“চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা” – সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক।

লেখক সৈয়দ শামসুল হক

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক হতে পারতেন শুধুই একজন গীতিকবি। সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার অমর কিছু গান রচিত হয়েছে তার কলম থেকে। হাজারো প্রেমিকের অন্তরের গহীন কথা লিখেছিলেন তিনি –

“চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা”

গোধূলির ম্লান আলোয় এলোমেলো বাতাসে প্রেমিকার উড়তে থাকা চুল সরিয়ে দিয়ে মুগ্ধ প্রেমিকের মনে কত কোটি বার এই লাইনটা দোলা দিয়ে গেছে তার ইয়ত্তা নেই। জীবনের গভীর দার্শনিকতা ফুটিয়ে তুলেছিলেন বিদগ্ধ লিরিকে “হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলেই ঠুস/ তবুও তো ভাই কারোরই নাই একটু খানি হুঁশ”। শুধুমাত্র এই লাইনগুলো লেখার কারণেই তিনি চির স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারতেন। কিন্তু তিনি স্রেফ একজন গীতিকবি ছিলেন না।

শুধুমাত্র একজন গল্পকার হিসেবেও লেখক সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। র মধ্যবিত্ত মানসের মানসিক দ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে পেশাদার খুনীর মনোজগৎ, সার্কাস দলের প্রেম এবং প্যাশন, প্রান্তিক মানুষের সংগ্রাম থেকে শুরু করে জাদুবাস্তব প্রভাবিত বৈকল্যে আক্রান্ত সমাজ, কী নেই তার ছোটগল্পে! তবে তিনি শুধু একজন গল্পকার হিসেবেই তার মেধাকে সীমাবদ্ধ রাখেন নি।

তার রচিত মঞ্চ নাটক  ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ এবং ‘নূরুলদীনের সারাজীবন’ কয়েক দশক ধরে কাঁপিয়ে দিচ্ছে নাটক পাড়া।

কবিতায় ধরেছেন আমাদের গভীর অনুভূতি।

“আমি কার কাছে গিয়া জিগামু

সে দু;খ দেয় কেন ?

কেন এতো তপ্ত কথা কয় ;

কেন পাশ ফিরা শয় ।

ঘরের বিসন নিয়া কেন অন্য ধান ক্ষেতে রয়”

লেখক সৈয়দ শামসুল হক ঘুরেছেন শহরের পর শহর, দেশের পর দেশ। চিনেছেন মানুষ, আত্মস্থ করেছেন যা কিছু মানবিক, প্রেমময়। তিনি সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক, যাকে বলা হয় লেখকদের লেখক। গত কাল বিকেলের ম্লান আলোয় তিনি চলে গেছেন অন্য এক মায়ার জগতে। সেখানেও তিনি তার প্রজ্ঞার রোশনাই ছড়াবেন নিশ্চয়ই।

ভালো থাকুন লেখক, ভালো থাকুন বিজয়ী।

সৈয়স শামসুল হকের লেখা সকল বই পেতে কিংবা কিছু অংশ পড়ে দেখতে,  এখানে 

 

আরও পড়ুনঃ

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের বৈচিত্রময় জীবন

বইয়ের সঙ্গে পাঠকের যত রসায়ন !

কথাগুলো সৈয়দ মুজতবা আলীর জীবনী থেকে নেয়া !

comments (0)

Leave a Comment

Rokomari-blog-Logo.png