছিলো মাত্র পাঁচ বছর। তার পিতা শিজো ইশোগুরো ছিলেন ভূসমুদ্রবিদ। ইশিগুরো ১৯৭৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব কেন্ট এট ক্যান্টাবারির ইংরেজি ও দর্শন থেকে স্নাতক পাশ করেন। ১৯৮০ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট এঙ্গিলা থেকে ক্রিয়েটিভ আর্টস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস এ পেল ভিউ অব হিলস (১৯৮২) ছিলো তার প্রথম উপন্যাস। ১৯৮৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমান প্রবন্ধে লেখা বিষয়ে এই বিখ্যাত সাহিত্যিকের মতামতের সঙ্গে আমরা পরিচিত হবো।

প্রশ্ন : ইতিহাসের বিশেষ কোনো আবেগপূর্ণ ঘটনা আপনি নিজের বক্তব্যে কীভাবে তুলে ধরেন ?

উত্তর: এই প্রক্রিয়াটি খুবই কঠিন বলে আমার মনে হয়েছে। একটি বই লিখতে আমার সুদীর্ঘ সময় লেগে যায়। কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় ধরে আমি লিখতে বসি না। যেমন অনেক লেখক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা ভিয়েতনামের যুদ্ধ নিয়ে লিখতে পারেন। কিন্তু আমি এধরণের কোনো পদ্ধতির আশ্রয় নিই না। বরং আমি কতিপয় প্রশ্ন সাজাই এবং প্রশ্নগুলোর উপর ভিত্তি করে লিখতে থাকি। গল্পের বিভিন্ন সম্পর্ক ও আবেগগুলো বিবেচনায় নিই। এগুলোকে বিচিত্র জায়গায় স্থাপন করি।

 

নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক কাজো ইশিগুরো
নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক কাজুও ইশিগুরো

প্রশ্ন : আপনি কী ভেবে লেখা শুরু করেন ?

আমি নিজেকে একজন উদ্ভাবক মনে করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। উড়োজাহাজ নির্মাণের আগে উড়ার যন্ত্র আবিষ্কারের চেষ্টা করছি, যার সঙ্গে লেখার তুলনা করা যায়। সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে আমি লিখি। লেখার ক্ষেত্রে আমার কোনো প্রোটোটাইপ থাকে না। সুতরাং আমি নিজের সর্বশ্রেষ্ট শক্তি দিয়ে লিখতে চাই যাতে কেউ পড়ে বলে যে, ওয়াও, অসাধারণ লিখেছে ! উড়ন্ত ডায়নোসরের মতো ! অথবা ডানাযুক্ত নৌকার মতো ! লেখার ক্ষেত্রে আমি খুব বেশি বেপরোয়া।

আমি মূলত কোনো স্ক্রিনপ্লেয়ার নয়। লোকজন আমাকে মূলত ঔপন্যাসিক হিসেবে জানেন।  টেলিভিশনের মাধ্যমে গল্পগুলো তুলে ধরা যায়। এতে অনেক দর্শক ধরাও সম্ভব। তবে, এর অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কেবল বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে চলবে না। সাহিত্যকে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। কেবল উপভোগের স্বার্থে জনসাধারণদের পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নিলে সাহিত্যের মূল প্রভাব বিঘ্নিত হয়। তাই সাহিত্যকে জীবনের জন্যই লিখতে হবে। জীবনকে সমৃদ্ধ করতেই সাহিত্যের সৃষ্টি।

প্রশ্ন : স্ক্রিনপ্লে লিখার ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ?

আমি মূলত কোনো স্ক্রিনপ্লেয়ার নই। লোকজন আমাকে মূলত ঔপন্যাসিক হিসেবে জানেন। টেলিভিশনের মাধ্যমে গল্পগুলো তুলে ধরা যায়। এতে অনেক দর্শক ধরাও সম্ভব। তবে, এর অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কেবল বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে চলবে না। সাহিত্যকে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। কেবল উপভোগের স্বার্থে জনসাধারণদের পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নিলে সাহিত্যের মূল প্রভাব বিঘ্নিত হয়। তাই সাহিত্যকে জীবনের জন্যই লিখতে হবে। জীবনকে সমৃদ্ধ করতেই সাহিত্যের সৃষ্টি।

নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক কাজুও ইশিগুরো এর বই সমূহ !

প্রশ্ন : গল্প ফাঁদার ক্ষেত্রে বয়সের ভূমিকা কী ?

লেখার ক্ষেত্রে বয়স বিভিন্নভাবে ভূমিকা রাখে। বয়সের মধ্যদিয়ে আপনি বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেন। সুখ, দুঃখ, স্মৃতিবেদনা আমাদের সমৃদ্ধ করে। এগুলো গল্পকে পরিপক্ব করতে সহায়ক। আপনার সমাজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতির মধ্যে জীবনযাপন করছেন। এগুলোর সঙ্গে বুঝাপড়ার জন্য বয়সের ভূমিকা রয়েছে। এসব বিষয় নিয়েই মূলত লেখক তার গল্প লিখেন। আশা-আকাঙ্ক্ষা, ব্যাথা-বেদনা, হতাশা জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো নিয়েই গল্প তৈরি হয়। তাই বয়স লেখকের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


সূত্র : https://www.youtube.com/watch?v=DoGtQPks3qs&feature=youtu.be অবলম্বনে লিখিত।

আরও পড়ুনঃ

অ্যালিস মুনরো : ২০১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী

যুগান্তকারী ১০ জন নোবেল বিজয়ীর গল্পকথা

অর্থনীতিতে আদৌ নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় কিনা ?

rokomari

rokomari

Published 29 Jan 2018
Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money.
  0      0
 

comments (0)

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png